‘যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’|316471|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৬:৪৯
‘যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’
অনলাইন ডেস্ক

‘যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে’

গত ২৯ আগস্ট কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত-আহতদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। এবং সম্ভব হলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার আবেদনও জানিয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর (গত শুক্রবার) ওই হামলায় শিশুসহ ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহতের কথা স্বীকার করে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র।

ওই দুঃখ প্রকাশের একদিন পরই নিহতদের স্বজন ও আহতরা বলছেন, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু ‘দুঃখ প্রকাশ’ বা ‘ক্ষমা চাইলেই’ হবে না, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রও তাদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কথা ভাবছে বলে জানা গেছে।

গত ২৬ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলা চালানোর পর ওই হামলার দায় স্বীকার করা আইএস খোরাসান গ্রুপের ওপর ২৯ আগস্ট ড্রোন হামলা চালিয়ে কয়েকজন আইএস জঙ্গিকে হত্যার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু পরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায় আইএস সদস্য নয় ওই ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে শিশুসহ ১০ আফগান ব্যক্তি।

২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ওই ড্রোন হামলায় আইম্যাল আমাদি তার তিন বছরের কন্যাকে হারান। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘এই হামলা কারা চালিয়েছে তা ওয়াশিংটনের তদন্ত করা উচিত এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি পরিবরে ১০ সদস্যকে হারিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য সংস্থার কাছে ন্যায় বিচার চাই। আমরা নিরীহ, আমাদের তো কোনও ভুল ছিল না’।

আলজাজিরার প্রতিবেদক ওসামা বিন জাভাইদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা আমাদের জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চান। তারা হতাহতদের জন্য ন্যায় বিচার চেয়েছেন এবং সম্ভব হলে তারা আফগানিস্তান ছাড়তে চান।’

টুইটারে হামলায় ধংস হয়ে যাওয়া গাড়িসহ বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই সেই কম্পাউন্ড যেখানে তারা মারা গেছেন। তাদের স্মৃতিচিহ্ন ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এখানে।

এর আগে শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মার্কিন মেরিন জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাককেঞ্জি এই হামলাকে ‘মর্মান্তিক ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন এবং কয়েক সপ্তাহ অস্বীকার করার পর তিনি বলেছেন ড্রোন হামলায় নিরীহ বেসামরিক নাগরিকরা নিহত হয়েছে এবং ইসলামিক স্টেটে খোরাসান গ্রুপের সঙ্গে জড়িত কোন যোদ্ধা নিহত হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে ড্রোন হামলার কারণে বিমানবন্দরে আমাদের বাহিনীর জন্য একটি আসন্ন হুমকি এড়ানো গেছে। কিন্তু তা ভুল ছিল, এবং আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি’। ম্যাককেঞ্জি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কথা ভাবছে।

গত ২৬ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধার অভিযান চলাকালে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায় আইএস-কে। এতে ১৩ মার্কিন সেনা সহ ১৭০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। এরপরই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন হামলা চালায়।