স্বাস্থ্যের সেই সাবেক গাড়িচালক মালেকের ৩০ বছরের কারাদণ্ড|316853|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
অস্ত্র মামলার রায়
স্বাস্থ্যের সেই সাবেক গাড়িচালক মালেকের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
আদালত প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যের সেই সাবেক গাড়িচালক মালেকের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল টাকার মালিক হওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক গাড়িচালক আব্দুল মালেককে অস্ত্র আইনের মামলায় ৩০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারক অস্ত্র ও গুলি রাখার অপরাধে আসামি আব্দুল মালেককে অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় ১৫ বছর এবং ১৯ (এফ) ধারায় আরও ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে দুটি সাজা একসঙ্গে চলবে বলে মালেককে ১৫ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সালাউদ্দিন হাওলাদার এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম বলেছেন, রায়ে তারা সংক্ষুব্ধ। আসামিপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে মালেকের মা আয়েশা সিদ্দিকা বিলাপ করতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে নির্দোষ। তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।’

সেখানে মালেকের স্ত্রী বলেন, ‘তাকে (মালেক) যখন আটক করা হয়েছিল তখন তার কাছে কিছু পাওয়া যায়নি, পরে তাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।’

রায়ের পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় মালেকও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হলো।’

অবৈধ অস্ত্র রাখা, জাল নোটের কারবার ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকার তুরাগ থানার কামারপাড়া এলাকার বাসা থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক মালেককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তখন তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, জাল দেড় লাখ বাংলাদেশি টাকা, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের কথা জানানো হয়। ওই ঘটনায় র‌্যাব-১ এর পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। এর মধ্যে অস্ত্র মামলায় গত ১১ জানুয়ারি মালেকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর এসআই মেহেদী হাসান চৌধুরী। আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আদালত গত ১১ মার্চ এই মামলার বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আব্দুল মালেক ওরফে বাদল খুবই প্রভাবশালী। তিনি বাংলাদেশ সরকারি গাড়িচালক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মচারী সমিতির সভাপতি হিসেবে প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মস্থলে সাংগঠনিক পদবি কাজে লাগিয়ে তিনি বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন এবং তিনি জাল টাকার কারবারও করতেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার ১ নম্বর মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ১৩ জন সাক্ষীর সবাই আদালতে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দেন। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলার অবশিষ্ট অংশ বিচারের জন্য ৪ নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালে পাঠানো হয়। সেখানে ৯ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন আসামি মালেক।