হলে ফিরছেন জাবি শিক্ষার্থীরা|320888|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২১ ১৪:২০
হলে ফিরছেন জাবি শিক্ষার্থীরা
জাবি প্রতিনিধি

হলে ফিরছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হলগুলো ৫৭০ দিন পর খুলে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৯টায় ফুল, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হালকা খাবার দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়।

এরপরই হলে প্রবেশ করতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, ‘হলগুলোতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যাতে স্বচ্ছন্দে হলে থাকতে পারে সে জন্য আমরা সচেতন রয়েছি। তাদের কক্ষগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য হলের স্টাফরা প্রস্তুত আছেন। তারা শিক্ষার্থীদের কক্ষ পরিষ্কারে সব ধরনের সহায়তা করবে।’

এদিকে হলে ফিরতে পেরে ক্যাম্পাসে উৎসবের হাওয়া লেগেছে। আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছালাউদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘১৮ মাস পর ক্যাম্পাসের হল খুলেছে, এতে আমরা খুবই আনন্দিত। নতুন করে সবার সাথে দেখা হচ্ছে, মনে হচ্ছে নতুন এক ধরনের প্রাণ পেয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রাধ্যক্ষরা বলছেন, প্রথম বর্ষের (৪৯তম ব্যাচ) সব শিক্ষার্থী এখনই হলে উঠতে পারছেন না। যাদের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং করোনার অন্তত এক ডোজ টিকা নিয়েছে তারা স্ব স্ব হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে হলে উঠতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট কোন কক্ষ নেই। তারা গণরুমে থাকেন। করোনার এই মহামারির মধ্যে গণরুম স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে। তাই যেসব শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে তাদের বিপরীতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠানো হবে। এ ক্ষেত্রে কিছুদিন সময় লাগবে।

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এতে কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, তারা ক্যাম্পাসে ক্লাস শুরুর পাঁচ দিন পরই মহামারির কারণে হল বন্ধ হয়ে যায়। দেড় বছর ধরে হলে ফেরার জন্য মুখিয়ে আছেন তারা। কিন্তু এখন হল খুললেও তারা উঠতে পারছেন না, এটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ও আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষ আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, করোনাভাইরাসের টিকা। যেসব শিক্ষার্থী করোনার টিকার অন্তত একটি ডোজ নিয়েছেন তারা হলে প্রবেশ করতে পারছে। যারা টিকা পাননি তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে টিকা নিয়ে শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আমাদের কাজটা সহজ হয়। আশা করছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’