আপত্তি জটিলতার অবসান|321397|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০
আপত্তি জটিলতার অবসান
সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম

আপত্তি জটিলতার অবসান

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশের নকশা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (সিডিএ) মধ্যে জটিলতার অবসান হয়েছে। নগরীর লালখানবাজার থেকে টাইগারপাস মোড় পর্যন্ত অংশের নকশা নিয়ে চসিক যে আপত্তি জানিয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। বর্তমানে ৩২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির পুরোদমে নির্মাণকাজ চলছে। তবে নির্মাণকাজের কারণে প্রকল্পস্থলে জনভোগান্তি চরম আকার নিয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে যানজট এখন নিত্যসঙ্গী।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে অনেক প্রকল্পের কাজ থমকে গেলেও নগরীর লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মাণাধীন চারলেনের প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫৪ ফুট প্রস্থের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের কাজ থেমে ছিল না। চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মাঝখানে বারিক বিল্ডিং থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত অংশের অ্যালাইনমেন্ট নিয়েও কিছুটা জটিলতা দেখা দিয়েছিল, সেটিরও সমাধান হয়েছে। এরপর গত ২১ জুন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টাইগারপাস থেকে লালখানবাজার অংশের নকশার আপত্তি জানিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, চসিকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আপত্তির বিষয়টি গত সপ্তাহে সমাধান হয়েছে। আগের নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ হবে। নকশা অনুযায়ী টাইগারপাস এলাকায় কোনো পাহাড় কাটা হবে না। ইতিমধ্যে প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মধ্যে দশ কিলোমিটারের বেশি অংশে নির্মাণকাজ হয়েছে। ৩৭৯টি পিলারের মধ্যে আড়াই শতাধিক পিলার বসানো হয়েছে। পাশাপাশি ৪ শতাধিক গার্ডার বসানো হয়েছে। বন্দরের আপত্তির অংশটি নতুন অ্যালাইনমেন্টে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৬০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্নের এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ শেষ হবে এমন আশাবাদের কথা জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে বিমানবন্দর থেকে দেওয়ানহাট আসতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ১৫-২০ মিনিট। তখন নগরীতে যানজট অনেকাংশেই কমে যাবে।’

সম্প্রতি নগরীর দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারিক বিল্ডিং, ইপিজেড ও সল্টগোলা ক্রসিং এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলছে। ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পিলার ও গার্ডার বসানোর কাজ চলছে। কিন্তু এসব পিলারের পাশের সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে। এছাড়া সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের মাঝখানে এসব পিলার বসানোয় রাস্তা সংকুচিত হওয়ায় যান চলাচলে বিঘœ ঘটছে। এতে যানজট লেগেই আছে।

সড়কের করুণ দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দেওয়ানহাট এলাকার দোকানি মো. হাফেজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ হচ্ছে, বেশ ভালো। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জনভোগান্তির বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত ছিল। সিডিএ রাস্তার মাঝখানে টিনের ঘেরা দিয়ে পিলার বসাচ্ছে। কিন্তু ওই সড়কের যে যান চলাচল করতে পারছে না, রাস্তায় বড় বড় গর্ত হয়ে চলাচলে চরম ব্যাঘাত ঘটছে। তার নিরসন করা দরকার। কেননা বর্তমানে এই দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত বৃষ্টি হলে পুরো সড়ক কর্দমাক্ত আর রোদ থাকলে ধুলোবালি আর ধুলোবালি।’

জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিডিএ’র প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা দেখছি। এ বিষয়ে চসিকের সঙ্গেও আমাদের আলোচনা হয়েছে। নির্মাণকাজের দুর্ভোগের বিষয়টি সবাইকে একটু সুদৃষ্টিতে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সিডিএ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে ৩২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। অনুমোদনের দেড় বছর পর ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পটির পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের অধীনে নয়টি জংশনে ২৪টি র‌্যাম্প (গাড়ি ওঠানামার পথ) থাকার কথা রয়েছে।