সাত বছরে এক টাকাও দিতে পারেনি ইন্টারকন্টিনেন্টাল|317256|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
সাত বছরে এক টাকাও দিতে পারেনি ইন্টারকন্টিনেন্টাল
তোফাজ্জল হোসেন রুবেল

সাত বছরে এক টাকাও দিতে পারেনি ইন্টারকন্টিনেন্টাল

আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করলেও এর আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। আধুনিকায়নের জন্য তারা অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৫৭৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়। মাসিক কিস্তি হিসেবে ঋণ পরিশোধ করার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো টাকা পরিশোধ করতে পারেনি হোটেল কর্তৃপক্ষ। ফলে ঋণের আসল টাকা আর সুদ মিলে এখন তা প্রায় ৮৫০ কোটি টাকার মতো দাঁড়িয়েছে। বৈশি^ক মহামারী করোনার ধাক্কায় প্রতি মাসেই লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের (বিএসএল) মালিকানাধীন এ হোটেলটি করোনার ধাক্কা সামলে কবে লাভজনক অবস্থায় আসবে তাও বলতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা।

বিএসএলের সচিব (যুগ্ম সচিব) নাজমুস সাদাত সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল আধুনিকায়নের সময় ধাপে ধাপে মোট ৫৭৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। সে টাকার কোনো কিস্তি পরিশোধ করা যায়নি। তা এখন বেড়ে সর্বসাকল্যে ৮০০ কোটি টাকার বেশি হবে। স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলে আমরা নিয়মিত কিস্তি দিতে পারতাম। এখন সেই অবস্থায় কর্তৃপক্ষ নেই। পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর এ হোটেলে প্রতি মাসে রক্ষণাবেক্ষণসহ সব মিলিয়ে দুই-আড়াই কোটি লাগে। সেটাও পুরোপুরি আসছে না। তাই ব্যাংকের কিস্তির টাকাও বকেয়া পড়েছে। আমরা নানাভাবে এ লোকসান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি।’

নতুন রূপে ইন্টারকন্টিনেন্টালের যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে। রূপসী বাংলার পর এটি নতুন রূপে নির্মাণ করতে খরচ হয়েছে ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩০ কোটি আর অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে ৫৭৪ কোটি টাকা। বিশাল এ ঋণের জন্য প্রতি মাসে ৩ কোটি টাকা সুদসহ মোট ৭ কোটি টাকা কিস্তি দিতে হয়। কিন্তু ঋণ নেওয়ার পর থেকে একটি কিস্তিও দিতে পারেনি সংস্থাটি। ফলে সব মিলিয়ে ব্যাংকের কাছে তাদের ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা। ইন্টারকন্টিনেন্টাল ছাড়াও বিএসএলের মালিকানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে লোকসান হচ্ছে। সব মিলিয়ে করোনার কারণে এ সংস্থাটি প্রায় ৮০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, ইন্টারকন্টিনেন্টালটি মূল ভবন বাদে নকশা থেকে শুরু করে সাজসজ্জা, থাকার কক্ষ, রেস্তোরাঁ, হলরুমের অবয়ব পরিবর্তন করা হয়েছে। এমনকি প্রবেশপথও। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, আসবাবপত্র, নকশা ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে হোটেলটিতে। আগে যেখানে হোটেলটির গ্র্যান্ড বলরুম ছিল, সেখানে এখন গড়ে তোলা হয়েছে সুবিশাল এলিমেন্টস রেস্তোরাঁ। খোলামেলা সুসজ্জিত এ রেস্তোরাঁয় রয়েছে ইতালি, ভারতীয়, কন্টিনেন্টাল, প্যান এশিয়ান ও জাপানি নানা ধরনের খাবারের বিশাল আয়োজন। হোটেল অভ্যন্তরে রয়েছে ছোট-বড় আরও চারটি রেস্তোরাঁ। স্থানান্তর করা হয়েছে সুইমিংপুলও। নিচতলা থেকে সরিয়ে এটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দোতলায়।

কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রায় ১৩ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত হোটেলটি প্রথম চালু হয় ১৯৬৬ সালে। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত এটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। ১৯৮৪ সাল থেকে যুক্ত হয় শেরাটন কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালে শেরাটন চলে যাওয়ার পর সরকারি উদ্যোগে রূপসী বাংলা নামে এটি পরিচালিত হলেও ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে চালু হলো ইন্টারকন্টিনেন্টাল। এখন কক্ষসংখ্যা ২২৬টি। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকায় হোটেলটি পুরোদমে চালু হওয়ার পর প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৩ কোটি টাকা আয় হতো। এ থেকে ব্যাংক ঋণের কিস্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিস চার্জ বাবদ অর্থ পরিশোধ করার পরও বিপুল পরিমাণ অর্থ তহবিলে জমা হতো। কিন্তু দেশে করোনারভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে লোকসান গুনতে হচ্ছে।