পাল্টে যাচ্ছে রাজনীতি|315571|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
পাল্টে যাচ্ছে রাজনীতি
আফগানিস্তানে তালেবান
রূপান্তর ডেস্ক

পাল্টে যাচ্ছে রাজনীতি

আফগানিস্তান প্রশ্নে চীন ও পাকিস্তান সম্ভবত ভারত-ইরান ও রাশিয়ার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। গত সোমবার উপসাগরীয় অঞ্চলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আফগানিস্তান ইস্যুতে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পাল্টে যেতে পারে। রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহার এই নতুন লড়াইয়ের অংশ হবে না।

তালেবান কাবুলের দখল নেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান ও চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন শুরু করেছে। তালেবানকে সরকার গঠনে সহায়তা থেকে শুরু করে ত্রাণ দেওয়ার মতো মানবিক কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করছে দেশ দুটি। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আর আফগানিস্তানের খনিজসম্পদের প্রতি চীনেরও নজর রয়েছে। বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের অধীনে ওই খনিজসম্পদ আফগানিস্তানের বাইরে নিতে চাইছে চীন। তালেবানও ইতিমধ্যে এ অঞ্চলে চীনকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ওই ঘোষণার পরই চীন ৩১ মিলিয়ন ডলার পাঠায় আফগানিস্তানে সহায়তা হিসেবে। পেইচিং জানায়, তারা আফগানিস্তানকে আরও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে চীনের চেয়ে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি বেশি।

আফগানিস্তানের ক্ষমতায় তালেবান আসার পর শুরুতে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি রাশিয়া। পরবর্তী সময়ে ভারতের সুরে সুর মেলায় দেশটি। কাবুলে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতায় থাকতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে মস্কো। রাশিয়া আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, কারণ তার অঞ্চলে থাকা একাধিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে রয়েছে তালেবানের যোগাযোগ। আফগানিস্তানে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে রাশিয়া নতুন করে সন্ত্রাসীদের উসকে দিতে চাইছে না। সম্প্রতি মস্কো তাজিকিস্তানে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনীর একটি বহর পাঠিয়েছে।

রাশিয়ার মতো ভারতও সন্ত্রাসবাদের উত্থান নিয়ে চিন্তিত। নয়াদিল্লি চায় না, আফগানিস্তান সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হোক। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত নিকোলাই কুদাসেভ সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা একত্রে কাজ করবে। গত সপ্তাহে রাশিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেনারেল নিকোলাই পেত্রোসেভ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আফগান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন।

আফগানিস্তানে সুন্নি মুসলিম দলের উত্থানে চিন্তিত শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইরান। তেহরান এখনো আফগান প্রশ্নে কৌশলী আচরণ করে যাচ্ছে। পানশির ভ্যালিতে তালেবানরা যে অভিযান চালিয়েছে তার সমালোচনা করেছে তেহরান। আফগানিস্তানের সঙ্গে ইরানের ৯০০ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তালেবানরা যখন আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ছিল, তখন তাদের স্বীকৃতি দেয়নি ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান আফগান পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে রাশিয়া, ইরান ও তাজিকিস্তানকে নিয়ে একটি বৈঠকের চেষ্টা করছেন জয়শঙ্কর। আফগানিস্তান যাতে ভয়ের কারণ না হয়ে ওঠে তা নিশ্চিত করতে চাইছে ভারত। অতীতে তালেবানের ক্ষমতার সময় কাশ্মীরে ব্যাপক মাত্রায় জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল। একই পরিস্থিতি নতুন করে চাইছে না নয়াদিল্লি। গত ৩১ আগস্ট দোহায় তালেবান প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল নয়াদিল্লি। তবে সেখানে তাদের মধ্যে কী আলাপ হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি। আফগানিস্তানে ভারতের বিশাল বিনিয়োগ রক্ষা করতে চাইবে নয়াদিল্লি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুই মাথাব্যথা ভারত ও রাশিয়ার।