নেতাদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বললেন তারেক রহমান|315625|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
নেতাদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বললেন তারেক রহমান
রেজাউল করিম লাবলু

নেতাদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে বললেন তারেক রহমান

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না। বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপিকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। প্রয়োজনে দাবি আদায়ে আমাদের আন্দোলনে যেতে হবে।’ গতকাল মঙ্গলবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাহী কমিটির সভায় দেওয়া বক্তব্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাম-লীর সদস্যরা এমন পরামর্শ দিয়েছেন। বৈঠক শেষে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র। সূত্র আরও জানায়, ‘সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাদের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।’

বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে রাত ৯টায় শেষ হয় বিএনপির রুদ্ধদ্বার বৈঠক। বৈঠকে পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, নাসির উদ্দিন আহমদ, শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আব্দুল হাই শিকদার প্রমুখ। বৈঠক পরিচালনা করেন বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

বৈঠক সূত্র জানায়, ‘বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে নেতারা বলেছেন ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। তারপর থেকে দেশে যত নির্বাচন হয়েছে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি। বিগত দিনে প্রমাণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে না। তাই আমাদের এক দফার আন্দোলনে যেতে হবে। নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।’

বৈঠক সূত্র আরও জানিয়েছে, বৈঠকে দুজন ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জামায়াতে ইসলামীকে জোটের সঙ্গে না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, জামায়াতের কারণে দেশে-বিদেশে সমালোচনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া সম্প্রতি তালেবান কর্র্তৃক আফগানিস্তান দখলের পর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে জামায়াতের বিষয়ে। এছাড়া জামায়াত সরকারের টোপে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে পারে। তখন বিএনপিকে বেকায়দায় পড়তে হতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, জ্যেষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ দলের অঙ্গসংগঠনগুলো বিশেষ করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলকে আন্দোলনমুখী ও নেতৃত্ব পুনর্গঠনের কথা বলেছেন।

এর আগে বিকেল ৪টায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সুদূর লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় যোগ দিয়েছেন তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে যা বললেন বিএনপি মহাসচিব : পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের তিন দিনব্যাপী বৈঠকের প্রথম দিন ছিল। আমরা রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছি।’

এদিকে দীর্ঘদিন পর নির্বাহী কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে ওঠে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়। বৈঠককে কেন্দ্র করে কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরিপাটি করে সাজানো-গোছানো হয় পুরো কার্যালয়। ভবনের নিচতলার হলরুমে নেতাদের সাদা কাপড়ে মোড়ানো আসন দেওয়া হয়েছে। ফুল দিয়ে সাজানো মঞ্চের সারিতে বসেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। স্ক্রিনে অনলাইনে যুক্ত হন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বৈঠক ৪টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ২টা থেকেই বৈঠকে অংশ নিতে একে একে উপস্থিত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও ভাইস চেয়ারম্যানরা। করোনার কারণে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর বৈঠকে এসে নেতারা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিএনপির নির্বাহী কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে কার্যালয়ের আশেপাশে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সাদা পোশাকে কার্যালয়ের আশেপাশে অবস্থান নেন বিভিন্ন গোয়েন্দাবাহিনীর সদস্যরা।

এ বৈঠকের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পেশাজীবী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

উপস্থিতির যে তালিকা বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে তাতে রয়েছেন, ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে শাহজাহান ওমর, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান, মীর নাসির উদ্দিন, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ প্রমুখ। উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুল হক চৌধুরী, মশিউর রহমান, আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, হাবিবুর রহমান হাবিব, লুৎফর রহমান খান আজাদ, আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, ফজলুর রহমান, শাহজাহান মিয়া, সুকোমল বড়ুয়া, খন্দকার মুক্তাদির আহমেদ, এসএম ফজলুল হক, আবদুল হাই, ভিপি জয়নাল আবেদীন, গোলাম আকবর খন্দকার, অধ্যাপক শাহেদা রফিক, আফরোজা খানম রীতা, তাহসিনা রুশদীর লুনা, অধ্যাপক তাজমেরী এস ইসলাম, ইসমাইল জবিল্লাহ, একরামুজ্জামান, তৈমূর আলম খন্দকার, মইনুল ইসলাম শান্ত, মাহবুবুর রহমান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, আবদুল হাই শিকদার, আতাউর রহমান ঢালী, বোরহান উদ্দিন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, নজমুল হক নান্নু প্রমুখ। 

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের মধ্যে রয়েছেন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন ও বেলাল আহমেদ এবং চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এবিএম আবদুস সাত্তার ও রিয়াজ উদ্দিন নসু।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত ৫০২ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে ৩৫ জন ভাইস চেয়ারম্যান রয়েছেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ৭৪ জন। বুধবার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সহ-সম্পাদকরা থাকবেন। বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বসবেন তারেক রহমান।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার আগে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রথম সিরিজ বৈঠক।