সাত বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত ৫৩ বার সময় নিল ৩ সংস্থা|315622|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
খতিব ফারুকী হত্যা মামলা
সাত বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত ৫৩ বার সময় নিল ৩ সংস্থা
আজাদ রহমান

সাত বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত ৫৩ বার সময় নিল ৩ সংস্থা

সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলায় তিনটি সংস্থা ৫৩ বার সময় নিয়ে সাত বছর পার করলেও এখনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। গত ৭ সেপ্টেন্বর সর্বশেষ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী আগামী ১০ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন। তবে বারবার তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় মামলার বাদী-বিবাদী উভয়পক্ষই হতাশা প্রকাশ করেছে।

নুরুল ইসলাম ফারুকী চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কাফেলা’ ও ‘শান্তির পথে’ এবং মাইটিভির লাইভ অনুষ্ঠান ‘সত্যের সন্ধান’ উপস্থাপনা করতেন। এ ছাড়া তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় খুন হন তিনি।

ওই ঘটনায় পরে তার ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। গত সাত বছরে প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবির হাত ঘুরে এখন মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)।

মামলার বাদী ফয়সাল ফারুকী বলেন, মামলায় ন্যায়বিচার পাব এ নিয়ে আমরা এখনো আশাবাদী। সম্প্রতি আমাকে সিআইডিতে ডেকে নেওয়া হয়, মামলা সম্পর্কে তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়ে অতিরিক্ত এসপি মো. জিসান মামলার তদন্ত পেয়েছেন। তারা আবার নতুনভাবে আমাদের ফ্যামিলিরও সহযোগিতা চেয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা দ্রুত মামলার প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।’ 

তবে নুরুল ইসলাম ফারুকীর বড় ছেলে আহমেদ রেজা ফারুকী বলেন, বাবা খুন হয়েছেন সাত বছর হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত মামলাটির তদন্তই শেষ হলো না। একের পর এক তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হচ্ছেন, কিন্তু তদন্ত শেষ হচ্ছে না। এখনো প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়নি।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জায়েদুর রহমান বলছেন, তদন্ত সঠিক সময়ে শেষ না হওয়ায় আসামিদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রতি ধার্য তারিখে তাদের আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এদের অনেকের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। মামলার তদন্তে পুলিশ যদি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পায়, তাহলে তারা মামলা থেকে অব্যাহতি পাবেন। তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হবে না।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯ জন। তাদের মধ্যে হাদিসুর রহমান সাগর, আবু রায়হান, আবদুল গফফার, মিঠু প্রধান কারগারে আছেন। আর খোরশেদ আলম, রিয়াজ ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজ, তারিকুল ইসলাম ওরফে মিঠু, খালেক ব্যাপারী ও মোজাফফর হোসেন ওরফে সাঈদ জামিনে আছেন।