শরতের ডাকে কাছে কিংবা দূরে|316502|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
শরতের ডাকে কাছে কিংবা দূরে
মোহসীনা লাইজু

শরতের ডাকে কাছে কিংবা দূরে

শরতে পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেড়াতে যাবার পরিকল্পনা করছেন অনেকে। একদিন কিংবা একবেলার জন্য ঢাকার আশপাশে ঘুরে বেড়ানোর মতো জায়গা আছে অনেক। আবার দূরে পাহাড়েও ঘুরে আসতে পারেন এ সময়টা।  লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

দিয়াবাড়ী : ঢাকার উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে বালুমাটি ফেলে সমতল করায় বিশাল মাঠের মতো খোলা জায়গা এখন শরতের শুভ্র কাশফুলে অন্যরকম রূপ নিয়েছে। কাশবনের ভেতর দিয়ে পাকা পথ। শরতের মেঘ আর কাশবন উপভোগ করতে এই সময়ে যেতে পারেন দিয়াবাড়ী। বটতলা থেকে কিছুটা সামনে ৩ নম্বর সেতু। সেতুর দুই পাশে লেকের পাড়ে গড়ে উঠেছে বোট হাউজ। বাঁশ ও কাঠের কাঠামো দিয়ে বানানো হয়েছে বসার জায়গা। সারি দিয়ে বাঁধা প্যাডেল বোট (পায়েচালিত নৌকা)। ঘণ্টা ভিত্তিতে ভাড়া করে ঘোরার সুযোগ আছে।

বছিলা : ঢাকা শহরের অদূরে একবেলার নির্মল অবকাশ যাপন করতে চান তাহলে ঘুরে আসতে পারেন বছিলা, ঘাটারচর, লুটের চর ও মধু সিটি এলাকাগুলোতে। হাঁটা বা রিকশায় চলার পথের পাশেই চোখে পড়ে এমন কাশবন। দর্শনার্থীদের হালকা নাশতা জলখাবারের জন্য রয়েছে চটপটি, ফুচকার দোকান ও আইসক্রিমের ভ্যান। মধুসিটির আশপাশেই রয়েছে সাধারণ ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টের পাশের লেকে প্যাডেল বোটে ঘুরতে পারবেন।

জল জঙ্গলের কাব্য : গাজীপুরের পুবাইলে অবস্থিত জল জঙ্গলের কাব্য। নীল-সাদা আকাশ, কাশফুলের আমন্ত্রণ আর খোলামেলা  গ্রামীণ পরিবেশ আর টলটলে  দিঘির পানি  উপভোগ পারবেন।

 

পদ্মা রিসোর্ট : পদ্মা রিসোর্ট মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত। নদী পাড়ের ও কাঁশফুলের অপূর্ব দৃশ্য যারা খুঁজে বেড়ান, তারা চাইলেই যেতে পারেন এখানে।

ড্রিম হলিডে পার্ক : নরসিংদী জেলায় অবস্থিত অন্যতম থিম পার্ক। পিকনিকের আয়োজন করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে।  বাচ্চাদের জন্য নানা রকম রাইড আছে। দুইপাশে আছে কাশফুলের লম্বা লাইন।

বালিয়াটি জমিদারবাড়ি : মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলায় বালিয়াটি গ্রামে বালিয়াটি জমিদারবাড়ি। প্রাসাদের সামনে শান বাঁধানো দিঘি আর দিঘির দুপাশ জুড়ে কাশবন।

যমুনা রিসোর্ট : টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ জেলার মধ্যে যমুনা সেতুর কাছেই অবস্থিত যমুনা রিসোর্ট। নদীর পাড়ে কাশফুল আর মেঘের রূপবদল দেখতে যেতে পারেন । ভেতরে রয়েছে সুইমিং পুল, খেলাধুলার ব্যবস্থা, জিম ও অন্যান্য সুবিধা।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘের বাজার থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কটি অবস্থিত। আছে বিস্তৃত কাশবন।

নিকলী হাওর : খোলামেলা পরিবেশে স্নিগ্ধ প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসতে পারেন কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর থেকে। কিশোরগঞ্জ শহরে, সেখান থেকে সিএনজিতে করে নিকলী ঘাট। ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে ঘুরে দেখুন হাওর মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম।

জিন্দা পার্ক : কম সময়ে ও কম খরচে ঘুরে আসার জন্য যেতে পারেন পূর্বাচল হাইওয়ের কাছেই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত জিন্দা পার্কে। কাশফুল আর মেঘের রূপবদল এবং টলমলে পানিতে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

পাহাড়ে শরৎ

পাহাড়েও বইছে কাশফুলের হাসিমাখা শরৎ। আর এই শরতে সবুজ পাহাড় যেন সেজেছে শ্বেতশুভ্র মেঘমালায়। যারা সবুজ পাহাড়, আকাশের পুঞ্জ পুঞ্জ মেঘমালা আর জলে ভরপুর জলপ্রপাতগুলোর জলরাশির স্পর্শ পেতে চান তাদের জন্য রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি ঘুরে বেড়ানোর এটাই ভালো সময়।

বান্দরবান : এই সময়টাতে সহজে চলে যাওয়া যাবে সাজেকে। যেখানে ক্ষণে ক্ষণে প্রকৃতি তার রূপ বদলায়। কখনো শরতের মেঘ এসে ঢেকে দিচ্ছে চারপাশ। নিজেকে মনে হবে মেঘের রাজ্যে বাস করছেন। যেতে পারেন বগালেক, কেওক্রাডংয়ের চূড়ায়। এছাড়া কাপ্তাই লেক, জাদু মন্দির, লামার মিরিঞ্জা পাহাড়, আলীকদমের গিরিপাহাড়ের এখানে ওখানে ঝরঝর বয়ে যাওয়া জলপ্রপাতের ঠান্ডা জলে গা ভেজানো, মাতামুহুরী ও শঙ্খ নদের পানিতে ভেসে ভেসে দুই পাড়ের  বৈচিত্র্যময় এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। থানচিতে গিয়ে নৌকোয় চড়ে পানিতে ডুবে থাকা বড় বড় পাথর দেখা ও রেমাক্রি জলপ্রপাতের ছুটে চলার দৃশ্য দেখা যাবে এখানে। বান্দরবানের দর্শনীয় ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর মধ্যে মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, নীলগিরি, প্রান্তিক লেক, স্বর্ণমন্দির, নীলদিগন্ত, ন্যাচারাল পার্ক, বিজয় পাহাড় চূড়া, রিজুক ঝরনা, তিনাফ সাইতার ঝরনা, রেমাক্রি, নাফাকুম ঝরনা, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স, কেওক্রাডং পাহাড়, তাজিনডং পাহাড়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও জাদুঘর, আলীর সুড়ঙ্গপথ উল্লেখযোগ্য।

রাঙ্গামাটি : শরতের মেঘ আর পাহাড়ের কাশবন দুটোই উপভোগ করতে পারবেন। রাঙ্গামাটিতে ঘুরে বেড়াতে পারবেন ঝুলন্ত সেতু, ‘পলওয়েল পার্ক’, ‘রাঙ্গামাটি পার্ক’, ‘আরণ্যক’, ‘শুভলং ঝরনা’, ‘সুখী নীলগঞ্জ’ ও ‘রাজবন বিহার’।

খাগড়াছড়ি : অসংখ্য ঝরনা আর পাহাড়ের মিলমিশ হলো খাগড়াছড়ি। শহরের প্রবেশপথ আলুটিলা। গুহার একপাশ থেকে অন্যপাশে বয়ে চলেছে পানির স্রোতধারা। রয়েছে রিসাং ঝরনা। এখানে বসে উপভোগ করতে পারবেন মেঘের ভেসে বেড়ানো। আর ঝরনার দুপাশ জুড়ে আছে কাশবনের সারি।

জেনে রাখুন

বেড়াতে যাওয়ার আগে আপনি সময় নির্ধারণ করে নিন। কত সময়ের জন্য যাচ্ছেন। কাছেপিঠে হলে এক রকম প্রস্তুতি নিতে হবে। আর রাত্রিযাপন করতে হলে আরেক রকম প্রস্তুতি। করোনা সংক্রমণের সময় সচেতন থাকা জরুরি। মাস্ক ব্যবহার, স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখবেন। কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন।

মডেল : তন্ময় ও আলীম;  আলোকচিত্র : আবুল কালাম আজাদ