স্কুলের আগে-পরে|315546|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
স্কুলের আগে-পরে
ডা. মারিয়া কিবতিয়ার

স্কুলের আগে-পরে

যেহেতু স্কুলে বাচ্চারা ভিড়ের মধ্যে যাবে, তাই তাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনাও এখন অনেকটা বেড়ে যাবে। এজন্য এ সময় স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের প্রয়োজন অতিরিক্ত যতœ ও সচেতনতা।

স্কুলে যাওয়ার আগে

 কীভাবে ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে, এটি শরীরে কী কী ক্ষতি করতে পারে, কীভাবে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা যায়, এ সম্পর্কে বাচ্চাকে বাসাতেই ধারণা দিতে হবে।

 স্কুলে যাওয়ার আগের রাতে বাচ্চার ব্যাগ গুছিয়ে রাখতে হবে। ব্যাগে পর্যাপ্ত টিস্যু, মাস্ক এবং হ্যান্ড সেনিটাইজার দিতে হবে। সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার করা শেখাতে হবে।

 হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম শেখাতে হবে। হাঁচি-কাশি দিলে মুখে টিস্যু বা মুখে হাত দেওয়ার অভ্যাস বাসায় বাচ্চাকে করাতে হবে।

 অনেক দিন স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক বাচ্চার মধ্যেই স্কুলে যেতে ভীতি দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাচ্চাকে বকাঝকা না করে বুঝিয়ে স্কুলে যেতে উৎসাহী করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কিছু শিক্ষামূলক কার্টুন বাচ্চাকে দেখানো যেতে পারে।

 অনেক দিন পর স্কুল খোলায় অতি-উৎসাহী হয়ে বাচ্চা যেন বন্ধু-বান্ধবীদের জড়িয়ে না ধরে, কারও সঙ্গে খাবার শেয়ার না করে, খেলতে গিয়ে কাউকে স্পর্শ না করে এ ব্যাপারগুলো বুঝিয়ে বলতে হবে।

 বাচ্চা অসুস্থ হলে স্কুলে পাঠানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

বাসায় ফেরার পর

 জামা-কাপড়, জুতা ও মুজা খুলে দিতে হবে। প্রতিদিন জামা-কাপড় ভালো করে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। বাচ্চার জন্য ২ থেকে ৩ সেট ইউনিফর্ম বানাতে হবে। বাচ্চার জুতা ঘরের বাইরে রাখতে হবে।

 ভালো করে বাচ্চাকে গোসল করাতে হবে। গোসল করানোর আগে বাচ্চা যেন হাত মুখে অথবা চোখে না দেয় এবং বাসার কোনো জিনিস স্পর্শ না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

 শুধু করোনার কথা মাথায় রেখে বাচ্চার অন্যান্য যতেœর ব্যাপারে ভুলে গেলে চলবে না। এখন যেহেতু গরমকাল, বাচ্চা স্কুল থেকে আসার সময় ঘামে ডিহাইড্রেটেড থাকে। এজন্য বাচ্চাকে পরিষ্কার করে অবশ্যই স্যালাইন অথবা অন্য কোনো পানীয় খাওয়াতে হবে।

 বাচ্চার অথবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যের জ্বর, সর্দি, কাশি হলে বাচ্চাকে স্কুলে না পাঠিয়ে বাসায় রাখতে হবে এবং একজন শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

বাসায় বাচ্চার যতœ

 করোনাকালীন এ সময় স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের অতিরিক্ত যতেœর প্রয়োজন।

 বাচ্চাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বারবার হাত ধুইয়ে দিতে হবে।

 বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে পানি, ফলের জুস, লেবুর শরবত খাওয়াতে হবে।

  বাচ্চাকে প্রতিদিন প্রোটিনজাতীয় খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ খাওয়াতে হবে।

 বাচ্চার রুমে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। বাচ্চাকে পড়াশোনার জন্য অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা যাবে না।

 বাচ্চাকে যেন মশা না কামড়ায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু সংক্রমণের ব্যাপারেও বাবা-মাকে সচেতন হতে হবে।