পূজামণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী|321509|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০২১ ১৯:১২
পূজামণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

পূজামণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে: প্রধানমন্ত্রী

পূজামণ্ডপে অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের সরকার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে সবাইকে এক হয়ে চলার আহ্বান জানান।
সম্প্রতি কুমিল্লার পূজামণ্ডপে সৃষ্ট গুজবকে কেন্দ্র করে ভাংচুর এবং অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে ঘটনা ঘটেছে সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং সার্বক্ষণিক আমরা যোগাযোগ রাখছিলাম এবং এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে এবং যেখানে যেখানে যারাই এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটাবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের খুঁজে বের করা হবে। এটা আমরা অতীতেও করেছি এবং সেটা আমরা করতে পারবো।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যথাযথ শাস্তি তাদের দিতে হবে। মানে এমন শাস্তি যেন ভবিষ্যতে আর কেউ সাহস না পায় সেটাই আমরা চাই।’ 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বিকেলে শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কেন্দ্রিয় পূজামণ্ডপে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেনসের সাহায্যে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি একে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যায়িত করে বলেন, কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তার খুব ব্যাপকভাবেই তদন্ত হচ্ছে অনেক তথ্য আমরা পাচ্ছি এবং অবশ্যই এ ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে তাদের আমরা খুঁজে বের করবই এবং আমরা তা করতে পারব কারণ এখন প্রযুক্তির যুগ। এটা বের করা যাবে এবং সে যেই হোক না কেন, যে ধর্মেরই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা অবশ্যই নেয়া হবে। আর আমরা তা করেছি এবং করব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে সে সময় এই যাত্রাটাকে ব্যাহত করার এবং দেশের ভেতরে একটা সমস্যা সৃষ্টি করার এ ধরনের কিছু দুষ্ট লোক দেশে রয়ে গেছে। যারা জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারে না। রাজনীতি নেই, কোনো আদর্শ নেই আসলে তারাই এ ধরনের কাজ করে। এটা তাদের এক ধরনের দুর্বলতা। কিন্তু এর বিরুদ্ধে যদি সবাই সচেতন থাকে, তাহলে এগুলো যেমন প্রতিরোধ করা যায় তেমনি এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

মহানগর পূজা কমিটির সভাপতির আশঙ্কা ব্যক্ত করার প্রসঙ্গ টেনে সবাইকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, অবশ্যই এ ব্যাপারে আমরা জানি এবং যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল। 

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন ঢাকার অধ্যক্ষ স্বামী পূর্নাত্মানন্দ মহারাজ।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জীর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার।

জাতির পিতার রেখে যাওয়া অসাম্প্রদায়িক আদর্শ নিয়েই তার সরকার পথ চলবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটা অসম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ, সবাই একসঙ্গে বসবাস করবে এবং যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। অর্থাৎ ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার। এটা বাংলাদেশে সবসময় ছিল এবং আছে যে প্রতিটি উৎসবের সময় সবাই একসঙ্গে সামিল হয়ে আনন্দ উপভোগ করে। কিন্তু, মাঝে মাঝে কিছু দুষ্টচক্র কিছু ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের ভেতরের এই  চেতনাটাকে নষ্ট করতে চায়।

জাতির পিতা সাংবিধানিকভাবেই আমাদের যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার নিশ্চিত করে যান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতির পিতার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। 

তিনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িকতার স্থান নাই। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বাংলাদেশে যারা বসবাস করেন তারা সবাই এ দেশের নাগরিক। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা সমঅধিকার ভোগ করবে।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার- এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি। কাজেই আমরা সবসময় এটাই চেষ্টা করি যাতে প্রত্যেকেই নিজের ধর্ম কর্ম স্বাধীনভাবে আনন্দের সঙ্গে উদযাপন ও পালন করতে পারেন। ’

৭৫' এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল বিশেষকরে বিএনপি-জামায়াতের মাধ্যমেই এদেশে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

প্রধানমন্ত্রী দেশে-বিদেশে অবস্থানকারী সব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান এবং নিজেরা নিজেদের যেন ক্ষুদ্র সম্প্রদায় বা সংখ্যালঘু না ভাবেন সেজন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সরকার প্রধান বলেন, ‘এই মাটিতে আপনাদের জন্ম। কাজেই আপনারা এই মাটিরই সন্তান। সেখানে আপনারা সবাই নিজ অধিকারে বসবাস করবেন। কাজেই এখানে নিজেদের সংখ্যা দিয়ে বিচার না করাই ভালো। আপনারা স্বাধীন বাংলার একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বসবাস করবেন এবং সেই আত্মবিশ্বাসটা আপনাদের মাঝে থাকতে হবে- এটাই আমি চাই।’ 

দেশের সব মানুষ সুন্দরভাবে বসবাস করার সঙ্গে সঙ্গে সবাই ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে এটাই তার ইচ্ছা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না আমরা আপনাদের নিজেদের আপনজন হিসেবে মানি। আপনারা সমঅধিকার নিয়ে এদেশে বসবাস করবেন, ধর্ম পালন করবেন, উৎসব করবেন সেটাই আমরা চাই। আর এটাই হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের আসল নীতি এবং আমাদের আদর্শ।’

ইসলামেও সবার ধর্ম পালনের সমঅধিকারের কথা বলা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘সুরা কাফেরুন’ এর আয়াত ‘লাকুম দিনুকুম অলিয়াদীন’ উদ্ধৃত করেন এবং বলেন,  আমাদের কিছু লোক ধর্মান্ধতায় ভোগেন এবং তারা সবসময় একটা সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে চায়। এ ধরনের লোক যেমন সকল ধর্মে রয়েছে তেমনি সকল দেশেও এ মতের লোকজন পাওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে হিন্দু বাবা-মা’র সম্পত্তিতে সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করাসহ শত্রু সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইন করে দেয়া, ঢাকেশ্বরী কেন্দ্রিয় মণ্ডপ এবং সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরসহ সারাদেশে হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার, তীর্থ ভ্রমণের সুব্যবস্থা, সারাদেশে মসজিদের পাশাপাশি মন্দির বা গীর্জাভিত্তিক গণশিক্ষার ব্যবস্থা করা, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন করে ১শ’ কোটি টাকা সিড মানি দিয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট চালুতে তার সরকারের উদ্যোগসমূহ  তুলে ধরেন। 

তিনি এই ট্রাস্টের ফান্ড বৃদ্ধিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিত্তবানদেরকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি দলটির সভাপতি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও অনুরোধ করব তারাও যেন নিজ নিজ এলাকার মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করেন। যা তারা করেও থাকেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই দেশের মানুষ সুন্দরভাবে উৎসব উদযাপন করবেন। তারা ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবেন সেটিই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।