ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষাজীবন|315581|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষাজীবন
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার শিক্ষাজীবন

ইংরেজি বিভাগ থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি, বিশেষভাবে যা পেয়েছি তা হলো যুক্ত হওয়ার প্রেরণা। সাহিত্যপাঠ মানুষকে বড় জগতে নিয়ে যায়, মহৎ মানুষ ও তাদের সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করে দেয়, আমাকেও দিয়েছে; আর ওই দেওয়াটাকেই আমি বিশেষ রকমের প্রাপ্তি বলে জেনেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি আসি ১৯৫২’তে। সেটা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময়। একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমতলাতে আমিও ছিলাম। সেটাও ছিল একটা বড় জগতে যাওয়া। তার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যুক্ত হয়েছি সহপাঠীদের সঙ্গে। গুনে দেখলাম আমরা মাত্র ষোল জন ছিলাম। তখনকার সেইন্ট গ্রেগরিজ কলেজ থেকে (পরে নাম হয়েছে নটর ডেম) আমরা এসেছিলাম চারজন। তাদের সঙ্গেও নতুনভাবে যুক্ত হলাম। সঙ্গী জুটল নতুন কয়েকজন। এদের প্রায় সবাই দেখছি একে একে চলে গেছে; তবু তারা আছে, আমার সাথী হয়েই।

আমাদের ক্লাসে ছাত্রী ছিল একজনই। অবাঙালি, গুজরাটি। ছিল সে নিতান্ত অনাত্মসচেতন। তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা ছিল স্বাভাবিক বন্ধুত্বের; কিন্তু একজন ভেবে বসল মেয়েটিমেহেরুননেসা আবদুল্লাহ মেহেরভাই নাম তার প্রেমে পড়ে গেছে। সেই ভাবনায় এতই অস্থির ও কাতর হয়ে পড়ল আমাদের এই সহপাঠী যে অমনোযোগী হয়ে গেল পড়াশোনায়, এবং অনার্স পরীক্ষায় শামিল হতে পারল না আমাদের সঙ্গে। প্রেমিক ছিল আরও একজন; তবে অন্য বিভাগের এক মেয়ের। খালেদা ফ্যান্সি খানম পড়ত দর্শন বিভাগে, ওই সময়েই খ্যাতি পেয়েছিল রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে; আর তার গান শুনেই প্রেমে পতিত হয়ে গেল আমাদের এই সহপাঠী। সে-সময়ে বেতার ভবনটি ছিল নাজিমউদ্দিন রোডে, কলাভবনের কাছেই; খালেদার গান গাওয়া থাকলে আমাদের ওই বন্ধুটি গিয়ে বেতার ভবনের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকত; এক ঝলক দেখবে বলে। এই কাতরতায় তার পড়াশোনাটাই মাটি হলো। ব্যর্থতার বোঝা নিয়ে বিভাগ ছেড়ে চলে গেল সে রাজশাহীতে; সেখানে গিয়ে পড়েছে ইসলামের ইতিহাস। অধ্যাপকও হয়েছিল। অনেক বছর হলো বন্ধুটি চলে গেছে। আবিদ হোসেন ছিল ভীষণ চটপটে। সে থাকল না; লন্ডনে পাড়ি দিল। দ্বিতীয় বর্ষ পার করে সাবসিডিয়ারি শেষ করে এবং বিএ ডিগ্রি নিয়ে। ঠিক করেছে ব্যারিস্টার হবে। হয়েছিলও। তারপর দেশে ফিরে এসেছে, অনেক বছর পরে; ভেবেছিল থাকবে। কিন্তু পারল না। একাত্তরের পঁচিশে মার্চের পরে দ্রুত চলে গেল সে লন্ডনে। যুদ্ধে যোগ দেবে। সেটা আর সম্ভব হয়নি। হার্ট ফেইলিয়োরে মারা গেছে অল্প কিছুদিন পরেই। মৃত্যু দমিয়েছে, নইলে আবিদকে দমানো ছিল খুবই কঠিন। ওর পিতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, ‘বুদ্ধির মুক্তি’-খ্যাত আবুল হোসেন; আবিদ তার পিতার সান্নিধ্য বেশিদিন পায়নি; অকালেই তার মৃত্যু ঘটে; কিন্তু আবিদ পিতার উত্তরাধিকার ঠিকই পেয়েছিল। পিতা ঢাকা শহরের গোঁড়া হর্তাকর্তাদের জ্বালাতনে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন কলকাতায়, যোগ দিয়েছিলেন আইন পেশাতে; আবিদও চেয়েছিল দক্ষ ব্যারিস্টার হবে, গিয়েছিল তাই লন্ডনে। আমাদের শিক্ষক ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন ক্লাসে একদিন আবিদকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন; ‘আর ইউ সৈয়দ আবুল হুসেনন্স সান?’ চটপটে আবিদের জবাবটা ছিল, ‘ইয়েস স্যার, আই অ্যাম, বাট আই ডু নট কল মাইসেলফ সৈয়দ, বিকজ মাই ফাদার ডিডন্ট।’ ছেলেটির সাহস ছিল দুর্দান্ত। মুজিবুল হক সাহেব আমাদের ক্লাস নিয়েছেন কিছুদিন, সিএসপি হয়ে চলে যাওয়ার আগে। ব্লেকের কবিতা পড়াতেন তিনি। বলেছিলেন, ‘দিজ পোয়েমস আর সিম্পল লাইক জসীম উদ্দীনস, বাট ইনডিড ভেরি কমপ্লেকস।’ পেছন বেঞ্চ থেকে আবিদ মন্তব্য করেছিল, ‘না-বোঝাতেও কিন্তু আনন্দ আছে স্যার।’ আবিদের টিউটোরিয়াল ছিল প্রফেসর আই এইচ জুবেরীর সঙ্গে। তিনি তখন ডিন এবং বিভাগীয় প্রধান; চলে যাবেন রাজশাহীতে, ভাইস-চ্যান্সেলর হয়ে; সেই প্রস্তুতিতে মানসিকভাবে ব্যস্ত। আবিদকে বলেছিলেন টিউটোরিয়াল লিখে নিয়ে আসতে। আবিদ সে-কাজ করেছিল। প্রফেসর জুবেরী তার খাতায় নানা জায়গাতে লাল কালিতে দাগ দিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু নম্বর দিয়েছিলেন ভালোই, এ মাইনাস; তবে নিচে একটা মন্তব্য জুড়ে দিয়েছিলেন : ‘ইজ দিস ইয়োর ওউন?’ মধুর দোকানে ফেরত এসে আবিদ শিক্ষকের মন্তব্যের পিঠে লিখেছিল, ‘নাথিং ইজ মাই ওউন, স্যার, একসেপ্ট দি মিসটেকস্।’

ব্যারিস্টার হয়েছিল আরও একজন, রশীদুজ্জামান। পার্টিশনের আগে কলকাতায় আমরা একই স্কুলে পড়েছি, পরে দেখি ঢাকায় আমরা আইএ পড়ছি একই কলেজে। ওর পিতা ছিলেন ঢাকা হাইকোর্টের জজ। রশীদ বিলেত গেছে অনার্স পরীক্ষা দিয়েই। সেও মারা গেছে অনেক দিন হলো। লতিফুর রহমান চলে গেছে তিন বছর হলো। আবিদের মতোই সেও যশোরের; তার বাবাও আইনজীবী ছিলেন। যশোর জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন দু’বার। পার্টিশনের সময়ে সদস্য ছিলেন আইন পরিষদের। লতিফুরের ডাক নাম ছিল শান্তি; খুবই জনপ্রিয় ছিল সে বন্ধুমহলে। নিয়মিত টেনিস খেলত হলের টেনিস কোর্টে। শান্তিও গিয়েছিল আইন পেশাতেই, হাইকোর্টের জজ হয়েছে, আরও পরে চিফ জাস্টিস, এবং অবসর-পরবর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব তো ছিলই, পরবর্তী সময়ে আমরা পরস্পরের আত্মীয়ও হয়ে গিয়েছিলাম, বৈবাহিক সূত্রে।

পাস করে বিভাগেই শিক্ষক হয়েছিলাম আমরা তিনজন। আহসানুল হক, এনামুল হক ও আমি। ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে এনামুল হক আমেরিকায় গিয়েছিল পড়তে; আর ফেরেনি। বছর কয়েক হলো সে মারা গেছে। আহসানুল হক ও আমি বিভাগের শিক্ষক ছিলাম দীর্ঘদিন। আহসানুল হক গিয়েছিল ব্রিস্টলে। সেখানে তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘মিডল ইংলিশ লিটারেচার ড্রিম পোয়েট্রি’। সেটি বই হিসেবে বের হয়েছে। পরবর্তী সময়ে গবেষণা করেছে এলিয়টের বক্তব্যের আলোকে এলিয়টের নিজের কবিতা নিয়ে। আহসানুল হক অত্যন্ত সচেতন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ব্যাপারে। সত্তর-একাত্তরে সে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক; হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যরা তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে আটক করে রেখেছিল বেশ কয়েক মাস। সেও তো চলে গেল। মোহাম্মদ আলী এসেছিল চট্টগ্রাম থেকে। মেধাবী ও মনোযোগী ছাত্র; সবাই বলত জেনুইন স্কলার। মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে আমার একটি অঘোষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল; পরীক্ষায় সে একবার প্রথম হতো তো পরেরবার আমি। রাষ্ট্রীয় বৃত্তি নিয়ে মোহাম্মদ আলী গিয়েছিল অক্সফোর্ডে, সেখান থেকে অনার্স করে এসে যোগ দেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান সে। পরে উপাচার্যও হয়েছিল। আরও পরে ইউজিসি’র সদস্য। মোহাম্মদ আলীও তো চলে গেল মাস দু’য়েক হলো। মোহাম্মদ মোশতাকের পেশা দাঁড়িয়েছিল সাংবাদিকতা। প্রথমে পত্রিকায়, পরে রেডিওতে। অত্যন্ত বন্ধুবৎসল ছিল সে। চলে গেছে বেশ আগেই। চোখে ভারী চশমাওয়ালা আনওয়ার হোসেন ছিল খুবই শান্ত স্বভাবের। পড়াশোনা শেষে কাজ নিয়েছিল ব্যাংকে। সেও আর নেই। আনওয়ারকে আমার মনে আছে বিশেষ এক কারণে। ওর এক ভাই থাকতেন লন্ডনে। তখন নামকরা পত্রিকা ছিল ত্রৈমাসিক ‘এনকাউন্টার’; সম্পাদক কবি স্টিফেন স্পেন্ডার। ছোট ভাইয়ের কাজে লাগবে জেনে আনওয়ারের ভাই পত্রিকার ছয়টি সংখ্যার একটি করে কপি পাঠিয়েছিলেন ডাকযোগে। আনওয়ার সেগুলো দেখেটেখে আমাকে দিয়ে একগাল হেসে বলেছিল, ‘তোমার  প্রয়োজন আমার চেয়ে বেশি।’ তা আমার কাজে লেগেছিল বৈকি। আমি অত্যন্ত কৌতূহল নিয়ে সব ক’টি সংখ্যা পড়েছি। বিশেষভাবে মনে পড়ে নীরদ সি চৌধুরীর একটি লেখা, যাতে তিনি ই এম ফরস্টারের ‘এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’ পাঠে রুষ্ট এক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। মোতাহার হোসেন এসেছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। ভালো ছাত্র, কিন্তু একেবারেই নতুন ও অপরিচিত পরিবেশে তাকে ভারি নিঃসঙ্গ ঠেকত। পড়াশোনা শেষ করে অধ্যাপনা করেছে কলেজে। কয়েক বছর আগে তার  মৃত্যুসংবাদ পড়েছি খবরের কাগজে। মাহবুবুর রহমানও কলেজে গিয়েছিল, অধ্যাপক হিসেবে; তারপরে আর খবর পাইনি।

আমার বিশেষ বন্ধুত্ব ছিল দু’জনের সঙ্গে। বারি ও ফারুক। আবদুল বারি ও ফারুক চৌধুরী। দু’জনই অনার্স শেষ করেই পরীক্ষা দিয়েছে সিভিল সার্ভিসে; এবং দু’জনই ফরেন সার্ভিস পেয়ে একসঙ্গে আমেরিকায় চলে গিয়েছিল ট্রেনিংয়ের জন্য। তারা নাম করেছিল রাষ্ট্রদূত হিসেবে। ফারুক লিখতও। লেখক হিসেবে ফারুক চৌধুরী ভালো প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বারি ছিল কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের। ফরেন সার্ভিস থেকে অবসর নেওয়ার পর কিছুদিনের জন্য নিজেদের সম্প্রদায়ের মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছে সে; তাদের জন্য পরিস্থিতিটা তখন ছিল সংকটের। বারির সাহসী অবস্থানের খবর দেখেছি কাগজে। বারি ও ফারুক দু’জনের কেউই এখন আর নেই; বারি চলে গেছে বেশ আগেই; ফারুক গেল তাও দু’বছর হয়ে গেছে। এস এম সোলায়মান থাকত পুরান ঢাকায়। সে প্রাদেশিক সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা দিয়ে প্রশাসক হয়েছিল। তার মৃত্যু সংবাদও আমাকে শুনতে হয়েছে। তালেহউদ্দিন খানের কথা তো না বললেই নয়। থাকত পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জে। পৈতৃক নিবাসে। তার শখ ছিল পুস্তক সংগ্রহ। এত বড় ও ভালো সংগ্রহ সে-সময়ে আমাদের কারোই ছিল না। তালেহউদ্দিনের ছিল চমৎকার বাগ্বৈদগ্ধ। অন্যমনস্ক অবস্থায় প্রশ্ন করায় কে একজন একবার তাকে বলেছিল, ‘আকেলমন্দ কি লিয়ে ইশারাই কাফি হ্যায়’; সঙ্গে সঙ্গে তালেহউদ্দিনদের প্রত্যুত্তর এসেছিল, ‘কভি কভি বেআক্কেল ভি ইশারা করতি হ্যায়।’ বই, জ্ঞান ও বাগ্বৈদগ্ধ সঙ্গে নিয়ে তালেহউদ্দিন গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে, কলেজে পড়াবে। জমিয়ে বসেছিল সে ওই শহরে; অনেক ক’জন অনুরাগী জুটেছিল তার, বিশেষ করে অধ্যাপক মহলে। কিন্তু একবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় ফেরার পথে স্কুটার উল্টে সেই যে হাত ভাঙল, সে হাত আর জোড়া লাগেনি। তারপরেও সাংবাদিকতা করেছে, টিকে-যাওয়া ডান হাতটি দিয়ে; কিন্তু কতদিন আর পারা যায়, এক সময়ে অবসর নিতে হয়েছে। খুবই অন্তরঙ্গতা ছিল আমার এস এম শামসুজ্জামানের সঙ্গে। কলেজে এক সঙ্গে পড়েছি। তখনো দেখতাম জামান কেমন যেন বিষণœ থাকত; বিশ্ববিদ্যালয়েও বিষণœতা তার পিছু ছাড়েনি। অবসর নিয়েছে ইনকাম ট্যাক্সের কমিশনার হিসেবে। একবার উদ্যোগ নিয়েছিল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। সফল হওয়া সম্ভব ছিল না, হয়ওনি। সস্ত্রীক কানাডায় গিয়েছিল, ছেলেদের সঙ্গে থাকবে বলে। অনেক দিন খবর পাই না। এতোই শোকসংবাদ চতুর্দিকে যে অবাক হবো না যদি শুনি সে নেই। অবাঙালি হাসিবুর রহমানও ছিল আমার কলেজের সহপাঠী এবং ইংরেজি বিভাগেও। ওদের ছিল আইসক্রিম ফ্যাক্টরি। নিশ্চয়ই চলে গেছে একাত্তরের আগে, কিংবা পরে।

এই যে আমার সহপাঠীদের কথা বললাম, স্মরণ করতে গেলে ভারী হয়ে আসে মন, ঝাপসা হয়ে ওঠে চোখ, এদের সবার সঙ্গে যে আমার একরকমের সম্পর্ক ছিল তা অবশ্যই নয়, কিন্তু সবার সঙ্গেই যে আমি যুক্ত ছিলাম সেটা হৃদয় দিয়ে অনুভব করি। ১৯৫২-৫৬’র ওই সময়টাতে, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আমরা সবাই ছিলাম উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণির সন্তান; আমাদের এগিয়ে যাওয়া ওই শ্রেণির অগ্রসরমানতারই প্রতিচ্ছবি। রাষ্ট্র তখন গঠিত হচ্ছে, গঠনের সময়ে আমরা সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু রাষ্ট্র যে মিত্র হবে না সেটাও টের পাচ্ছিলাম নানাভাবে। বিশেষত বোধ করি সাহিত্য পড়েছি বলে। ইংরেজি বিভাগের কাছে আমরা সবাই ঋণী, নানাভাবে; আমার জন্য বিশেষ ঋণ, ওই যে বললাম যুক্ত হওয়ার তাগিদটাকে প্রাণিত করার ক্ষেত্রে।

লেখক ইমেরিটাস অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়