মামলার প্যাঁচে অচল শিক্ষা কার্যক্রম|315586|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
মামলার প্যাঁচে অচল শিক্ষা কার্যক্রম
আবদুল আজিজ, কক্সবাজার

মামলার প্যাঁচে অচল শিক্ষা কার্যক্রম

প্রতিষ্ঠাতা পদ নিয়ে টানাটানি, অনিয়ম-দুর্নীতি ও করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধসহ নানা কারণে ধ্বংসের পথে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের চলমান মামলায় আইনি জটিলতায় বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঠ কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ফোরামের ব্যানারে ২০ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

২০১৩ সালে কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড়ে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাসে গড়ে উঠে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। লায়ন মুজিবুর রহমানকে প্রতিষ্ঠাতা ও সালাহউদ্দিন আহমদকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান করে ১০ সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ভালোই চলছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম। কিন্তু এক বছর আগে প্রতিষ্ঠাতা পদ নিয়ে শুরু হয় রশি টানাটানি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মুজিবুর রহমানকে বাদ দিয়ে ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা দাবি করেন। আবার লায়ন মুজিবুর রহমান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদকে মেনে নিলেও প্রতিষ্ঠাতা মানতে রাজি নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি এক বছর আগে দখলে নেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এ নিয়ে তারা দুজন একে অন্যের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি মামলায় জড়িয়ে পড়েন। এসব মামলা জটিলতায় ঝিমিয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম। ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী নিয়ে পুরোদমে চালু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০০ জনে নেমে আসে। এমন পরিস্থিতিতে শঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা স্টুডেন্ট ফোরামের ব্যানারে ২০ দফা দাবি পূরণে আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের দাবির মধ্যে ট্রাস্টি বোর্ড ও প্রশাসনের গোলযোগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে মুক্ত রাখা অন্যতম।

এ প্রসঙ্গে স্টুডেন্ট ফোরামের মুখপাত্র আরিফ সাঈদ বলেন, ‘প্রতি সেমিস্টার থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আয় করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। অথচ শুধু নামেই একটি ইউনিভার্সিটি রয়েছে আমাদের। বিষয়গুলো নিয়ে আমরা অনেকবার কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বারবার তারা আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’

শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবিতে সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্টুডেন্ট ফোরাম। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট দলিল প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আমার স্বাক্ষরে সম্পাদিত হয় এবং গ্রহীতা হিসেবে সালাহউদ্দিনসহ ১০ জন সদস্যের সবাই স্বাক্ষর করেন। কিন্তু আমাদের নামের ছাড়পত্রের মেয়াদ থাকাবস্থায় সালাহউদ্দিন তার কর্র্তৃক সৃজিত আরেকটি ভুয়া ট্রাস্ট দলিলের মাধ্যমে নিবন্ধনের জন্য ছাড়পত্র নিয়ে সাবমিট করে দেন। ইতিমধ্যে আমরা অনভিপ্রেত সম্পূর্ণ বিষয়টি বর্ণনা করে রেজিস্ট্রারের বরাবর অভিযোগ দায়ের এবং কোর্টকেও অবগত করেছি।’

তবে সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা দাবি করে বলেন, ‘আমিই কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা। আমি নিজে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনকারী। যা ২০১৩ সালের ১২ মে আমার তরফে করা হয়। ওই আবেদনে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সরকারের বরাবর অঙ্গীকারনামা প্রদানকারীও আমি। কিন্তু আমি লক্ষ করি যে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক অনুমতিপ্রাপ্তির আবেদন ফরমের ৩নং ক্রমিকে প্রতিষ্ঠাতার নাম ও ঠিকানার অংশটুকু পাল্টে দিয়ে সেখানে আমার স্থলে মো. মুজিবুর রহমানের নাম ও ঠিকানা জুড়ে দেওয়া হয়েছে।’