নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটর করতে হবে|315614|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
ক্রাইম কনফারেন্স সমাপনীতে আইজিপি
নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটর করতে হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটর করতে হবে

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেছেন, ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কঠোরভাবে মনিটর করতে হবে। যাতে কোনো সাধারণ নাগরিক সাইবার ক্রাইমের শিকার না হন। পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদেরও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের ও পুলিশ বাহিনীর প্রদত্ত অনুশাসন মেনে চলার নির্দেশ দেন তিনি।

পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, কতিপয় পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তার আচরণ বদলাতে হবে। কোনো সদস্যের মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারবে না। মাদকের সঙ্গে কারও কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাকে বেরিয়ে আসতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরে তিন দিনব্যাপী অপরাধ পর্যালোচনা সভার শেষ দিনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সমাপনী বক্তৃতায় এসব কথা বলেন আইজিপি। পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় সব অতিরিক্ত আইজিপি, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার, সব জেলার এসপি, মেট্রোপলিটন এলাকার উপকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা বলেন, সম্প্রতি দেশে ও দেশের বাইরে একটি চক্র রাষ্ট্র, বঙ্গবন্ধু পরিবার, সরকার, বিচার বিভাগ, শিল্পপতিসহ সমাজে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের বিষোদগার ছড়াচ্ছে। ভাড়া করা ‘সাইবার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে’ চিহ্নিত করা গেলেও দেশের বাইরে থাকায় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর জবাবদিহিতা না থাকায় এসব অপরাধীকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তুলে ধরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা বলেন তারা। যার পরিপ্রেক্ষিতে আইজিপি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে এ বার্তা দেন।

আইজিপি বলেন, ‘এবার নতুন নীতিমালায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হচ্ছে। কনস্টেবল নিয়োগ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হবে। আমরা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ এবং উন্নত অনেক দেশের নিয়োগ নীতিমালা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ পুলিশের উপযোগী কনস্টেবল নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ণ করেছি। এর ফলে আমরা কনস্টেবল পদে মেধা ও শারীরিক দিক থেকে অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন পুলিশ সদস্য নিয়োগে সক্ষম হব। অচিরেই পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর এবং সার্জেন্ট পদেও নতুন নীতিমালা অনুযায়ী লোক নিয়োগ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনায় আমরা দেশ ও জনগণের কল্যাণে দুর্নীতিমুক্ত পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

মাদকের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশের কোনো সদস্যের মাদকের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লেষ থাকতে পারবে না। কারও যদি মাদকের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লেষ থাকে তাহলে তাকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক গ্রহণ, মাদক ব্যবসা বা মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে পুলিশ বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, দেশের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

বাংলাদেশ পুলিশকে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘বাহিনীর শৃঙ্খলা এবং কল্যাণ এক বিষয় নয়। শৃঙ্খলাকে কল্যাণের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা যাবে না। বাহিনীর শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। কোনো পুলিশ সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতেও আমরা যথেষ্ট সচেষ্ট রয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুনিয়রদের কাজকর্ম তদারক করতে হবে। ফোর্সদের সুযোগ-সুবিধা দেখতে হবে। তাদের পুলিশ বাহিনীর একজন যোগ্য সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সিনিয়র সহকর্মীদের পালন করতে হবে।’

জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা নিয়ে যাওয়ার কার্যকর একটি পদ্ধতি ‘বিট পুলিশিং’ উল্লেখ করে ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়। বিট পুলিশিংয়ের কারণে বর্তমানে মামলা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তিনি বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে চুরি, ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে তৎপর হওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।’

‘উদ্ভাবনী পুলিশিংয়ের’ ওপর জোর দিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, ‘পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী কৌশল ব্যবহার করতে হবে। পুলিশে বেস্ট প্র্যাকটিসের চর্চা বাড়াতে হবে। আমরা যেখানেই কাজ করি না কেন, আমাদের পদচিহ্ন রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। যাতে মানুষ আমাদের স্মরণ করে, মনে রাখে।’

পুলিশপ্রধান সাধারণ মানুষের প্রতি আচরণ বদলানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মানুষের প্রতি অমানবিক আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এজন্য প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো। আর এটা এখনই করা যায়। এতে সময় এবং আর্থিক বিনিয়োগ কোনোটারই  প্রয়োজন হয় না।’

মামলার সঠিক তদন্ত পুলিশের প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘মামলা তদন্তের মান আরও বাড়াতে হবে। তদন্তের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী হতে এবং তদারকি বাগাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।’

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রজেক্টে অনেক বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। তাদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিছুদিন পরই  ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি না হতে পারে এর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু চাকরি করলে হবে না। চাকরিতে প্রাইড নিয়ে আসতে হবে। এজন্য মানসিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন আনতে হবে। চাকরির প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে, তাহলেই আমরা এগিয়ে যাব।’

আইজিপি পুলিশ বাহিনীকে বটবৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘সংগঠন যত বড় হবে, তত এর শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে। দেশ ও দেশের মানুষ এর থেকে উন্নত সেবা পাবে।’ দেশের সাধারণ জনগণের জন্য কাজ করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।