শুধু কাগজ-পত্রেই বন্ধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়|315717|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:৪৫
শুধু কাগজ-পত্রেই বন্ধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
মো. ফজলে রাব্বী, চবি

শুধু কাগজ-পত্রেই বন্ধ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০টি বিভাগে চলছে স্ব-শরীরে চূড়ান্ত পরীক্ষা। আরও বেশ কিছু বিভাগে চলছে পরীক্ষা নেওয়া প্রস্তুতি। নিয়মিত চলছে সকল অফিশিয়াল কর্মকাণ্ড, শিক্ষকদের পরিবহনের সুবিধার জন্য চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সার্ভিসও। আবাসিক হলে থাকছেন ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা। সবকিছু এমন স্বাভাবিক চললেও কাগজে-কলমে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।

এতে পরীক্ষা দিতে গিয়ে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। চট্টগ্রাম শহর থেকে ক্যাম্পাস প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ার প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়া পরীক্ষার কারণে ক্যাম্পাসের আশপাশে কটেজ বা ভাড়া বাসা নিতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বাসা পেতে আরও বেশি বেগ পেতে হচ্ছে ছাত্রীদের। কটেজের নোংরা পরিবেশ কোন রকম দিন পার করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিং বন্ধ থাকায় খাবার নিয়ে মহা বিপাকে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ক্যানটিনে খাবারের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে। এদিকে শতভাগ শিক্ষার্থীকে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় না এনে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল, ডাইনিং, শাটল ট্রেনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা বন্ধ রেখেই পরীক্ষা নিচ্ছে প্রশাসন। আমাদের শহর থেকে এসে পরীক্ষা দিতে অনেক বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেদিকে কর্তৃপক্ষের কোন দৃষ্টি নেয়। শিক্ষকদের জন্য প্রতিদিন চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস। আমাদের যাতায়াতের শাটল ট্রেন বন্ধ। ক্যাম্পাসে খাওয়া-দাওয়া ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাড়তি ভাড়া দিতে হয় আমাদের। এসব বিষয়ে কোন তদারকি দেখা যায় না।

তারা আরও বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ ভাগ শিক্ষার্থী টিকার আওতায় আসলেও হল খোলার ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সংগঠনের লোকেরা ঠিকই হলে অবস্থান করেছেন। স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে সমস্যা কোথায়? দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

আবাসিক হলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় সেখানে অবস্থানের সুযোগ নেই। অবৈধভাবে কেউ যেন অবস্থান না করতে পারে তা নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে সমন্বয় করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন নিশ্চিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে জাতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস. এম. মনিরুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের স্বার্থেই অফিসগুলো চালু আছে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের দায়িত্ব নিয়েই পরীক্ষা দিচ্ছেন। শতভাগ শিক্ষার্থী করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় না আসা পর্যন্ত আমরা তাদের দায়িত্ব নিচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, শতভাগ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনতে আমরা ইতিমধ্যে মৌখিক ভাবে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। লিখিতভাবেও দ্রুত জানানো হবে। শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার মধ্য দিয়ে আমরা দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় ও শাটল ট্রেন খুলে দেব।

সার্বিক বিষয়ে কথা বলতে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।