প্রকাশিত সংবাদে চবকের ব্যাখ্যা প্রতিবেদকের বক্তব্য|315616|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
প্রকাশিত সংবাদে চবকের ব্যাখ্যা প্রতিবেদকের বক্তব্য

প্রকাশিত সংবাদে চবকের ব্যাখ্যা প্রতিবেদকের বক্তব্য

গত ২৭ আগস্ট দেশ রূপান্তরে ‘মাল সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ যুক্তরাষ্ট্রে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সচিব উমর ফারুক স্বাক্ষরিত একটি ব্যাখ্যা পাঠানো হয়েছে। দেশ রূপান্তরে পাঠানো ব্যাখ্যায় বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং লঞ্চ-১ এর পুরাতন ইঞ্জিন ও গিয়ার বক্স বদলিসহ বিভিন্ন উপকরণের দরপত্র আহ্বান করে মেসার্স আরডেন্ট মেরিন লিমিটেডের সঙ্গে চবকের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তুতকৃত কামিনস ইঞ্জিন ও কন্ট্রোল সরবরাহের সংস্থান ছিল। গত ২০১৯ সালের ৩ জুলাই সরকারি আদেশ (জিও) জারি হওয়ায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দুজন মনোনীত প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্র যান। উদ্দেশ্য প্রস্তুতকারকের ফ্যাক্টরিতে প্রস্তুতকৃত সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিন ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ পরিদর্শন করা। পরিদর্শনে যন্ত্রপাতিগুলো ঠিক পাওয়া যায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র হতে বাংলাদেশে সরাসরি কোনো জাহাজ না আসায় যন্ত্রপাতিগুলো জাহাজযোগে সিঙ্গাপুরে আসে এবং সেখান থেকে ট্রান্সশিপমেন্ট হয়ে অন্য আরেকটি জাহাজযোগে চট্টগ্রামে আসে। আলোচ্য কনসাইনমেন্টের বিএল, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্টসহ সব ডকুমেন্টেই মালামালের কান্ট্রি অব অরিজিন ইউএসএ এবং ইউএসএ হতেই এগুলো শিপমেন্ট হয়েছে উল্লেখ আছে। তবে বাংলাদেশ কাস্টমসের বিল অব এন্ট্রিতে উৎপাদনকৃত দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলে ভুলবশত সিঙ্গাপুরের কথা উল্লেখ করেছে। যার ফলে এই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এতে সম্পাদিত চুক্তিনামার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি, কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি বা সরকারি অর্থের কোনো অপচয় হয়নি।

এছাড়াও একই সংবাদে ‘চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ বছরে বাড়তি ১১ কোটি টাকা মাইক্রোবাস ভাড়া পরিশোধ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়েও চবক ব্যাখ্যা দিয়েছে। ব্যাখ্যায় তারা বলে, চবকের বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার লক্ষ্যে প্রাধিকারের ভিত্তিতে অনেক যানবাহনের প্রয়োজন। ভাড়ায় মাইক্রোবাস ও কার সরবরাহের জন্য পিপিআর-২০০৩ ও পিপিআর-২০০৮ এর সকল বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জেনারেল ফিন্যান্স রুল ১০ (১-৪) এক শিফটে অর্থাৎ ৮ ঘণ্টার জন্য ভাড়া গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু চবকের অপারেশনাল কার্যক্রম দিবারাত্র (২৪/৭) নিরবচ্ছিন্ন রাখার স্বার্থে অধিকাংশ গাড়ি তিন শিফটে চলমান রাখার প্রয়োজন হয়।

প্রতিবেদকের বক্তব্য : উল্লেখিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ সরকারি দপ্তরের নথিপত্র ও দায়িত্বশীল সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে প্রতিবেদনের নিজস্ব কোনো মতামত নেই। বিল অব এন্ট্রি এবং শিপিং ডকুমেন্টস সংক্রান্ত কাগজপত্রে দেখা যায়, কামিনস মেরিন প্রোপালসন ইঞ্জিন, গিয়ার বক্স, প্রোপেলার মিব্রল মালামালগুলো সিঙ্গাপুর থেকে শিপমেন্ট হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় সংশ্লিষ্টদের প্রি-শিপমেন্ট প্রতিবেদন সঠিক নয়। ফলে সিঙ্গাপুর থেকে শিপমেন্ট হওয়া যন্ত্রপাতি পরিদর্শনের জন্য আমেরিকা ভ্রমণের বিল দেওয়ার সুযোগও নেই। চবকের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কাস্টমের বিল অব এন্ট্রিতে উৎপাদনকৃত দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থলে ভুলবশত সিঙ্গাপুরের কথা উল্লেখ করেছে। যার ফলে এই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে এর দায় প্রতিবেদকের ওপর বর্তায় না।

এছাড়া মাইক্রোবাস ভাড়ার বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ তুলে ধরেছে সরকারি একটি সংস্থা। সেখানে তারা বলছে, বিধি অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত চট্টগ্রামের জন্য প্রতিমাসে ৬০ হাজার ও ঢাকার জন্য প্রতিমাসে ৯০ হাজার টাকার বেশি কার বা মাইক্রোবাসের ভাড়া দেওয়ার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে সরকারি অর্থ খরচের জন্য মানা হয়নি জেলারেল ফিন্যান্স রুলসের বিধি ১০(১-৪) ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এ সংক্রান্ত আদেশ। প্রতিবেদনে এ বিষয়টিই বলা হয়েছে।