সচিব হওয়া সহজ নয়|315428|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
সচিব হওয়া সহজ নয়
আশরাফুল হক

সচিব হওয়া সহজ নয়

প্রশাসন ক্যাডারের দশম ব্যাচের কর্মকর্তারা এখন সচিব হচ্ছেন। ব্যাচটির ২১ কর্মকর্তা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টিং অফিসার বা সচিব। আগামী ২৩ অক্টোবরের পর একাদশ ব্যাচের কর্মকর্তাদের সচিব করা হবে। কারণ ওইদিন এই ব্যাচের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সচিব পদে কাজের দুই বছর পূর্ণ হবে যা সচিব হওয়ার অন্যতম যোগ্যতা।

এ যোগ্যতা অর্জন করতে গিয়ে একাদশ ব্যাচের অনেক কর্র্মকর্তা সচিব হওয়ার যোগ্যতা হারাচ্ছেন। সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড (এসএসবি) অতিরিক্ত সচিব থেকে সচিব করার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার চাকরি আরও দুই বছর আছে কি না তা বিবেচনা করে। অর্থাৎ একজন কর্মকর্তা কমপক্ষে দুই বছর সচিব পদে চাকরি করতে পারবেন এমন কর্মকর্তাদেরই সচিব পদে পদোন্নতির সুপারিশ করে।

একাদশ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তারই অতিরিক্ত সচিব পদে দুই বছর চাকরি করার পর সচিব পদের জন্য আর দুই বছর বাকি থাকে না। এ সমস্যা সৃষ্টির কারণ হচ্ছে একাদশ ব্যাচের কর্মকর্তারা অতীতে যেসব পদোন্নতি পেয়েছেন তা তারা নির্দিষ্ট সময়ে পাননি। চাকরি পাওয়ার পর তাদের যোগদান করতেও দেরি হয়েছে। এ কারণে সচিব হওয়ার সব যোগ্যতা থাকার পরও তারা সচিব হওয়ার দৌড় থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন। এসব কর্মকর্তার সচিব হওয়ার জন্য দরকারি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সবই রয়েছে। সচিব করার সময় যে রাজনৈতিক বিষয়গুলো আমলে নেওয়া হয় অনেক কর্মকর্তা সেসবও পূরণ করেছেন।

শুধু দুই বছর নয়, একাদশ ব্যাচের যেসব কর্মকর্তার আড়াই বছর সময় আছে তারাও চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। কারণ সচিব একদিনে করা হয় না। যখন সচিবের পদ শূন্য হয় তখন সচিব করা হয়। কাজেই সচিবের পদ শূন্য হতে হতে অনেক কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ আর দুই বছর অবশিষ্ট থাকবে না।

একাদশ ব্যাচের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৯৯১ সালে। ২২২ জনের এ ব্যাচের কর্মকর্তারা যোগ দিয়েছিলেন ১৯৯৩ সালের ১ এপ্রিল। ১০ বছর পর ২০০৩ সালে উপসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার কথা থাকলেও পদোন্নতি পেয়েছেন ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর। ১৭ বছর পর অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের সাত বছর পর তারা উপসচিব হয়েছেন। তিন বছর পর যুগ্ম সচিব হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছেন ছয় বছর পর ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর। অতিরিক্ত সচিবও হয়েছেন নির্ধারিত সময়ের পর ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর।

এই ব্যাচের কর্মকর্তারা সচিব হওয়ার জন্য সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে যোগাযোগ শুরু করেছেন। সরকারের বর্তমান ও সাবেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে বিলম্বে পদোন্নতির জন্য তারা সচিব হওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন। একাদশ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের আরও দুই বছর চাকরি আছে শুধু তারাই সচিব হওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। এ হিসাবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর যারা অবসরে যাবেন শুধু তারাই সচিব হওয়ার বিবেচনায় থাকবেন।

একাদশ ব্যাচের যারা ঝুঁকিতে : জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌসী আখতার ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কারণে সচিব পদের জন্য বিবেচিত হবেন না। কারণ তার চাকরি থেকে অবসরের সময় দুই বছরের কম। এটুআই প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল মান্নান অবসরে যাবেন ২০২২ সালের ২২ জুন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ করিম অবসরে যাবেন ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট। মাটির টেকসই রাস্তা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক দীপক রঞ্জন অধিকারী অবসরে যাবেন ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর। নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারির মহাপরিচালক সিদ্দিকা আখতার অবসরে যাবেন ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব তাহমিদুল ইসলাম অবসরে যাবেন ২০২২ সালের ১৫ অক্টোবর। সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম অবসরে যাবেন ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর। ব্যানবেইসের ডিজি হাবিবুর রহমান অবসরে যাবেন ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফজলুর রহমান এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএফএম হায়াতুল্লাহ অবসরে যাবেন ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফারুকুজ্জামান অবসরে যাবেন ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি। একই দিনে অবসরে যাবেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ শামীম আল রাজি, মাদ্রাসা শিক্ষার ডিজি কেএম রুহুল আমীন, এফপিএমইউর ডিজি শহীদুজ্জামান ফারুকী, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মো. আমিনুর রহমান। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মেসবাহ উদ্দীন ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি অবসরে যাবেন। ওই মাসেই অবসরে যাবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অতিরিক্ত সচিব সাব্বির হোসাইন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের পরিচালক (স্থানীয় সরকার)  আবদুল আলীম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্য।

এসব কর্মকর্তার মধ্যে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান শেরেবাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জের ডিসি ছিলেন। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বাসা) বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মেজবাহ উদ্দীনও শেরেবাংলা কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের (কৃষি কলেজ) ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১২ ক্যাডারের সমন্বয়ে গঠিত একাদশ ব্যাচের কর্মকর্তাদের ফোরামের সভাপতি মেজবাহ উদ্দীন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএফএম হায়াতুল্লাহ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। দলীয় রাজনীতিতে কোনো পদে না থাকলেও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কাজে জড়িত ছিলেন। নজরুল গবেষক এ অতিরিক্ত সচিব সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পিএস ছিলেন। নজরুল সম্পর্কে তার একাধিক প্রকাশনা রয়েছে।

দুই বছর চাকরি না থাকলে সচিব হওয়া যাবে না এমন বিধান কোথাও নেই। তারপরও একাদশ ব্যাচের কর্মকর্তারা এত উদ্বিগ্ন কেন জানতে চাইলে পদোন্নতিপ্রত্যাশী একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘এটা নেই। কিন্তু গত ব্যাচের কর্মকর্তাদের সচিব করার সময় এটা অনুসরণ করা হয়েছে। আর লিখিত নেই কারণ হচ্ছে লিখিত থাকলে এটা চ্যালেঞ্জ হবে। কোর্টে গেলে সবার পদোন্নতি আটকে যেতে পারে। এ কারণে এটা লিখিত রাখা হয়নি। এটা বিধিমালার পরিপন্থী।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাদশ ব্যাচের অন্য একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, দুই বছর সময় থাকলে সচিব করা হয় এটা কোনো লিখিত বিধান না। তবে বর্তমান এসএসবি এটা অনুসরণ করে। তাদের যুক্তি হচ্ছে, দুই বছরের কম সময় সচিব থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারবেন না। তিনি মন্ত্রণালয়ের জন্য কোনো নতুনত্ব আনতে পারবেন না। কিন্তু তার মতে নতুনত্ব এক সপ্তাহেও আনা যায়। একজন এক দিনেও নতুন কোনো বিষয় নিয়ে আসতে পারেন। তিনি অবসরে চলে গেলে তার উত্তরসূরি অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করবেন বলে মনে করেন একাদশ ব্যাচের এ কর্মকর্তা।

২০০২ সালের সচিব পদে পদোন্নতির বিধিমালায় বলা হয়েছে অতিরিক্ত সচিব পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এক বছরের অভিজ্ঞ হওয়ার পর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তার অবসরের বয়স হয়ে গেলে ওপরের শর্ত শিথিল করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সচিবালয়ে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। মূল্যায়নের ৮৫ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে।

যাদের জন্য এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে : এসব কঠিন শর্ত থাকার পরও এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে একাধিক কর্মকর্তার ক্ষেত্রে। অবসরে যাওয়ার আগের দিন পদোন্নতি পেয়ে সচিব হয়েছিলেন ১৯৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা আনোয়ার ফারুক। তিনি  ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরদিন অর্থাৎ ১ মার্চ তার পিআরএল শুরু হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে প্রথমে ওএসডি করে পরে আলাদা আদেশে পদায়ন করা হয়। কিন্তু আনোয়ার ফারুক ১ মার্চ অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন বলে তাকে আর পদায়ন করা হয়নি। তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইংয়ে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালে এক দিনের জন্য সচিব করা হয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিলরুবাকে। ২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এএসএম মাহবুবুল আলমকে এক সপ্তাহের জন্য সচিব করা হয়। ১৯৮৪ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ২০১৮ সালেন ৭ জুন সচিব হন। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার এম বজলুল করীম চৌধুরী ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল সচিব পদে পদোন্নতি পান। তার পরদিন তিনি অবসরে যান।

বর্তমানে ১০ ব্যাচের কর্মকর্তারা সচিব পদে কাজ করছেন। সাধারণত যে ব্যাচ ছেড়ে আসা হয় সেই ব্যাচ থেকে সচিব করা হয় না। এ হিসাবে দশম ব্যাচের কর্মকর্তাদের সচিব হওয়ার সুযোগ থাকলেও নবম ব্যাচের কর্মকর্তাদের নেই। নবম ব্যাচের কর্মকর্তা রোকন উদ দৌলা সচিব হতে পারেননি। তিনি বর্তমানে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। নবম মাত্র ৫৪ জনের ব্যাচ। অথচ এই ব্যাচের মেধা তালিকায় রোকন উদ দৌলার নাম প্রথম দিকেই।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে বিসিএসে আগ্রহ এখন তুঙ্গে। বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে, মেডিকেল কলেজগুলো থেকে এমবিবিএস পাস করে ডাক্তার হয়ে বিসিএস দিচ্ছেন। বর্তমানে দুই হাজার পদের জন্য প্রায় চার লাখ প্রার্থী প্রিলিমিনারিতে বসেন। যারা তীব্র প্রতিযোগিতার পর চাকরিতে প্রবেশ করছেন তাদের চোখে এক নম্বর পদে অর্থাৎ সচিব হওয়ার স্বপ্ন থাকে। কিন্তু প্রথম পদোন্নতিতে গিয়েই তাদের স্বপ্ন ধাক্কা খায়। দলীয় রাজনীতি না করলে উপসচিব পদে পদোন্নতি মেলা কঠিন। উপসচিব হতে পারলেও ডিসি ফিট লিস্ট করার সময় রাজনৈতিক আনুগত্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। উপসচিব পদোন্নতি পেলেও যুগ্ম সচিব পদোন্নতি পাওয়া আরও কঠিন। নানা প্রতিকূলতা মাড়িয়ে অতিরিক্ত সচিব হতে পারলেও এবার নিজেকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই উপস্থাপন করতে হয়। আর দলীয়ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেও একাদশ ব্যাচের মতো সময় না থাকার ফাঁদে পড়তে হয়। সবকিছু মিলিয়ে সচিব বা সিনিয়র সচিব হওয়া খুব কঠিন কাজ এমনটাই মত বিভিন্ন ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিশেষ করে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের।

সচিব হওয়ার পথে অন্যতম বাধা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। চুক্তিতে সচিব নিয়োগ করা হলে ধাপে ধাপে সব পদের পদোন্নতিতে তার প্রভাব পড়ে। সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সিএসপি কর্মকর্তা আবুল মাল আবদুল মুহিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিরোধিতা করেন। সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর মতে, সরকারি কর্মচারীদের চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার বয়স বাড়ানো হয়েছে। এ কারণে তাদের চুক্তিভিত্তিক চাকরি পরিহার করতে হবে। আগে তারা ৫৭ বছরেই চাকরি থেকে অবসরে যেতেন। ২০১১ সালে সেটা বাড়িয়ে ৫৯ করা হয়েছে। তারপরও কেন তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ চাই? সরকারকে তারপরও কিছু ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে হয়। এ কারণেই সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছিলেন এ বিষয়ে একটি সমীক্ষা করার। কী ধরনের জনবল ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে অবসরে যাবে; কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরকারের দরকার; যে পদে বা ক্যাডারের কোন কর্মকর্তাকে অবসরের পরও সরকার ব্যবহার করতে চায় তাদের ক্যাডারবহির্ভূত বিশেষ পদে নিয়োগ করার পরামর্শ দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী। বিশেষ পদ বলতে তিনি তাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বা উপদেষ্টা পরিষদে নিযুক্তিকে বুঝিয়েছেন। এছাড়া আরও একটি সিদ্ধান্ত তিনি নেওয়ার জন্য বলেছিলেন কোনো ব্যক্তিকে সরকারি চাকরিতে কত বছর পর্যন্ত সুযোগ দেওয়া হবে, তাও চিহ্নিত করা দরকার। কিন্তু সাবেক অর্থমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব ফাইলবন্দি করে রেখেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সার্ভিসের বাইরে থেকেও সরকার প্রয়োজন মনে করলে সচিব পদে নিয়োগ দিতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন অসামান্য পারদর্শিতা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শামসুল আলম ৩৫ বছরের অধ্যাপনা শেষে ২০০৯ সালের ১ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ এক যুগ চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করেছেন। সিনিয়র সচিব পদে গত ৩০ জুন তার সবশেষ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এবার দায়িত্ব পেলেন আরও বড় পরিসরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর।

অতিরিক্ত সচিব থেকে সচিব হওয়ার পথে বাধা ছিল ভারপ্রাপ্ত সচিব। ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে আস্থা অর্জন করতে পারলেই সচিব হওয়া যেত। অনেক কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত সচিব হয়েও সচিব হতে পারেননি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জাহিদ হোসেন সেতু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আর ভারমুক্ত হতে পারেননি। তাকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবেই অবসরে যেতে হয়েছে।

দেশ রূপান্তরের এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকার প্রশাসনের পিরামিড আকৃতি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে। প্রত্যেকটা পদে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এজন্য সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি কমিয়ে আনা হয়েছে। যাদের নাম ফিট লিস্টে রয়েছে তারা পদোন্নতি না পেলেও কারণ জানতে পারছেন।’