‘চলতি দায়িত্বে’ অচল দপ্তর|316852|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
‘চলতি দায়িত্বে’ অচল দপ্তর
আশরাফুল হক

‘চলতি দায়িত্বে’ অচল দপ্তর

সরকারের বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তরে চলতি দায়িত্ব নিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে দেদার চলতি দায়িত্ব দেওয়ায় চাকরি ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা চলছে। বিভাগীয় মামলা, আপিল ট্রাইব্যুনালে দৌড়াদৌড়িতে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে অসন্তোষও রয়েছে। এ অবস্থায় চলতি দায়িত্ব ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে অনিয়ম বন্ধ করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

প্রায় ৩০ বছর আগে সরকার চলতি দায়িত্ব ও অতিরিক্ত দায়িত্ব সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু কিছু পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকলেই নয়। জনস্বার্থে কিছু পদ শূন্য রাখা যায় না। শুধু সেসব পদে চলতি দায়িত্ব বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সরকার বাধ্য হয়ে নিয়ম করে দেয়। নিয়ম করে দিলেও এসব দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সরকার সবসময়ই নিরুৎসাহিত করেছে। কিন্তু তারপরও চলতি দায়িত্ব ও অতিরিক্ত দায়িত্ব কমেনি। জুনিয়র কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে উচ্চপদে বসানো হচ্ছে। বিশেষ করে যে পদগুলো আর্থিক ও প্রভাব বিস্তারের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সেসব পদে পছন্দের কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব বা অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে এসব দায়িত্ব নিচ্ছেন। বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তর ইচ্ছা করে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে রাখে। যাতে চলতি দায়িত্ব দিয়ে দপ্তর-অধিদপ্তরের নীতিনির্ধারকরা লাভবান হতে পারেন, তেমনি লাভবান হতে পারেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও।

নিম্নধাপের কর্মকর্তাদের উচ্চপদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় একই গ্রেডের কর্মকর্তাদের মধ্যে। চলতি দায়িত্ব বা অতিরিক্ত দায়িত্বের মেয়াদ দুই মাসের বেশি হলে সংস্থা বা দপ্তরের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) অনুমোদন নিতে হবে। চলতি দায়িত্ব দিতে হবে পদোন্নতির যোগ্যতা অনুযায়ী সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে। আরও কিছু শর্ত থাকলেও এ শর্ত দুটিই প্রধান। কিন্তু কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ আরও কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান চলতি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব নিয়ম আমলেই নেয় না। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মতো করে চলতি দায়িত্ব ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দিচ্ছে। এতে করে দেরিতে হলেও বিষয়টিতে চোখ পড়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। তারা চলতি দায়িত্ব ও অতিরিক্ত দায়িত্বের নামে যে অরাজকতা চলছে তা বন্ধের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-শাখা। তারা এ সংক্রান্ত নিয়মকে আরও সময়োপযোগী করবে বলে জানা গেছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন শূন্য পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে মেধা, পদোন্নতির যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলতি দায়িত্ব বা অতিরিক্ত দায়িত্বের মেয়াদ দুই মাস অতিক্রমের আগে ডিপিসির অনুমোদনের আদেশ লঙ্ঘন করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে জুনিয়র ১০ জন সহকারী মহাপরিদর্শককে উপমহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব প্রদান করে বিভিন্ন জেলায় পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে সিনিয়র ছয়জন সহকারী মহাপরিদর্শককে উপমহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনকে জুনিয়র কর্মকর্তার অধীনে পদায়ন করা হয়েছে। ফলে এসব সিনিয়র সহকারী মহাপরিদর্শকের চলতি বছরের এসিআর দেবেন উপমহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব পাওয়া জুনিয়র সহকারী মহাপরিদর্শকরা।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে জুনিয়র ১০ জন সহকারী মহাপরিদর্শককে উপমহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব প্রদান করে বিভিন্ন জেলায় পদায়ন করা হয়েছে। চলতি দায়িত্ব প্রদানে এসব কর্মকর্তার কারও ক্ষেত্রেই বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সুপারিশ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলেও এ ক্ষেত্রে ডিপিসির কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে চলতি দায়িত্ব প্রদানসংক্রান্ত বিভিন্ন সময়ে জারিকৃত পত্রে দেখা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মেধা তালিকা অনুযায়ী অধিদপ্তরের প্রণীত খসড়া গ্রেডেশন তালিকা লঙ্ঘন করে সহকারী মহাপরিদর্শক ইকবাল হোসাইন খানকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৫২) ৫১ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে বগুড়া কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব বসানো হয়েছে ২০১৯ মে মাসে। একই বছরের আগস্টে তার চলতি দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো তিনি চলতি দায়িত্বেই বহাল রয়েছেন। ইকবাল হোসাইন খান ২০১৭ ডিসেম্বরে পদোন্নতি পান। তিনি তার নিজ ব্যাচেরই জুনিয়র কর্মকর্তা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পদোন্নতি পাওয়া আরেকজন সহকারী মহাপরিদর্শক সাকিব আল মুবারাতকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৫১) ৫০ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপমহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের অক্টোবরে তিনি চলতি দায়িত্ব পেলেও মেয়াদ পার হওয়ার পর এখনো তিনি এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কিশোরগঞ্জের শাহ মোফাখারুল ইসলামকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৪৫) ৪৪ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে, মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসানকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৩৩) ৩২ জনকে সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে, সিলেটের তপন বিকাশ তঞ্চঙ্ঘাকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৩১) ৩০ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে, গাজীপুরের আহমেদ বেলালকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৩০) ২৯ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে, নরসিংদীর আতিকুর রহমানকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-২৯) ২৮ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে, ঢাকার একেএম সালাউদ্দিনকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-২৬) ২৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে, নারায়ণগঞ্জের সৌমেন বড়ুয়াকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-২২) ২১ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে, প্রধান কার্যালয়ের সাবিহা মুক্তাকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-২১) ২০ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে উপমহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ইকবাল হোসাইন খান ও সাকিব আল মুবারাতের মতো এ দপ্তরের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত সব কর্মকর্তারই দুই মাসের মেয়াদ শেষ হলেও ডিপিসির মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

এছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই এখন পর্যন্ত সিনিয়র ছয়জন সহকারী মহাপরিদর্শককে উপমহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তারা হলেন সহকারী মহাপরিদর্শক জাকির হোসেন (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-১), আহমাদ মাসুদ (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৩), শেখ আসাদুজ্জামান (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৫), জোবেদা খাতুন (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৬), আল-আমিন (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৯) ও মোর্তজা মোরশেদ (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-১১)।

চলতি দায়িত্বে জুনিয়র কর্মকর্তা থাকলে তার অধীনে কোনো সিনিয়র কর্মকর্তাকে পদায়ন করার বিধান নেই। কিন্তু সরকারি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে জুনিয়র কর্মকর্তার অধীনে বেশ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সাকিব আল মুবারাতের (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৫১) সহকারী মহাপরিদর্শক শরীফ আহমেদ আজাদ (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-১০), কিশোরগঞ্জের শাহ মোফাখারুল ইসলামের (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৪৫) অধীনে সহকারী মহাপরিদর্শক সান্তাজ বিল্লাহ (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-২৩), নারায়ণগঞ্জের সৌমেন বড়ুয়ার (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-২২) অধীনে সিনিয়র সহকারী মহাপরিদর্শক জোবেদা খাতুন (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৬) এবং প্রধান কার্যালয়ের সাবিহা মুক্তার (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-২১) অধীনে সহকারী মহাপরিদর্শক শেখ আসাদুজ্জামানকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৫) পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া পাবনার উপমহাপরিদর্শক (চলতি দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর আলমের (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-৮) অধীনে সহকারী মহাপরিদর্শক জাকির হোসেনকে (জ্যেষ্ঠতার ক্রম-১) পদায়ন করায় সিনিয়র এ কর্মকর্তা সম্মানহানির ভয়ে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে জুনিয়র কর্মকর্তাদের পদায়ন করার জন্যই ডিপিসির অনুমোদন নেওয়া হয় না। অথচ চলতি দায়িত্বের মেয়াদ দুই মাসের বেশি হলেই বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও বর্তমানে চলতি দায়িত্ব পাওয়া চারটি যুগ্ম মহাপরিদর্শকের এবং ১৯টি উপমহাপরিদর্শকের পদের কারও বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সুপারিশ নেওয়া হয়নি। খসড়া গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশ করা হলেও শুনানি করা হচ্ছে না। উপমহাপরিদর্শকের ১৫টি শূন্য পদের পদোন্নতির দেওয়ার জন্য গত ১৯ মে খসড়া গ্রেডেশন তালিকা প্রণয়ন করা হলেও তার শুনানি করে গ্রেডেশন চূড়ান্ত করে পদোন্নতির উদ্যোগ নেয়নি। খসড়া তালিকা চূড়ান্ত না করার কারণ চলতি দায়িত্বে টিকিয়ে রাখা। উপমহাপরিদর্শকের ১৫টি পদে পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ করেছেন এমন কর্মকর্তার সংখ্যা দ্বিগুণ হলেও যারা পদোন্নতি পাবেন না তাদের চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে বাণিজ্য করছে একটি সিন্ডিকেট। মেধা তালিকায় পেছনে থাকা কর্মকর্তারা সিন্ডিকেটকে এককালীন ও মাসে মাসে বিপুল অর্থের বিনিময়ে জুনিয়র কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব নিচ্ছেন। এ সিন্ডিকেটের কারণেই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানায় অগ্নিকান্ডের পরও সেখানে কর্মরত কোনো এআইজি, ডিআইজি বা অন্য কোনো কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়নি। গত জুন মাসে নারায়ণগঞ্জের হাসেম ফুডের কারখানায় অগ্নিকা-ে ৫২ জন নিহত হলেও এখনো কাউকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো সাময়িক শাস্তি দেওয়া হয়নি। বরং দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় আহমেদ বেলালকে গাজীপুরের মতো শিল্পঘন জেলায় প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে উপমহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব দিয়ে পদায়ন করা হয়। ৩৩তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া এ কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে এ বছরের শুদ্ধাচার পুরস্কারও।

অর্থ বিভাগের অনুমতি ছাড়াই চলতি দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তা নিচ্ছেন অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা। চলতি দায়িত্বের অতিরিক্ত কাজের জন্য এসব কর্মকর্তা প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন। অথচ নিয়ম হচ্ছে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সুপারিশের পর প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় চলতি দায়িত্ব পাওয়ার তারিখ উল্লেখ করে আদেশ জারি করবে। আদেশ জারির ছয় মাস পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যকর ভাতা পাবেন। ছয় মাস অতিক্রান্ত হলে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নেওয়ার বিধান থাকলেও কোনো কর্মকর্তা তা নেননি। নিয়ম না মেনে সিনিয়র কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে জুনিয়র কর্মকর্তাদের উপমহাপরিদর্শকের চলতি দায়িত্ব প্রদান করায় কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের জুনিয়রের অধীনে পদায়ন করায় দপ্তরে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, বিধিবহির্ভূতভাবে অসংখ্য সিনিয়রকে ডিঙিয়ে জুনিয়রকে পদায়ন করায় নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। জুনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘যেকোনো উপায়ে’ ঊর্ধ্বতন পদে চলতি দায়িত্ব বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফলে চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলতি দায়িত্ব নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। আমরা সমাধানের জন্য কাজ করছি।’

শুধু সরকারি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনই নয়, সরকারের প্রায় প্রতিটি সংস্থা, দপ্তরেই চলতি দায়িত্ব বা অতিরিক্ত দায়িত্বের জনবল রয়েছে। এসব দপ্তরে সঠিক সময়ে পদোন্নতি না দিয়ে চলতি দায়িত্ব দিয়ে অফিস পরিচালনা করা হয়। পরিসংখ্যান ব্যুরোর আওতাধীন মাঠপর্যায়ের জেলা কার্যালয়গুলোতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে উপপরিচালক পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দপ্তরের ২৬টি উপপরিচালকের পদ চলতি দায়িত্ব প্রদানের পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে দিয়ে পূরণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রায় ১৮টি উপপরিচালকের পদে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে জুনিয়র পরিসংখ্যান কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।

চলতি দায়িত্বের অনিয়ম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও রয়েছে। মন্ত্রণালয়টি গত ১০ আগস্ট ১৯ জন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্ন মিশনে পাঠিয়েছে। চলতি দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এখানেও বিধিবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

গত ১৯ আগস্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ৫৯ জন কর্মকর্তাকে তাদের বিরুদ্ধে দুর্র্নীতির কোনো অভিযোগ না থাকার সনদ দিয়েছে। এসব কর্মকর্তার বেশিরভাগই চলতি দায়িত্বে কাজ করছেন।