নিয়োগ স্থগিত করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর|317282|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০
টিআইবির বিবৃতি
নিয়োগ স্থগিত করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিয়োগ স্থগিত করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার সাত মাস পর সেটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে বাতিলের কারণ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যা উল্লেখ করেছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলছে, ঘুষ নেওয়ার ঘটনা আড়াল করতে খাতায় অস্পষ্টতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে টিআইবি। গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে শুধুমাত্র ‘খাতায় অস্পষ্টতা পাওয়া গেছে’ উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় আদৌ দুর্নীতি হয়েছে কি না অথবা হয়ে থাকলে তাদের পরিচয় এবং কীভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে, তা অমীমাংসিত থেকে গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত যে প্রতিবেদনের আলোকে এ নিয়োগ বাতিল করা হলো, সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ প্রস্তাব করার অভিযোগ ছিল। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না বা জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নগুলো অবান্তর নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘টিআইবি মনে করে, দুর্নীতির যে ভয়াবহ বিস্তারের ইঙ্গিত ওই প্রতিবেদনে ছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণযোগ্য তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ আশা করা হয়েছিল। আমাদের আশঙ্কা, অনিয়মের তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ায় নিয়োগ বাতিল করে আপাতত বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কার্যত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটকেই টিকিয়ে রাখা হলো। পাশাপাশি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কথিত ‘ওপর মহলে’র যোগসাজশের সন্দেহটাও ঘনীভূত হলো।’

বিগত বছরগুলোতে যে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়ে টিআইবি প্রধান বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। বিশেষ এ পর্যন্ত যত ধরনের অভিযোগ এবং বিভিন্ন ব্যক্তি-গোষ্ঠীর নানামুখী স্বার্থ ও সংশ্লিষ্টতার কথা আলোচিত হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সামগ্রিক শুদ্ধি অভিযান এখন সময়ের দাবি।’