জখম সিনহার ছবি তুললে পুলিশ ফোন কেড়ে নেয়: সার্জেন্ট আইয়ুব আলী|317167|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:৪২
জখম সিনহার ছবি তুললে পুলিশ ফোন কেড়ে নেয়: সার্জেন্ট আইয়ুব আলী
কক্সবাজার প্রতিনিধি

জখম সিনহার ছবি তুললে পুলিশ ফোন কেড়ে নেয়: সার্জেন্ট আইয়ুব আলী

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার তৃতীয় দফা সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। চতুর্থ দফায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৮, ২৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছে আদালত।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। এদিন মামলার অন্যতম সাক্ষী সেনা কর্মকর্তা সার্জেন্ট আইয়ুব আলী, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহীন আবদুর রহমান ও মোক্তার আহমদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। এ নিয়ে এই পর্যন্ত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়েছে।  

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  

পিপি ফরিদুল আলম বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী বিচারকে দীর্ঘ করতে আদালতে বারবার বিভিন্ন অজুহাতে দরখাস্ত দিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার আরও একটি দরখাস্ত দেন। কিন্তু, দেশের একটি বড় সংস্থার গোপন নথি চাওয়ায় আদালত দরখাস্তটি নাকচ করে দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত জানান, মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের সময় এক সামরিক সংস্থার গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে যে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছিল, ওই প্রতিবেদনটি চেয়ে আমরা আদালতের কাছে দরখাস্ত দিয়েছি। আদালত তা নাকচ করেছেন। এছাড়াও মামলার সাক্ষী সেনা কর্মকর্তা সার্জেন্ট আইয়ুব আলীকে আমরা জেরা করা থেকে বিরত থেকেছি।

সার্জেন্ট আইয়ুব আলী এদিন আদালতে বলেন, ‘আমি রামু সেনানিবাসে কর্মরত ছিলাম। ঘটনার দিন ৩১ আগস্ট আমি কমান্ডারের নির্দেশ পেয়ে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্ট যাই।’

তিনি বলেন, সেখানে ওসি প্রদীপ, এসআই লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলালসহ এপিবিএনের তিন সদস্য ও থানা থেকে আসা এক দল পুলিশকে দেখতে পাই। পুলিশ চেকপোস্টের বাইরে চুল লম্বা এক ছেলেকে (সিফাত) হাত ও চোখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাই।’

সার্জেন্ট আইয়ুব আলী আরও বলেন, ‘চেকপোস্টের উত্তর পাশে একটি ডামপার ট্রাক কক্সবাজারমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়িতে আর্মির কমব্যাট পোশাক পড়া গুরুতর জখম এক লোককে শোয়া অবস্থায় দেখতে পাই। আমি কাছে গিয়ে তাকে ভালোভাবে চেনার চেষ্টা করি। মুখ দেখে তাকে সহজেই চিনতে পারি। আহত স্যার এসএসএফে চাকরি করেছেন বিধায় তাকে অনেকবার দেখেছি। তার নাম মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। তখন আমি আমার ব্যক্তিগত মোবাইল দিয়ে ছবি তুলি। তখন পুলিশ সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আমার পরিচয় জানতে চায়। আমার পরিচয় জানানোর পরও তারা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আমাকে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেয়।’

এর আগে গত ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট টানা তিন দিন মামলার প্রথম দফায় ১নং সাক্ষী ও বাদী শারমিন সাহরিয়া ফেরদৌস ও ২নং সাক্ষী সাহেদুল ইসলাম সিফাতের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা হয়। একইভাবে গত ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর টানা ৪ দিনে দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। বুধবার তৃতীয় দফার শেষদিন পর্যন্ত ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন।

গত বছর ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় গত বছর ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও বাহারছড়া তদন্ত সাবেক ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লিয়াকত আলীকে। আদালত মামলার তদন্ত ভার দেয়া হয় র‌্যাবকে।

ঘটনার ৬ দিন পর ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতসহ ৭ পুলিশ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি এবং রামু থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

পরে র‌্যাব পুলিশের দায়ের মামলার ৩ সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এর ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় টেকনাফ থানা-পুলিশের সাবেক কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে। সর্বশেষ গত ২৪ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন টেকনাফ থানার সাবেক এএসআই সাগর দেব।

গত বছর ১৩ ডিসেম্বর র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের তৎকালীন দায়িত্বরত সহকারী পুলিশ সুপার খাইরুল ইসলাম ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

গত ২৭ জুন আদালত ১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এতে সাক্ষী করা হয় ৮৩ জনকে।