অবণ্টিত মুনাফা পুঁজিবাজার তহবিলে আনার সিদ্ধান্ত সরকারের|315563|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি
অবণ্টিত মুনাফা পুঁজিবাজার তহবিলে আনার সিদ্ধান্ত সরকারের
নিজস্ব প্রতিবেদক

অবণ্টিত মুনাফা পুঁজিবাজার তহবিলে আনার সিদ্ধান্ত সরকারের

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত বা অদাবিকৃত মুনাফা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিলে জমা করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন যৌথভাবে নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সরকারি সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে বাজেটে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক বসে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

গতকাল মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আরেফিন।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল গঠন ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এই তহবিলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত মুনাফা নেওয়া যাবে না বলে গত সোমবার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর এক সমন্বয় সভায় এ দাবি জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। যেসব ব্যাংক অবণ্টিত মুনাফা এ তহবিলে জমা করেছে, তাদের তা ফেরত দিতে হবে বলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান। তালিকাভুক্ত কোম্পানির অবণ্টিত ও অদাবিকৃত মুনাফার অর্থ জমা নিতে কমিউনিটি ব্যাংকের গুলশান শাখায় হিসাব খুলেছে এসইসি। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক সে টাকা পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিলে জমা নিয়ে আপত্তি জানানোর প্র্রেক্ষিতে গতকাল প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী জানান, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

এক প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘করোনা মহামারী ফিরে আসুক, এটা চাই না। তবে মহামারীর মতো সংকটময় সময় যদি আসে তাহলে আরও ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করব। আমাদের সার্ভিস ডেলিভারি দিতে হবে। এটা সরকারের প্রথম প্রায়োরিটি। তবে আমরা চাই মহামারী শেষ হয়ে যাক।’

সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন সেন্টারে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট কভিড ফিল্ড হাসপাতাল’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রথম পর্যায়ে দ্রুত সময়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘কভিড ফিল্ড হাসপাতাল’ স্থাপনের পূর্ত কাজ এবং চিকিৎসা যন্ত্রপাতি রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে পিপিএ ২০০৬ এর ধারা ৬৮ (১) এবং পিপিআর, ২০০৮ এর বিধি ৭৬ (২) অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়ের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল নির্মাণ খরচ ১০ কোটি ২৮ লাখ ২২ হাজার টাকা। এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২০২২ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে সঠিক সময়ে বিনামূল্যে বই তুলে দিতে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩৫ কপি বই কেনার একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এজন্য ব্যয় হবে ৩৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৫ টাকা।

সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায়ের লক্ষ্যে সার্ভিস প্রোভাইডার/অপারেটর নিয়োগ এবং হাতিরঝিল-রামপুরা সেতু-বনশ্রী-শেখের জায়গা-আমুলিয়া-ডেমরা মহাসড়ক (চিটাগং রোড মোড় এবং তারাবো লিংক মহাসড়কসহ) পিপিপি ভিত্তিতে ৪-লেনে উন্নীতকরণের জন্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দুটি প্রস্তাবের বিষয়ে আরও কিছু বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে। তথ্যগুলোসহ পরবর্তী সময়ে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।