আরিয়ানা সাইদের বয়ানে কাবুল পরিস্থিতি|315551|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
আরিয়ানা সাইদের বয়ানে কাবুল পরিস্থিতি
আরফাতুন নাবিলা

আরিয়ানা সাইদের বয়ানে কাবুল পরিস্থিতি

১৫ আগস্ট তালেবান বাহিনী কাবুল দখল করে নিলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আফগানরা। তাদের মধ্যে আফগান পপ গায়িকা আরিয়ানা সাইদও ছিলেন। কাবুলের করুণ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

বিদায় আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের জনপ্রিয় পপ গায়িকা আরিয়ানা সাইদ। যুক্তরাজ্যের অধিবাসী হলেও নিজ দেশের প্রতি ভালো লাগা ছিল সব সময়। তাই গানের জগতে যুক্ত থাকার পাশাপাশি আরিয়ানা সাইদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পোশাক নিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করবেন। এ কারণে তুরস্ক, ব্রিটেন ও আফগানিস্তানে নিয়মিত যাওয়া-আসা করছিলেন। পুরো বছরের সময়কে ভাগ করে নিয়েছিলেন কয়েক ভাগে। দেশে আসলে কাবুলেই থাকতেন। আরিয়ানা ভাবতেও পারেননি স্বাভাবিক পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যাবে। ১৪ আগস্ট আরিয়ানার কাছে একটি ফোন আসে। পরদিন তালেবানরা কাবুল দখল করে নেবে এমন সাবধানবাণী দেওয়া হয় তাকে। বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব কাবুল ছেড়ে চলে যেতে। আরিয়ানা কিছুক্ষণ দ্বিধায় ছিলেন, কথাটি বিশ্বাস করার মতো কি না ভাবছিলেন। স্বামী হাসিব সাইদের সঙ্গে আলোচনা করলেন। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালেবানরা যেভাবে নারীদের প্রতি কঠোর আচরণ করেছে তার সব মনে আছে আরিয়ানার। কর্মক্ষেত্র ও স্কুল থেকে নারীদের নিষিদ্ধ করার বিষয়টি এখনো তার কাছে ভীতিকর। অতীতের ঘটনা মনে করে আর দেরি করলেন না।

আরিয়ানা ও হাসিব সিদ্ধান্ত নিলেন যত দ্রুত সম্ভব কাবুল ছেড়ে চলে যাবেন। তারা পরদিন অর্থাৎ ১৫ আগস্টের একটি কমার্শিয়াল ফ্লাইটের টিকিট কাটলেন। ভেবেছিলেন টিকিট কাটা হলে নিরাপদে কাবুল ছেড়ে চলে যেতে পারবেন। কিন্তু বিমানে অতিরিক্ত ভিড়ে সেই কমার্শিয়াল ফ্লাইট আর আকাশপথে ওড়েনি।

আরিয়ানা ও হাসিব ঘটনার আকস্মিকতায় ভীষণ ঘাবড়ে যান। তালেবান যোদ্ধাদের চিনতে পারার পর তাদের ভয় আরও বেড়ে যায়। তারা দ্রুত বিমানবন্দর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। আশ্রয় নেন কাবুলে এক আত্মীয়ের বাড়িতে। পরদিন জানতে পারেন তালেবানরা তাদের প্রতিবেশীদের প্রতিটি বাড়ির দুয়ারে যাচ্ছে। অনাকাক্সিক্ষত কাউকে দেখলেই ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই তালিকায় আরিয়ানা নিজেও ছিলেন। তিনি গানের জগতের বলে তার প্রতি ক্ষোভ আরও বেশি। তাই তার ভয় পাওয়াও স্বাভাবিক।

প্রথম দিন পারেননি বলে ঘরেও বসে থাকলেন না আরিয়ানা। কাবুল ছাড়তে পারবেন এ আশায় আবারও বিমানবন্দর যান আরিয়ানা। এ সময় বোরকা পরিহিত আরিয়ানার শুধু চোখ দুটো দেখা যাচ্ছিল। ছোট চাচাতো ভাইকে সঙ্গে নিয়ে এমনভাবে বের হয়েছিলেন যেন দেখে মনে হয় তারা পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছেন। আরিয়ানা বলেন, ‘বিমানবন্দর যাওয়া পর্যন্ত আমাদের পাঁচটি তালেবান চেকপয়েন্ট পার হতে হয়। একটি পয়েন্টে আমাদের আটকানো হলেও সঙ্গে ছোট বাচ্চাকে দেখার পর গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।’ 

হাসিব আলাদা গাড়িতে ছিলেন। আরিয়ানার আগে তিনি মার্কিন বাহিনী নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরে পৌঁছান। হাসিবকে সেখানে একজন আফগান চিনে ফেলেন। তিনি একজন মার্কিন সেনাকে বলেন, ‘আফগানিস্তানের বিখ্যাত গায়িকা আরিয়ানা সাইদের স্বামী তিনি। ওনাকে যেভাবেই হোক ছেড়ে দিতে হবে। কারণ তালেবানরা তাকে ধরতে পারলে মেরে ফেলবে।’

হাসিব একজন কানাডিয়ান। তাকে আরিয়ানার সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। আরিয়ানাকে বিমানবন্দরে আসতে সহায়তা করেন সেই ব্যক্তি। ১৭ আগস্ট আমেরিকার মিলিটারি বিমানে করে তারা দুজন কাবুল ছেড়ে কাতারের দোহায় আসেন। ১৯ আগস্ট তারা আমেরিকায় পৌঁছান।

আরিয়ানা সাইদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম যোগাযোগ করে। রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘আমি ভাগ্যবতী যে আমার কাছে যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট ছিল। যার কারণে আফগানিস্তান ছেড়ে আসতে পেরেছি। কিন্তু যারা ওখানে রয়ে গিয়েছে তাদের কী হবে? গত ২০ বছরে অনেক মেয়ে ও নারী স্কুলে গিয়েছে, শিক্ষা গ্রহণ করেছে। অনেকে শিক্ষক হয়েছে, চিকিৎসা পেশায় নিযুক্ত হয়েছে। মেয়েদের অর্জনের তালিকা অনেক বেশি। সবকিছু কি এভাবে শেষ হয়ে যাবে? এত সহজে?’ রয়টার্সকে তিনি যখন ইন্টারভিউ দিচ্ছিলেন তখন তার পরনে আমেরিকার পতাকার ছবিযুক্ত একটি টি-শার্ট ছিল। এই পোশাকও তিনি পেয়েছেন দোহায় এসে। যে পোশাক সন্ধ্যায় পরেছিলেন সেভাবেই কাবুল ছেড়েছিলেন আরিয়ানা।

কাবুলের করুণ পরিস্থিতি

কাবুল বিমানবন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে আরিয়ানা বলেন, ‘যেদিন আমি কাবুল ছেড়ে আসি, তার আগেই তালেবানরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছিল। বিমানবন্দরে এত মানুষ ছুটছে এমন দৃশ্য আমি আগে কখনো দেখিনি। পুরো এলাকা বিশৃঙ্খল হয়ে ছিল। শিশুরা কাঁদছে, লোকেরা যে যেভাবে পারছে দৌড়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা করছে। ভেতর, বাহির কোথাও কোনো জায়গা খালি নেই। নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো অবস্থাও ছিল না। খুব হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল সেটি। আমার মনে হচ্ছিল আমি এখানেই মারা যাব। আমি একদম অসহায় ছিলাম। আমরা যে বের হয়ে আসতে পেরেছি সেটাই আমার কাছে অবিশ্বাস্য।’ বিমানবন্দরে গোলাগুলির ঘটনা সবার মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। কয়েকজনের মৃত্যুর খবর আসে। এতে সবার মধ্যে দেশ ছেড়ে পালানোর অস্থিরতা আরও বাড়ে। যারা সরাসরি বিমানবন্দরের প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকতে পারছিলেন না, তারা দেয়াল টপকে অথবা কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।

আরিয়ানা বলেন, পুরো বিমানবন্দর এলাকায় অনেক ভিড় ছিল। একজন নারীকে এত ভিড়ের মধ্যে তিনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যেতে দেখেছেন। ভিড়ের মানুষেরা নিজেদের ব্যাগ নিয়ে যে কোনোভাবে শুধু বিমানে ওঠার চেষ্টা করছিল। একজন নারী আরিয়ানাকে অনুরোধ করেছিলেন তার সন্তানকে নিয়ে যেতে। আরিয়ানা বলেন, ‘একজন মায়ের কাছ থেকে তার সন্তানকে আলাদা করার কথা আমি ভাবতেই পারি না। কিন্তু সেই মা এতটাই অসহায় ছিলেন যে তিনি আসলেই চাচ্ছিলেন আমি তার সন্তানকে সঙ্গে করে নিয়ে আসি। আমি সেটা করতে পারিনি। আমি যখন বিমানে উঠছিলাম তখন মার্কিন সেনারা আমাকে জিজ্ঞেসও করেছিল বাচ্চাটি আমার কি না। তাদের আমি বলেছিলাম বাচ্চাটি আমার নয়, কিন্তু কোনোভাবে তাদের নেওয়া সম্ভব কি না জিজ্ঞেস করেছিলাম। আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। একজন মা তার সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছে এ দৃশ্যটি আমি আজীবন ভুলব না। সেই মায়ের কান্না ও অনুরোধ আমাকে এখনো পোড়াচ্ছে।’

আরিয়ানা ও সাইদ বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস করছেন। নিজেরা নিরাপদে বের হয়ে এলেও এত অসহায় মানুষকে পেছনে রেখে আসা তাদের দুজনকেই কষ্ট দিচ্ছে। ওখানে তাদের বন্ধু ও আত্মীয় যারা আছেন তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তারা। আরিয়ানা বলেন, ‘তাদের আর কোনো কিছু নিয়ে আশা নেই। হতাশা তাদের বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। তাদের খাবার নেই, আশ্রয় নেই। শুধু মৃত্যুভয় নিয়ে বেঁচে আছে তারা। তাদের জন্য আমার অন্তরে ভীষণ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে ভয়ংকর পরিস্থিতি আমি দেখে এসেছি তাতে আমি পালিয়ে এসেও স্বস্তি পাচ্ছি না। কাবুলের মানুষদের কথা ভেবে আমি আতঙ্কিত বোধ করছি।’

তালেবান নিয়ে মন্তব্য

আফগানিস্তানে মানবাধিকার এখন শুধু নীরব একটি শব্দ। সত্যিকারের কোনো প্রয়োগ এখানে নেই। আরিয়ানা বলেন, ‘আমি খুবই মর্মাহত, দুঃখিত। আফগানিস্তানকে যেভাবে বিশ্বের অন্যান্য জায়গা থেকে আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে তাতে আমি সত্যিই শঙ্কিত। আফগানিস্তানের যেসব মানুষের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই, তাদের কথা ভাবতে আমার কষ্ট হচ্ছে।’

নারীদের প্রতি তালেবানদের ভবিষ্যৎ আচরণ কেমন হতে পারে এমন প্রশ্নে আরিয়ানার জবাব, ‘আমি তালেবানদের বিশ্বাস করি না। আমি জানি তারা যেমন ছিল আবার সে রূপেই ফিরে যাবে। যদি তাই হয়, তাহলে তালেবানদের হাতে আফগান নারীদের কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। আমি চাই তারা তাদের কাজের জন্য বিশ্বের কাছে জবাবদিহি করুক। আমি এখনো বিশ্বাস করি আফগানিস্তানের এই সমস্যার কোনো না কোনো সমাধান তো অবশ্যই আছে। বিশ্ব অবশ্যই সজাগ হবে আর আফগানিস্তানকে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে সাহায্য করবে। আমি চাই না আগের মতো তালেবানরা নারীদের মাথায় গুলি করে মেরে ফেলুক। যে নারীরা এখনো বাড়িতে আটকে আছে আমার ভয় শুধু তাদের নিয়ে।’

ভারতের পক্ষ নিয়ে আরিয়ানা বলেন, ‘ভারত পাকিস্তানের একদম বিপরীত। পাকিস্তান যেখানে আফগানিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, ভারত সেখানে শান্তি আর ভালোবাসা বিলিয়েছে।’ কাবুলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ভারত এখন পর্যন্ত ৮০০ এরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। অনেক দেশও তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

আরিয়ানা বলেন, ‘বিশ্ববাসীর কাছে আমার অনুরোধ, আমার দেশের মানুষদের জীবন বাঁচাতে আপনারা এগিয়ে আসুন। মানবতায় এখনো আমি বিশ্বাস হারাইনি। আফগানিস্তানের নারীদের শক্তি ও ক্ষমতার ওপরও আমার আস্থা আছে। আমি জানি তারা আবারও বেঁচে থাকার জন্য যুদ্ধ করতে পারবে যদি তারা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে পারে।’

ব্যক্তিজীবন 

আরিয়ানা সাইদ আফগান গায়িকা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। ১৯৮৫ সালে আফগানিস্তানের কাবুলে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। তার বাবা পশতু এবং মা পার্সিয়ান ভাষায় কথা বলতেন। আট বছর বয়সে দেশ ছেড়ে পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানের পেশোয়ারে চলে আসেন আরিয়ানা। এরপর সুইজারল্যান্ড চলে আসেন। ১২ বছর বয়সে গান শেখার জন্য গানের স্কুলে ভর্তি হন। সুইস স্কুলে পড়ার সময়েই আরিয়ানা বুঝতে পারেন গানের প্রতি তার আলাদা ভালোলাগা আছে। তখনই সিদ্ধান্ত নেন গানেই ক্যারিয়ার গড়বেন। ২০০৮ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘মাশা আল্লাহ’ প্রকাশ পায়। ‘আফগান পেসারাক’ গানটি প্রকাশ পাওয়ার পর আফগানদের কাছে সাইদ বেশ জনপ্রিয় একটি নাম হয়ে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরিয়ানা সব সময় সরব থাকতেন। আফগানিস্তানের সংস্কৃতিতে গান গাওয়ায় তাকে অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে এসব সমালোচনাকে কখনোই আমলে নেননি আরিয়ানা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আরিয়ানার শেয়ার করা অনেক ছবি দেখে তাকে আমেরিকান তারকা কিম কারদাসিয়ানের সঙ্গে তুলনা করা হতো। ২০১৭ সালের ১৩ মে প্যারিসের একটি কনসার্টে ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে একটি পোশাক পরেছিলেন। সে সময় আফগান সম্প্রদায়ের কাছে ভীষণভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। মঞ্চে গান গাইতে উঠলে নগ্ন বলে তাকে অপবাদও দেওয়া হয়। নির্লজ্জ ও আফগানদের অসম্মানকারী বলে নানাভাবে অপদস্থ করা হয় আরিয়ানাকে। এ ঘটনার জবাব আরিয়ানা দিয়েছিলেন একটি ভিডিও’র মাধ্যমে। সেখানে বলেছিলেন, ‘আজ আমরা আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় বর্তমান সমস্যার একটির সমাধান করছি যেন পরে আরও সমস্যা সমাধানে মন দিতে পারি। মনে রাখতে হবে, যারা এখনো অন্ধকার যুগে বাস করছে তাদের জন্য আমার পদক্ষেপ কোনো ধরনের চাপ নয়। বরং আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি আরও বেশি নজর বাড়ানো প্রয়োজন।’

২০১৮ সালের ১৪ জুলাই অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের একটি কনসার্টে আরিয়ানাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন তার ম্যানেজার ও সংগীত প্রযোজক হাসিব সাইদ। হাসিবের চোখে আরিয়ানা একজন আফগান নায়ক। যে কিনা সব বাধা উপেক্ষা করে নিজের পথ সুগম করে নিয়েছে।

টেলিভিশনে ক্যারিয়ার

আফগানিস্তানের বাণিজ্যিক চ্যানেল ওয়ান টিভিতে কাজের নিয়োগ পেয়েছিলেন আরিয়ানা। এখানে ‘মিউজিক নাইট’ (শাব-ই-মসিক) নামে আরিয়ানার নিজস্ব একটি অনুষ্ঠান ছিল, যেখানে অন্য শিল্পীদের সাক্ষাৎকার নিতেন তিনি। অনুষ্ঠানটি বেশ দর্শক জনপ্রিয়তা পায়। অনুষ্ঠানের প্রথম সিজন শেষে লন্ডনে নিজ বাড়িতে চলে যান আরিয়ানা। অল্প দিনের মধ্যেই ২০১৩ সালে টোলো টিভিতে আয়োজিত ‘দ্য ভয়েস অব আফগানিস্তান’ নামে রিয়েলিটি শো-এর বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় তাকে। এ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অন্য একটি ট্যালেন্ট শো ‘আফগান স্টার’ এও বিচারকের কাজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আরিয়ানা।

ক্যাম্পেইনের অংশ

আফগানিস্তানের নারী অধিকার কর্মীর লালেহ ওসমানি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #ডযবৎবওংগুঘধসব পধসঢ়ধরমহ নামে একটি ক্যাম্পেইন চালু করেছিলেন তিনি। এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য ছিল আফগান আইন পরিবর্তন করে আইডি কার্ডে যেন নারীরা নিজেদের নাম লিখতে পারে সে অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এ ক্যাম্পেইনে লালেহ ওসমানির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন আরিয়ানা সাইদও। বরাবরই সামাজিক কাজে সক্রিয় থাকতেন তিনি।