দুদিন ধরে সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে|317257|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
দুদিন ধরে সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুদিন ধরে সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে

গত দুদিন ধরে দেশে করোনার সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ ও তার আগের দিন ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। গত সাড়ে ৬ মাস পর আবার শনাক্ত হার পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে এলো। সর্বশেষ এ বছরের ৮ মার্চ শনাক্ত হার ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ ছিল।

শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসাকে দেশে করোনা পরিস্থিতি ‘এপিডেমিক (মহামারী)’ পর্যায় থেকে ‘এন্ডেমিক (স্থানীয় পর্যায়ে রোগ)’ পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শনাক্ত হার এক শতাংশের নিচে নেমে এলে এবং সেটা অন্তত দুই সপ্তাহ স্থির থাকলে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া যাবে।

অবশ্য করোনা শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে নেমে আসা মানেই দেশ থেকে কভিড চলে গেছে- এমনটা ভাবা যাবে না বলে মত দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, দেশে করোনা পজিটিভ রেট ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তার মানে এই নয় যে, বাংলাদেশ থেকে কভিড চলে গেছে। এমন অবস্থায় আমাদের সবাইকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আমরা খেয়াল করেছি, অনেকেই মাস্ক পরছেন, কিন্তু সঠিকভাবে পরছেন না। নাকের নিচে পরছেন অথবা ঠিকভাবে পরছেন না। সবাইকে মাস্ক সঠিকভাবে পড়তে হবে।

অধিদপ্তরের এই মুখপাত্র বলেন, দেশের মানুষের কাছে বিনীতে অনুরোধ থাকবে, বর্তমানে লকডাউন নেই, বিধিনিষেধেরও নেই। আপনারা অনেকে অনেক অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যাচ্ছেন। যেখানেই যান না কেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার করুন। প্রত্যেকে সঠিকভাবে মাস্ক পরুন। তাহলেই অনেক সেফটি পেয়ে যাবেন। দুপক্ষই যদি মাস্ক পরেন, তাহলে ৯৬ ভাগ সম্ভাবনা থাকবে একজন থেকে আরেকজন না যাওয়ার। যদি একজন মাস্ক পরেন এবং আরেকজন খুলে রাখেন তাহলে কিন্তু সংক্রমণের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বেড়ে যাবে।

অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বলেন, করোনা শনাক্তের হারে আমরা ভালো অবস্থানে এসেছি এবং এই ভালো অবস্থান থেকে আরও ভালো অবস্থানে যেতে চাই। আমরা ৫ শতাংশেও খুশি নই। বাংলাদেশ সরকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আমরা এটিকে শূন্যে নিয়ে আসতে চাই ও সে অবস্থা ২-৩ সপ্তাহ ধরে রাখতে চাই। তবেই হয়তো আমরা বলতে পারব, আমরা কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।

একদিনে মৃত্যু বেড়েছে : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২৬ জন। একদিনে ১০ জনের মৃত্যু বেড়েছে। তবে একদিনের ব্যবধানে রোগী শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৬ জন। এর আগের দিন শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৬২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৩ জনে ও মোট মারা গেলেন ২৭ হাজার ৩১৩ জন।

২২ দিন ধরে করোনার সংক্রমণ ১০ শতাংশের নিচে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ, যা আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার হয়েছে ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এরও আগে ১ সেপ্টেম্বর থেকে রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশের ঘরে আসে। এর দুদিন পর ৪ সেপ্টেম্বর তা ১০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। তারপর ৬  সেপ্টেম্বর করোনার সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের ঘরে আসে। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ৬-৭ সেপ্টেম্বর করোনার সংক্রমণের হার ৬ শতাংশের ঘরে থাকলেও ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে তা ৫ শতাংশের ঘরে চলে আসে। অর্থাৎ গত ২১ দিন ধরে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের নিচে। আর দুদিন ধরে তা ৪-এর ঘরে অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

ঢাকা বিভাগে মৃত্যু বেশি মৃত্যু : গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা (মহানগরসহ) বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে মারা গেছেন ১৪ জন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ১০ জন, রাজশাহীতে ২ জন, খুলনাতে ২ জন এবং সিলেট বিভাগে ২ জন মারা গেছেন। এছাড়া ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে ১ জন করে মারা যান। তবে বরিশাল বিভাগে কোনো মৃত্যু হয়নি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩৬ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৩০ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ৫ জন ও বাড়িতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

৪৮ জেলায় মৃত্যু নেই : গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৪৮ জেলায় করোনায় কোনো মৃত্যু হয়নি। অন্যান্য জেলার মধ্যে কুমিল্লায় ৪ জন, ফরিদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও সিলেটে ২ জন করে এবং অবশিষ্ট ২০ জেলায় ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন ও নারী ১৯ জন। এ নিয়ে করোনায় মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৭ হাজার ৫৫৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর নারী মারা গেছেন ৯ হাজার ৭৫৭ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে একজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে নয়জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে এক জন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন।      

অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪২৩ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৬৭৯ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন তিন লাখ ৭৮ হাজার ৫৩২ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন তিন লাখ ৩৪ হাজার ৬৮৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৪৩ হাজার ৮৪৬ জন।