ইভ্যালির কোটি টাকার পণ্য গোপনে সরিয়ে বাজারে বিক্রি|316765|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৯:৪৯
ইভ্যালির কোটি টাকার পণ্য গোপনে সরিয়ে বাজারে বিক্রি
সাভার প্রতিনিধি

ইভ্যালির কোটি টাকার পণ্য গোপনে সরিয়ে বাজারে বিক্রি

ই-কমার্স সাইট ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেপ্তারের পর ওয়্যারহাউস থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোনসহ বেশ কিছু মালামাল সরিয়ে ফেলেন কয়েকজন কর্মচারী। পরে সেগুলো ইভ্যালির প্যাকেজিং সেকশনের দায়িত্বে থাকা মোজাম্মেলের শ্বশুরবাড়ি সাভারের হেমায়েতপুরের পূর্বহাটি এলাকায় এনে রাখা হয়।

এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এরই মধ্যে গ্রাহককে ডেলিভারির জন্য আনা পণ্যগুলো গোপনে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

গ্রাহকের অভিযোগ, শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইভ্যালির কয়েকজন গ্রাহক বিষয়টি জানতে পেরে সেই বাসা খুঁজে বের করেন এবং তাদের অর্ডার করা পণ্য বুঝে পেতে তাগাদা দেন। এ ঘটনায় গ্রাহকের দাবিকৃত পণ্য বুঝিয়ে দিতে একদিন সময় চান মোজাম্মেল। পরদিন শনিবার মোজাম্মেল ইভ্যালির গ্রাহক আহাদকে জাহাঙ্গীর নামে একজনের মোবাইল নম্বর দিয়ে জানান, ইনি তার সিনিয়র কর্মকর্তা। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পণ্য পেয়ে যাবেন। এরপর থেকে বন্ধ রয়েছে মোজাম্মেলের মোবাইল ফোন।

অভিযোগে জানা যায়, পরে ইভ্যালির গ্রাহক আহাদ আহাম্মেদ জাহাঙ্গীরকে ফোন করলে তিনি বিভিন্নভাবে সময় পার করেন এবং শনিবার সন্ধ্যার পর ইভ্যালির সাভারের ওয়্যারহাউসের গেটের বাইরে প্রতিষ্ঠানটির এইচআর বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন। সেখানে মোস্তাফিজুর ওই গ্রাহকের কাছ থেকে আরও একদিন সময় চান।

ওই গ্রাহক আরো অভিযোগ করেন, এরই মধ্যে হেমায়েতপুর এলাকায় মোজাম্মেলের শ্বশুর বাড়িতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০টি কার্টন ভর্তি পণ্য রাখার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। সেখানে গিয়ে বাসার ভেতরে বেশ কিছু পণ্যের কার্টন দেখতে পান। পরে কার্টন খুলে দুটি কার্টন ভর্তি আইফোন ও রিয়েলমি ব্রান্ডের মোবাইল দেখতে পান। এ ছাড়া বাকি কার্টনগুলোতেও মোবাইল ও মোবাইল এক্সেসরিজ রয়েছে বলে স্বীকার করেন মোজাম্মেল। খবরটি গ্রাহকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ইভ্যালিতে অর্ডারকৃত পণ্য বুঝে পেতে ওই বাড়িতে ভিড় করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোজাম্মেলের স্ত্রীর বড় বোন বলেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাত ২টার দিকে একটি হাইস মাইক্রোবাস ও একটি লেগুনা গাড়িতে করে পণ্যগুলো তাদের বাড়িতে আনা হয়। মানুষ ঝামেলা করতে পারে তাই মালগুলো রাতে আনা হয়েছে। পরবর্তীতে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে পণ্যগুলো আবারও ইভ্যালির ওয়্যার হাউসেই নিয়ে যাওয়া হয়। ইভ্যালির মালিকের বড় ভাই ও ওয়্যারহাউসের কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা এসে বাসায় মালগুলো দিয়ে যায়। তারা বলেছিল, এখান থেকে মালগুলো বিক্রি করবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভারে মোবাইল ব্যবসায় জড়িত এক যুবক  বলেন, শনিবার ৩০০ পিস ও রবিবার ২০০ পিস রিয়েলমি ৮৫জি মডেলের ফোন সাভারের বাজারে ছোট হোল সেলারদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে ১৯ হাজার ৭০০ টাকা করে। হেমায়েতপুর মোজাম্মেলের শ্বশুরবাড়ির এলাকা পূর্বহাটি থেকেই ফোনগুলো ডেলিভারি করা হয়।

তবে ফোনগুলো কে ডেলিভারি করেছে তা জানাতে পারেননি তিনি।

তিনি বলেন, ইভ্যালি ছাড়া এ মডেলের মোবাইল ফোনটি এত কম দামে অন্য কেউ আর বাজারে ছাড়েনি। সাধারণত এ ফোনটির পাইকারি মূল্য ২০ হাজার টাকার ওপরে।

তিনি বলেন, আমি তো শুধু ৫০০ পিসের সন্ধান পেয়েছি। প্রায় ২০ হাজার টাকা করে যদি ৫০০ মোবাইল বিক্রি করে দেওয়া হয় তাহলে ইতিমধ্যে কোটি টাকার মোবাইল বিক্রি হয়েছে। এভাবে হয়তো আরো অনেক মোবাইল বাজারে বিক্রি করেছে মোজাম্মেল ও তার সহযোগী জাহাঙ্গীর।

তিনি জানান, নিজেও ইভ্যালিতে ৪ লক্ষাধিক টাকার পণ্য কেনার জন্য টাকা জমা দিয়েছেন। সেই টাকার আশায় ঘুরছেন তিনি।

রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে, মোজাম্মেলের বাসায় গিয়ে তাকে না পাওয়া না গেলেও জাহাঙ্গীরের দেখা পাওয়া যায়। তবে বড় কর্মকর্তা সেজে যিনি দুদিন ধরে হম্বিতম্বি করছিলেন, তিনি ইভ্যালির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ নন। মোজাম্মেল তার বোনের জামাই। জাহাঙ্গীরের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, ইভ্যালি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করেন তিনি এবং তার প্রোফাইল ছবিতেও ইভ্যালি ফ্রেম দেওয়া ছিল।

অভিযোগের বিষয়ে মোজাম্মেল ও জাহাঙ্গীরের ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে জানতে ইভ্যালির প্রশাসন বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।