ডিবি কার্যালয়ে মুসা বিন শমসের|321125|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ অক্টোবর, ২০২১ ১৬:০৯
ডিবি কার্যালয়ে মুসা বিন শমসের
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিবি কার্যালয়ে মুসা বিন শমসের

ফাইল ছবি

তলবে সাড়া দিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়ে গেছেন ধনকুবেরখ্যাত মুসা বিন শমসের।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ২৫মিনিটে তিনি মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

মেরুন রঙের প্রাইভেটকার নিয়ে ডিবি’র অতিরিক্ত কমিশনারের অফিসের সামনে গিয়ে নামেন মুসা বিন শমসের।

অতিরিক্ত সচিবের ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার আবদুল কাদেরকে তার মুখোমুখি করার কথা রয়েছে।

সম্প্রতি গ্রেপ্তার কাদের নিজেকে মুসা বিন শমসেরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অ্যাডভাইজার হিসেবে পরিচয় দিতেন।

এছাড়া প্রতারক কাদেরের সঙ্গে কিছু লেনদেন ও কথোপকথনের সূত্র ধরে তাদের মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ডিবি।

এর আগে গত রবিবার দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে মুখোমুখি করা হয় মুসা বিন শমসেরের ছেলে জুবি মুসা ও কাদেরকে।

তখন জুবি মুসা দাবি করেন, তার বাবার বয়স হয়েছে। সে মনখোলা মানুষ। কাদের এ সুযোগ নিয়েছেন। যখন বিষয়টি তাদের পরিবার জানতে পারে তখন থেকে কাদেরের সঙ্গে তার বাবার সম্পর্ক ছিন্ন হয়।

গত ৭ অক্টোবর রাজধানীর কারওয়ানবাজার, মিরপুর এবং গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও প্রতারণার বিপুল আলামতসহ গ্রেপ্তার করা হয় কাদেরকে।

এ সময় তার তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন কাদেরের দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, অফিস ম্যানেজার শহিদুল আলম ও আনিসুর রহমান।

কাদেরের আদি বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে। তার বাবা জীবিকার সন্ধানে সন্দ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন। মাছ ধরে ও মাঝির কাজ করে জীবিকা উপার্জন করতেন।

এমন ভূমিহীন ভাসমান আবদুল কাদেরের ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এর মধ্যে গুলশান-১ নম্বরের জব্বার টাওয়ারের প্রায় ৬ হাজার স্কয়ার ফুট আয়তনের অফিস রয়েছে। কারওয়ানবাজারেও রয়েছে আরও একটি অফিস।

মিরপুর-৬ নম্বরে বসবাস করলেও একাধিক ফ্ল্যাট, গাজীপুরে বাগানবাড়ী, বহুতল ভবন রয়েছে কাদেরের। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকে রয়েছে তার একাধিক অ্যাকাউন্ট।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাদেরের অপকর্মের সহায়তাকারী বেশ কিছু দালালের তথ্য পেয়েছে ডিবি। এসব দালালই ব্যাংক লোন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ পেতে স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যাংক গ্যারান্টি, সাব-কন্ট্রাক দেওয়া, চাকরি পাইয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজের জন্য ক্লায়েন্ট জোগাড় করত। ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে কাদের বিভিন্নভাবে যে টাকা বাগিয়ে নিতেন তার পারসেন্টেজ পেত দালালরা।

এছাড়া ক্লায়েন্ট জোগাড়ে মার্কেটিং অফিসারও নিয়োগ করেছিলেন কাদের। প্রতারণার মাধ্যমে কামানো টাকা দিয়ে গড়া অবৈধ অঢেল সম্পদ, বাগানবাড়ী, ফ্ল্যাটের পাশাপাশি বেশ কিছু জমি ও ফ্ল্যাটের বায়নার তথ্য পেয়েছে ডিবি।