দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে মোল্লা বারাদারের মৃত্যুর গুঞ্জন অস্বীকার তালেবানের|315516|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:৫৮
দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে মোল্লা বারাদারের মৃত্যুর গুঞ্জন অস্বীকার তালেবানের
অনলাইন ডেস্ক

দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে মোল্লা বারাদারের মৃত্যুর গুঞ্জন অস্বীকার তালেবানের

বেশ কিছুদিন ধরেই তালেবানের উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গানি বারাদারকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না। গত ১২ সেপ্টেম্বর, রবিবার কাবুলে কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তালেবানের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও ছিলেন না তিনি। এর মধ্যেই খবর ছড়িয়েছে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে তালেবানের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন তালেবানের অন্যতম এ শীর্ষ নেতা। কিন্তু সেই খবরকে পুরোপুরি গুজব বলে দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। খবর: এনডি টিভি ও রয়টার্স।

তালেবান মুখপাত্র সোহেল শাহীন এক টুইটে জানিয়েছেন, কাতারের দোহায় তাদের রাজনৈতিক দপ্তরের সাবেক প্রধান মোল্লা বারাদারের মৃত্যুর খবর পুরোপুরি ভুয়া ও ভিত্তিহীন। এক অডিওবার্তায় বারাদার নিজেও দলীয় সংঘর্ষ বা হতাহতের খবর অস্বীকার করেছেন।

বারাদের বেঁচে থাকার প্রমাণ হিসেবে তালেবান এখন পর্যন্ত একটি হাতে লেখা নোট ও একটি অডিও রেকর্ডিং প্রকাশ করেছে, যা জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তালেবান মুখপাত্র মোহাম্মদ নাঈম সোমবার অডিও রেকর্ডিংটি প্রকাশ করেন এতে নিজেকে বারাদার দাবি করে এক ব্যক্তি 'মিডিয়া প্রোপাগান্ডিস্টদের' বিরুদ্ধে তার মৃত্যুর সংবাদ নিয়ে মিথ্যা গুজব ছড়ানোর অভিযোগ তুলে বলেন, 'আমি-সহ আমার সব সহকর্মী ঠিক আছি।'

অডিও ক্লিপটিতে বারাদার বলেন, 'আমার মৃত্যুর খবর মিডিয়ায় এসেছে। গত কয়েক রাত ধরে আমি সফরে ছিলাম। এই মুহূর্তে যেখানেই আছি, আমার সব ভাই ও বন্ধুসহ আমরা সবাই ভালো আছি।'

তিনি আরও বলেন, 'মিডিয়া সবসময় মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ায়। অতএব, সাহসিকতার সঙ্গে সেইসব মিথ্যা প্রত্যাখ্যান করুন। আমি আপনাদের শতভাগ নিশ্চিত করছি, আমরা ভালো আছি এবং আমাদের মাঝে কোনো সমস্যা নেই।'
 
হাতে লেখা নোটটি প্রকাশ করার কয়েক ঘণ্টা পর টুইটারে অডিও রেকর্ডিংটি প্রকাশ করে বারাদারের বেঁচে থাকার জোর দাবি জানায় তালেবান।

নোটটিতে বারাদারের নয়, বরং স্বাক্ষর রয়েছে ডেপুটি মৌলভী মুসা কলিমের। তিনি নোটটিতে প্রাসাদে গোলাগুলির ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, বারাদার কান্দাহারে রয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বারাদারের জীবিত থাকার প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে তালেবান। এতে কান্দাহারে বৈঠক করতে দেখা গেছে তাকে। তবে ভিডিওর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি র‍ইয়টার্স।

এর আগে চলতি সপ্তাহে খবর ছড়িয়ে পড়ে, হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যদের সঙ্গে দোহা গ্রুপের মোল্লা বারাদারের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। অবশ্য তালেবান বরাবরই এ ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের খবর অস্বীকার করে আসছে।

মোল্লা বারাদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের শান্তি চুক্তিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এবং ধারণা করা হয়েছিল যে, তিনি তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তবে গত সপ্তাহে দলটির নতুন সরকার ঘোষণায় তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ দেওয়ায় দলের মধ্যে কোন্দল এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

সোমবার তালেবান জোর দিয়েই বলে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য বারাদার বর্তমানে কান্দাহার প্রদেশে দলটির শীর্ষ নেতা মৌলভী হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গে বৈঠক করছেন।

কিন্তু গত শুক্রবার কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হাক্কানি পরিবাররে সঙ্গে এক বৈঠক চলাকালে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

বারাদার তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম সর্বোচ্চ নেতা মোল্লা ওমরের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন, যিনি ২০১৩ সালে যক্ষ্মায় মারা যান।

ওমরের মৃত্যুর পর বারাদার তালেবানের রাজনৈতিক শাখার প্রধান নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তিনি এই দলের সবচেয়ে সিনিয়র ব্যক্তিদের একজন। কিন্তু ধারণা করা হয়, হাক্কানি পরিবারে সঙ্গে তার মতোবিরোধ রয়েছে।

অন্যদিকে, দুর্ধর্ষ হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তালেবান দল বাদেও অন্যান্য ইসলামি চরমপন্থী দল, যেমন- আইএসআইএস-খোরাসানের সংযোগ রয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

এই পরিবারের দুই সদস্যের একজন সিরাজউদ্দিন এখন নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং খলিল শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

আন্না হাক্কানিও উচ্চ পর্যায়ের আলোচক হিসেবে ভূমিকা রাখছেন এবং তিনি কাতারের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও উপস্থিত ছিলেন।