সুতাং নদী ও শৈলজুলা খাল রক্ষায় হাইকোর্টের রুল|316488|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:৫৮
সুতাং নদী ও শৈলজুলা খাল রক্ষায় হাইকোর্টের রুল
শোয়েব চৌধুরী, হবিগঞ্জ

সুতাং নদী ও শৈলজুলা খাল রক্ষায় হাইকোর্টের রুল

হবিগঞ্জের সুতাং নদী ও সংযুক্ত শৈলজুরা খাল রক্ষায় বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন সংবিধান বিরোধী, বেআইনী, আইনগত কর্তৃত্ববর্হিভূত এবং জনস্বার্থ বিরোধী ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি জনাব মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) দায়ের করা জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল জারি করে। 

নদীর সঙ্গে সংযুক্ত শৈলজুড়া খালের পানি পরীক্ষা ও তিন মাস অন্তর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল এবং আগামী দু  মাসের  মধ্যে বিবাদী চেয়ারম্যান, নদী রক্ষা কমিশন, মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও একই অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালককে একটি স্বাধীন  কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।  

মামলার বিবাদীরা হলেন সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়;  সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়; চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন; মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর;  মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড;  নির্বাহী  প্রকৌশলী, পানি সম্পদ  রক্ষণাবেক্ষণ শাখা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি); জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জ; পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ; পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়), ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রাণ ও আর এফ এল গ্রুপ; ব্যবস্থাপনা পরিচালক  পরিচালক, স্কয়ার ডেনিম লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পাইওনিয়ার ডেনিম লিমিটেড;  ব্যবস্থাপনা পরিচালক , সিলভান এগ্রিকালচার  লিমিটেড;  ব্যবস্থাপনা পরিচালক,  স্টার  পোরসেলিন  লিমিটেড;  ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হবিগঞ্জ টেক্সটাইল লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রংপুর মেটাল ইন্ডস্ট্রিজ লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেইজ এডভান্স এগ্রো রিফাইনারিস (মার) লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সায়হাম নিট কম্পোজিট লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক,  সান বেসিক কেমিক্যাল লিমিটেড; ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গ্লোরি এগ্রো লিমিটেড এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রাসা কেমিক্যাল লিমিটেড।

উল্লেখ্য, ১৭, ১৮ ও ১৯ জুন দৈনিক দেশ রূপান্তরে হবিগঞ্জে শিল্প দুষণ শিরোনামে তিনটি ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই ধারাবাহিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য উল্লেখ করে মামলায় বলা হয়, ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ সুতাং নদী হবিগঞ্জ সদর, শায়েস্তাগঞ্জ, লাখাই এবং চুনারুঘাট উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। একসময় এ নদী এলাকাবাসীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বারো মৌসুমে এ নদীর পানি ব্যবহার করে কৃৃষিকাজ হয়ে থাকে। সনাতন ধর্মের লোকজন এক সময় এ নদীতে পুণ্যস্নান করতেন। দেশের অন্যান্য নদীর মতো এ নদীর অবস্থাও সংকটাপন্ন। 

প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর নামক স্থানে গড়ে উঠা শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী শৈলজুড়া খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে সুতাং নদী দূষণ করছে। অব্যাহত শিল্প বর্জ্যের দূষণে নদীটির পানি কালো বর্ণ ধারণ করেছে, পানি থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, কষ্টকর হয়ে পড়েছে নদীর পাড় দিয়ে চলাচল এবং দূষণের কারণে মৎসশূন্য হয়ে পড়েছে নদীটি। 

অপরদিকে এ নদীর পানি দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় এ নদীর পানি অববাহিকায় বিদ্যমান বিস্তীর্ণ হাওরের বোরো ফসলের সেচকাজে ব্যবহার করতে পারছেন না  কৃষকরা।  নদীর পানি ব্যবহারকারীরা পড়েছেন মারাত্মক ঝুঁকিতে ও আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগসহ নানা অসুখে এবং মারা যাচ্ছে হাঁস, মুরগি ও গবাদিপশু। 

এমতাবস্থায় দূষণ থেকে সুতাং নদী রক্ষায় বেলা উল্লেখিত জনস্বার্থমূলক মামলাটি দায়ের করে। বেলার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। 

বেলার আইনজীবী সাঈদ আহমদ কবীর হাইকোর্টের রুল জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।