বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না|316506|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না
তানজীর আহম্মেদ তুষার

বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অনেক বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না। এরকম অবস্থায় বাবা-মায়েরা খুব অসহায় বোধ করেন। বাচ্চার ওপর রাগ করেন এমনকি মারধরও করে ফেলেন। শিশুদের স্কুলে না যেতে চাওয়ার কারণগুলো জানালেন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট তানজীর আহম্মেদ তুষার

বিচ্ছেদজনিত উদ্বেগ

প্রথম প্রথম বাচ্চা স্কুলে যেতে না চাওয়ার বড় কারণ সেপারেশন অ্যাংজাইটি। সারাক্ষণ মায়ের কাছে বা পরিবারের কাছে থাকার পর হঠাৎ করে স্কুলে যাওয়াটা কোনো কোনো বাচ্চার জন্য ভয়ংকর মনে হয়। যেন মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকা মানেই বিপদের মধ্যে থাকা। এই ক্ষেত্রে বাচ্চাকে আশ^স্ত করতে হবে যে মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকা মানেই বিপদ ঘটবে তা নয়। স্কুল শেষেই সে তার মায়ের দেখা পাবে। এছাড়া স্কুলে তার বিভিন্ন প্রয়োজন কীভাবে মেটানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে সে কোথায় সাহায্য পেতে পারে তা তাকে বলে দিতে হবে।

স্কুলের বিপদ

স্কুলে বাচ্চা কোনো নির্যাতন বা টিজিংয়ের শিকার হলে তার মধ্যে স্কুলের প্রতি ভয় তৈরি হয়। সমস্যা হলো কোনো কোনো শিশু নির্যাতন বা টিজিংয়ের কথা বাসায় বলতে পারে না। তারা মনে করে বাসায় বললে বিপদ বাড়বে বা বাসার লোকজন তাকে দোষারোপ করবে। সেজন্য সমস্যার কথাও যেমন বলতে পারে না আবার স্কুলে যেতেও অনাগ্রহ তৈরি হয়। স্কুলের অতিরিক্ত কড়াকড়ি নিয়ম থাকলেও অনেকে মানিয়ে নিতে না পেরে স্কুলে যেতে চায় না। বাচ্চার মধ্যে এ ধরনের ভয় থাকলে দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনুপস্থিতি

কোনো কারণে একবার বাচ্চা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে এরপর স্কুলের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়। তাকে পড়াশোনায় সহযোগিতা দিতে হবে এবং আশ্বস্ত করতে হবে এই পিছিয়ে যাওয়াটা সাময়িক। চেষ্টা করলে ও স্কুলে যেতে থাকলে তা কাটিয়ে ওঠা যাবে।

সঙ্গীর প্রভাব

বন্ধু যদি স্কুলে যেতে আগ্রহী না হয় তাহলে সে স্কুলে যেতে চায় না। বাচ্চারা বন্ধুদের সঙ্গে একই রকম আচরণ করতে চায়। তাই বাচ্চা কাদের সঙ্গে মিশছে তা অবশ্যই ভালো করে খোঁজ নিতে হয়।

মিশতে না পারা

কোনো কোনো বাচ্চা ক্লাসে অন্যদের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারে না। তখন সে স্কুলে যেতে চায় না। এই বাচ্চাদের শেখাতে হয় কীভাবে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলতে হয় ও মিশে চলতে হয়। কোন কথা কখন বলতে হয় এবং কোন কথা কখন বলা যাবে না তাও হাতেকলমে শেখাতে হয়। আশ^স্ত করতে হবে যে, বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে এক সময় ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যাবে ও নতুন বন্ধুত্ব তৈরি হবে।

বিষন্নতা

বিষন্নতায় থাকা বাচ্চা পড়াশোনা বা স্কুলে যেতেও আগ্রহ পায় না। তাই দেখতে হবে কোনো কারণে বাচ্চার মধ্যে বিষন্নতা রয়েছে কি না। যদি থাকে তবে তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে হবে। তাকে এটা বললে হবে না ‘মন খারাপ করে থেকো না’। তার মন খারাপের কারণগুলো অনুসন্ধান করে তা সমাধান করতে হবে।

লেখাপড়ার গুরুত্ব না বোঝা

বাচ্চাকে পড়াশোনা ও স্কুলে যাওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে হবে। স্কুলে যাওয়াটা শুধুমাত্র ভালো ফলাফলের জন্য নয়। বরং স্কুল থেকে সামাজিকতাসহ নানা ধরনের বাস্তব জীবন সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা হলো স্কুলে যাওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।