হেফাজতকে যেন রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া না হয় |320889|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১১ অক্টোবর, ২০২১ ১৪:২২
হেফাজতকে যেন রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়

হেফাজতকে যেন রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়

মাওলানা নূরুল ইসলাম

মাওলানা নূরুল ইসলাম ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’-এর মহাসচিব। তার জন্ম ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। পড়াশোনা করেছেন চট্টগ্রামের নাজিরহাট ও হাটহাজারী মাদ্রাসায়। দীর্ঘদিন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন চট্টগ্রাম ও ঢাকায়। তিনি খিলগাঁও মাখযানুল উলুম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা এবং শায়খুল হাদিস-এর দায়িত্ব পালন করে আসছেন ১৯৮৪ সাল থেকে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থান, দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াবলি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তর সম্পাদকীয় বিভাগের এহ্সান মাহমুদ

দেশ রূপান্তর : ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ তাদের উপস্থিতি জানান দিয়েছিল। সেই ঘটনার আট বছর পরে বর্তমানে হেফাজতের সামর্থ্য আগের মতো আছে বলে মনে করেন কি?

মাওলানা নূরুল ইসলাম : ২০১৩-এর তুলনায় ২০২১-এসে হেফাজতের শক্তি-সামর্থ্য একই রকম আছে কিনা এটা একটা স্বাভাবিক প্রশ্ন। মানুষের জীবনেও জোয়ার-ভাটা বা উত্থান-পতন আসে। তেমনি হেফাজতের ক্ষেত্রেও উত্থান-পতন হয়েছে। কিন্তু হেফাজত যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে কোনো ভাটা নেই। হেফাজতের আগে যারা নেতৃত্বে ছিলেন, এখন যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যে কোনো ভাটা নেই। হেফাজতের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী-সমর্থক যারা রয়েছেন, তাদের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য থেকে সরে আসার মতো ঘটনা ঘটেনি। এখন মানুষের চোখে হয়তো কোনো সময়ে হেফাজতকে শক্তিশালী মনে হয়েছে আবার কোনো সময়ে দুর্বল মনে বলে মনে হয়েছে। এর বেশি মন্তব্য করা আমার ঠিক হবে না।

দেশ রূপান্তর : হেফাজত ১৩ দফা দাবি দিয়েছিল। ওই দাবি থেকে হেফাজত সরে এসেছে কি না?

মাওলানা নূরুল ইসলাম : হেফাজত যে দাবিগুলো দিয়েছিল, সেই দাবি থেকে এখনো সরে আসেনি। সবগুলো দাবি বাস্তবায়িত না হলেও বেশকিছু দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশেষ করে, ওই সময়ে নাস্তিক-ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতের যে অভিযোগ ছিল, যে দাবিগুলো ছিল, সেসবের অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়েছে। অতীতে যেমনটা হয়েছে আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল, কোরআন-হাদিসের ওপর কেউ কোনো আঘাত করলে হেফাজত যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করেছে, বর্তমানেও সেই অবস্থায় আছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের মোকাবিলা করা হবে।

দেশ রূপান্তর : ২০১৩-এর মে মাসের ঘটনার পরে তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী হাটহাজারীতে গিয়েছিলেন। সরকারের সঙ্গে এক ধরনের আপসমূলক অবস্থানে হেফাজতকে দেখা গেল। কওমি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সমমানের স্বীকৃতি দেওয়া হলো। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীকে ‘কওমি জননী’ উপাধি দেওয়া হলো। পুরো বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

মাওলানা নূরুল ইসলাম :  দেখেন, আপনার প্রশ্নের একটি অংশে মনে হতে পারে ২০১৩-এর শাপলা চত্বরের ঘটনার পরে হেফাজত ও সরকারের সম্পর্ক ভালো হয়েছে এবং তার আগে সম্পর্ক খারাপ ছিল। কিন্তু বলতে চাই২০১৩-এর আগেও সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক খারাপ ছিল না। আগেও সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু এর মধ্যে এই সম্পর্কে কালিমা লেপনের চেষ্টা হয়েছিল। আগে যে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ ছিল, পরে ভালো হয়েছে এটা ঠিক না। আমি বলব, ওই ঘটনার পরে আবার পুরনো সম্পর্ক নতুনভাবে শুরু হয়েছে। কওমি শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের আমলেও আলাপ হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবেই স্বীকৃতির জন্য একটি আলাপ চলে আসছিল। কিন্তু বাস্তবায়িত হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে, তার সরকারের সময়ে।

দেশ রূপান্তর : হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর অবর্তমানে সংগঠনের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে খবর পাওয়া গেছে। শফীর পুত্র মাওলানা আনাসকে কেন্দ্র করে এই বিভক্তির গুঞ্জন ছড়িয়েছে মূলত। এই বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই।

মাওলানা নূরুল ইসলাম : আমি আপনার কাছেই প্রশ্ন রাখতে চাই যদি বিভক্তি হয়ে থাকত তাহলে সেটা কোথায়? কোনো বিভক্তির খবর আমার জানা নেই। আহমদ শফীর সময়েও হেফাজতের একটি কমিটিই ছিল, এখনো একটি কমিটিই আছে। কোনো বিভক্তি তো নেই। মাঝেমাঝেই গণমাধ্যমে দেখি হেফাজত বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আবার কেউ কেউ বলেন, আমরা শফীপন্থি। আসলে এসব কথার পক্ষে আমি নই। আমরা সবাই আল্লাহ ও রাসুলপন্থি, ইসলামপন্থি। এখানে আলাদা করে শফীপন্থি বলাটা ঠিক না। আমাদের শ্রদ্ধেয় মাওলানা শাহ আহমদ শফী যতদিন ছিলেন, তিনি তো কখনো কাউকে শফীপন্থি বলে আলাদাভাবে বিবেচনা করেননি। তাহলে এখন এসব কথা কেন বলা হবে! হেফাজতে কোনো বিভক্তি নেই, আগেও ছিল না।

দেশ রূপান্তর : হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে আটকের আগে এবং পরে সারা দেশ থেকে হেফাজতের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে আটক করা হলো। এখন ধীরে ধীরে কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে আসছেন। হঠাৎ সরকার হেফাজতের নেতাকর্মীদের কেন আটক করল বলে মনে করেন?

মাওলানা নূরুল ইসলাম : এখানে কথা হচ্ছে সরকার যাদের আটক করেছে, তাদের হেফাজতের নেতাকর্মী হিসেবে আটক করেনি। হরতালের সময়ে অল্প কিছু জায়গায় ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে কিছু অদৃশ্য অশুভ শক্তি, যারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এমন কাজ করেছে। সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক খারাপ করার জন্য এই কা- ঘটানো হয়েছে। এরপরেই হেফাজতের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। আমি মনে করি, যেসব অভিযোগে হেফাজতের নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে, সেসব অভিযোগের খুব বেশি সত্যতা নেই। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি, তাকে জানিয়েছি, যে সব অভিযোগে আমাদের নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে তা পুরোপুরি সঠিক নয়। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের কথা শুনেছেন, তিনি বলেছেন, বিবেচনায় আনা হবে। এখন ধীরে ধীরে নেতাকর্মীদের জামিন হচ্ছে। আমি ধারণা করছি পর্যায়ক্রমে সবাই জামিন পাবেন। শুধু আটক নেতাকর্মীদের জামিন করানোর জন্যই নয়, করোনার সময়ে আমাদের মাদ্রাসাগুলো বন্ধ ছিল, মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার বিষয়েও আমরা কথা বলেছিলাম। মন্ত্রী বলেছিলেন মাদ্রাসা খুলে দিতে আমাদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করা হবে। পরে আমাদের মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। আমরাও ধন্যবাদ জানিয়েছি। 

দেশ রূপান্তর : আটক নেতাকর্মীদের আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তির বিষয়ে হেফাজতের কেন্দ্র থেকে আশানুরূপ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন আটক নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা।

মাওলানা নূরুল ইসলাম : এটা ঠিক না। আটক নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না এমন কথা আমি বলতে পারব না। নেতাকর্মীদের ছাড়িয়ে আনার জন্যই তো আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আইনি সহায়তা অব্যাহত আছে। এখন কোনো পরিবার যদি বলে থাকে, আমরা তাদের পাশে থাকছি না, তাহলে আমার বলার এটুকুই আছে যেআমাদের দ্বারা প্রত্যেকের ঘরে ঘরে গিয়ে বলা সম্ভব না যে, আমরা কাজ করছি। তবে যে সব নেতাকর্মী আটক রয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক, কারণ তাদের পরিবারের সদস্যরা আটক আছেন। তাই তাদের ক্ষোভ থাকতেই পারে। তবে এ কথা বলা যাবে না যে, হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি আটক নেতাকর্মীদের মুক্ত করতে চেষ্টা করছে না। 

দেশ রূপান্তর : মামুনুল হককে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রিসোর্ট কাণ্ড বেশ আলোচিত হয়েছিল দেশব্যাপী। ওই ঘটনায় হেফাজতের পক্ষ থেকে মামুনুল হকের কাছে কোনো জবাবদিহি কিংবা ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল কি?

মাওলানা নূরুল ইসলাম : এখানে প্রথম কথা হচ্ছে, মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা একেবারেই তার ব্যক্তিগত ঘটনা। ওই ঘটনার সঙ্গে হেফাজতের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবুও পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় হেফাজত এটা নিয়ে বসেছিল। হেফাজতের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সন্দেহ ছিলযে নারীর সঙ্গে মামুনুল রিসোর্টে গিয়েছিলেন, সেই নারী আসলে তার স্ত্রী কি না। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যই আমরা বসেছিলাম। তিনি বৈধ স্ত্রী কি না, সেটা যাচাই করার জন্য সবাই এক জায়গায় বসেছিলেন। সেখানে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জামিয়া রাহমানিয়ায় সব নেতা উপস্থিত হয়েছিলেন। সবার সামনে বৈঠকে উপস্থিত হয়ে মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ওই নারী শরিয়ত মোতাবেক তার বৈধ স্ত্রী। কেন্দ্রীয় নেতারাও বুঝতে পেরেছেন, রিসোর্টে যেই নারীকে নিয়ে তিনি গিয়েছিলেন সেই নারী তার বৈধ স্ত্রী। ওই ঘটনার পরে হেফাজতের পক্ষ থেকে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, পদক্ষেপ নেওয়া সমীচীন নয় বলে মনে করেছেন আলেম-ওলামারা। ওটা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়।

দেশ রূপান্তর : কিন্তু আমরা দেখছি যে, ওই নারীর দায়ের করা মামলায় এখন তার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। তাহলে বৈধ স্ত্রী বিষয়ে আপনাদের অবস্থানের ব্যাখ্যা থাকছে কি?

মাওলানা নূরুল ইসলাম : এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। এটা মামুনুল হক এবং ওই নারীর ব্যাপার। এখানে হেফাজতের কোনো বিষয় জড়িত নয়। এই বিষয়টি নিয়ে হাটহাজারীতেও সভা হয়েছিল, যদিও সেই সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম না। তবে সেখানেও একই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই নারী শরিয়ত মতে মামুনুল হকের স্ত্রী বলে সবাই মত দিয়েছেন। বলা হয়েছেএটা মামুনুল হকের ব্যক্তিগত বিষয়। মামুনুল হক যদি হেফাজতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো কাজে বিঘ্ন ঘটাতেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতেন তাহলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। যেহেতু বিষয়টি ওই নারীর এবং মামুনুল হকের, তাই এর সমাধান এখন আইনিভাবেই ঘটতে হবে। এখানে হেফাজতের করার কিছু নেই।

দেশ রূপান্তর : হেফাজত প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বলে আসছে এটি অরাজনৈতিক সংগঠন। হেফাজতের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষও নেই। কিন্তু, বিভিন্ন সময়ে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় আগামী নির্বাচন সামনে রেখে হেফাজতকে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যাবে কি?

মাওলানা নূরুল ইসলাম : হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এর প্রতিষ্ঠাতা আমির আমাদের শ্রদ্ধেয় আহমদ শফী এবং মহাসচিব ছিলেন শ্রদ্ধেয় জুনায়েদ বাবুনগরীএরা দুজনেই জীবিত থাকাবস্থায় বারবার বলেছেন, হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ইসলামের খেদমতেই এটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে আল্লাহ, রাসুল এবং কোরআন-হাদিসের হেফাজত রক্ষার্থে। কোনো সরকারের বিরোধিতা বা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করার জন্য হেফাজত প্রতিষ্ঠা হয়নি। বাবুনগরী সাহেব বারবার বলেছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় আনা, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতা থেকে নামানো এসব হেফাজতে ইসলামের কাজ না। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অতীতেও হেফাজত অরাজনৈতিক ছিল, ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। কোনো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের কোনো বিশেষ পরিকল্পনা নেই।

দেশ রূপান্তর : সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থান দেখেছে বিশ্ব। তারাও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কথা বলছে। সরকারও গঠন করেছে ইতিমধ্যে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

মাওলানা নূরুল ইসলাম : বাংলাদেশেও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আছে। তবে তাদের সঙ্গে হেফাজতকে মেলালে হবে না। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলসমূহের কর্মসূচি বা লক্ষ্য আর হেফাজতের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এক নয়। হেফাজতের এমন কোনো লক্ষ্য নেই যে, রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা দখল করতে হবে। হেফাজত কেবল চায়, ইসলামের জন্য অবমাননাকর কিছু যাতে না হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন তিনি করবেন না। এই দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের দেশ। ইসলামি দেশ না হলেও এখনো রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রয়েছে, এটা আমরা জানি। যখন যে সরকারই আসুক না কেন ইসলামের পক্ষেই থাকবে হেফাজতের অবস্থান। এর বাইরে অন্য কোনো রাজনৈতিক আকাক্সক্ষা হেফাজতে ইসলামের নেই। তাই আফগানিস্তানে যেভাবে তালেবানের উত্থান হয়েছে, এটার সঙ্গে আমাদের দেশের হেফাজতকে মেলানো ঠিক হবে না।

দেশ রূপান্তর : হেফাজতের মহাসচিব হিসেবে জনগণের প্রতি আপনার কোনো বার্তা আছে কি না?

মাওলানা নূরুল ইসলাম : এই দেশের সব রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী যারা রয়েছেন, দেশ নিয়ে যারা ভাবেন, নানা কাজ করেন, সবার প্রতি আহ্বান থাকবে হেফাজতকে যেন রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়। হেফাজতকে যেন রাজনৈতিক দল হিসেবে মূল্যায়ন করা না হয়। ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ হচ্ছে ইসলামের পক্ষে একটি সংগঠন। আমি কামনা করি এই সংগঠনে দেশের ও জাতির সব দলের সব মুসলমানরা অংশগ্রহণ করবে এবং ইসলামের পক্ষে কাজ করবে।