‘মোবাইল ছিনতাই’ করতে শিশুকে হত্যা, কিশোর আটক|317082|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১০:০৮
‘মোবাইল ছিনতাই’ করতে শিশুকে হত্যা, কিশোর আটক
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

‘মোবাইল ছিনতাই’ করতে শিশুকে হত্যা, কিশোর আটক

মাদারীপুরের শিবচরে মোবাইল ফোন ছিনতাই করতে গিয়ে এক শিশুকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হত্যার চেষ্টাকালে আহত হয়েছে আরও এক শিশু। এ ঘটনায় এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত রতন (৮) শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের তাহের আকনের চর কান্দী গ্রামের জসিম মোল্লার ছেলে ও আহত নয় বছর বয়সী সোহান একই গ্রামের নাসির শিককদারের ছেলে।

এ সময় মেহেদী হাচান কায়েস নামে ১৯ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়।

সে শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়খন্ড ইউনিয়নের কাচাই মাতবরের কান্দি গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়ার ছেলে।

গত দেড় মাস আগে সে কদিরপুর ইউনিয়নের তাহের আকনের চর কান্দী গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে রেস্টুরেন্টে গ্রিল খাওয়ানোর কথা বলে রতন ও সোহান নামে দুই শিশুকে ফুসলিয়ে ঢাকা ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের শিবচরের কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন ও শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী সীমানা নামক স্থানে (পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়কের) কাছে নিয়ে আসে মেহেদী হাসান কায়েস।

এরপর সোহানকে খাবার আনার কথা বলে দূরে রেখে রতনকে রাস্তার ধারে একটি গাছের নিচে নিয়ে যায়। সেখানে রতনের কোমরে থাকা প্যান্টের বেল্ট গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। কিছুক্ষণ পরে সোহানকে নিয়ে কায়েস কাঁঠালবাড়ি ঘাট সংলগ্ন বালুর মাঠে নিয়ে গলায় বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় সোহান চিৎকার করলে কায়েস পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন সোহানকে উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ি এলাকায় তার নানা বাড়ি নিয়ে যায়। পরে তার আত্মীয়স্বজনরা শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিবচর থানায় নিয়ে যান।

পরে সোহানের দেওয়া তথ্যমতে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিবচর থানা-পুলিশ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কায়েসকে তার নানা বাড়ি এলাকা থেকে আটক করে।

এ সময় কায়েস প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে রতনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে কায়েসকে সাথে নিয়ে ঢাকা ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কাঁঠালবাড়ী এলাকায় দীর্ঘক্ষণ খোঁজ করার পর রাত ১২টার দিকে রতনের মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

নিহত রতনের মা জরিনা বেগম বলেন, বিকেল ৫টার দিকে দেখলাম রতন ও সোহান আমাদের বাড়ির পাশে নাচতেছে আর কায়েস সোহানের মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছে। এ সময় আমি ওখানে গেলে ওরা অন্যত্র চলে যায়। এরপর আমি ছাগলের জন্য ঘাস আনতে যাই। বাড়ি এসে ওদের কারও খোঁজ পাইনি।

‘সন্ধ্যা হয়ে গেলে আমরা রতন ও সোহানকে না পেয়ে দুই পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে সোহানের মা সোহানের নানা বাড়ি ফোন দিলে ঘটনা শুনতে পান। আমার রতনকে কায়েস মেরে ফেলছে।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. আনিছুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে হত্যাকাণ্ডটি মোবাইল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তবে আমরা তদন্ত করে দেখবো এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না।