কৃষি খাতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল|315565|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
করোনার প্রণোদনা
কৃষি খাতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষি খাতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল

কভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ বিবেচনায় নিয়ে কৃষি খাতের জন্য আরও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের শস্য ও ফসল চাষের জন্য এককভাবে জামানত ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। ঋণের সুদের হার আগের মতো ৪ শতাংশই থাকছে।

গতকাল মঙ্গলবার এই তহবিলের ঋণ নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়, করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দেশের কৃষি খাতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে কৃষি কর্মকাণ্ড অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে কৃষির বিভিন্ন খাতে স্বল্প সুদে প্রয়োজনীয় ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক।

এ লক্ষ্যে ইতিপূর্বে গৃহীত বিভিন্ন প্রণোদনামূলক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় কৃষি খাতের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার এই পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্প গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ের এই তহবিলের অর্থও বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব উৎস থেকে সরবরাহ করবে। তহবিলের মেয়াদ হবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃষক বা গ্রাহকপর্যায়ে ঋণ বিতরণ করতে হবে। কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালার আওতায় খাতগুলোতে বিতরণকৃত ঋণের বর্তমান গ্রহীতাদের মধ্য থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বিদ্যমান ঋণ সুবিধার অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ এই প্রকল্পের আওতায় বিতরণ করতে পারবে।

এই প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ১ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। গ্রাহকপর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হবে ৪ শতাংশ। সরল সুদে এই ঋণ বিতরণ করতে হবে।

নতুন ও পুরনো সব গ্রাহকের ক্ষেত্রেই এই সুদহার প্রযোজ্য হবে। ব্যাংকগুলোর অনুকূলে বরাদ্দকৃত তহবিলের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শস্য ও ফসল খাতে বিতরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালায়। শস্য ও ফসল খাতের ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। অন্যান্য খাতের ঋণের মেয়াদ হবে ন্যূনতম ৩ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৮ মাস।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা মহামারীর সংক্রমণ ধরা পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম

কৃষি খাতে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ লক্ষ্যে ওই বছরের এপ্রিলে কৃষিভিত্তিক শিল্পে চলতি মূলধন জোগান দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ তহবিল থেকে হর্টিকালচার, ফুল, ফল, মৎস্য, পোলট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৯৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। ৩০ জুনের পর এ তহবিলের মেয়াদ আর বাড়ানো হয়নি।

গতকাল ঘোষিত দ্বিতীয় পর্যায়ের এই তহবিল থেকে গৃহস্থালি পর্যায়ে গাভী পালন, গরু মোটাতাজাকরণ খাতে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণদানে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এ ছাড়া শস্য ও ফসল ঋণ ব্যতীত অন্যান্য খাতের ঋণে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম জামানত ও সহায়ক জামানত নিতে পারবে। এ স্কিমের ঋণ কোনোভাবেই গ্রাহকের পুরনো ঋণ সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। ঋণখেলাপিরা এ স্কিমের আওতায় ঋণ পাবে না।