হারিয়ে যাওয়া ‘পাতা খেলা’ বারবার দেখতে চান দর্শক|321681|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ অক্টোবর, ২০২১ ১৬:১৮
হারিয়ে যাওয়া ‘পাতা খেলা’ বারবার দেখতে চান দর্শক
নজরুল ইসলাম খোকন, হাকিমপুর (দিনাজপুর)

হারিয়ে যাওয়া ‘পাতা খেলা’ বারবার দেখতে চান দর্শক

আশপাশের গ্রাম থেকে আসা নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল মাঠের চারপাশে

সীমান্তবর্তী এলাকা হাকিমপুরের হিলিতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া পাতা খেলা। ঐতিহ্যবাহী খেলাটি দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকে আসা নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল মাঠের চারপাশে। উৎসাহ পেয়ে প্রতিবছর খেলাটি আয়োজনের কথা বলছেন আয়োজকেরা। তবে তাদের প্রয়োজন আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা।

হিলির বোয়ালাদাড় গ্রামের যুবকদের আয়োজনে বৃহস্পতিবার বিকেলে বোয়ালদাড় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে খেলার আয়োজন করা হয়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাতা খেলা চলে।

আশপাশের এলাকা থেকে আসা ৫টি তান্ত্রিক দল মন্ত্র দিয়ে পাতারূপী সাপকে মাঠের মাঝখান থেকে নিজের দিকে টানার প্রতিযোগিতা করেন। যে দল তাদের মন্ত্রের মাধ্যমে পাতাকে নিজের দিকে টানতে পারেন তারা পয়েন্ট পান। প্রতিযোগিতায় যাদের পয়েন্ট বেশি হয় সেই দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

খেলায় বোয়ালদাড়ের স্থানীয় দলকে হারিয়ে পাইকপাড়া ফারুক মেম্বারের দল বিজয়ী হয়। এ সময় পুরস্কার হিসেবে একটি খাসি উপহার দেওয়া হয়।

খেলার পুরো সময় ধরে মাঠ জুড়ে ছিল নারী-পুরুষ দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। পুরো বোয়ালদাড় জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ।

খেলা দেখতে আসা ঈশিতা রানি বলেন, পাতা খেলা নামের কোন খেলা যে ছিল তা আগে কখনোই দেখিনি। এই প্রথমবার বোয়ালদাড় গ্রামে খেলাটি দেখতে পেলাম, খুব ভালো লাগল, খেলাটি দেখে অনেক আনন্দ পেলাম।

অন্য দর্শক মাসুদা আকতার বলেন, আমাদের গ্রামে কখনোই পাতা খেলা হয়নি, বা আমরা কোনদিন দেখিনি। এ জন্য পাতা খেলার কথা শুনে দেখতে এসেছি। মন্ত্রের মধ্য দিয়ে তান্ত্রিক তার দিকে সাপকে টানছে দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরা চাই ভবিষ্যতে এই খেলাটি যেন আবারও হয়।

লুৎফর রহমান বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখনকার জনপ্রিয় খেলা ছিল পাতা খেলা। আগে গ্রামে-গঞ্জে নিয়মিত হতো কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ এই খেলা আর কোথাও দেখা যায় না। শত শত নারী-পুরুষ মাঠে দাঁড়িয়ে-বসে থেকে খেলাটি উপভোগ করলো। সব মিলিয়ে বুঝতে পারলাম পুরোনো এই খেলার এখনো বেশ চাহিদা রয়েছে। শুধু একটু আয়োজনের উদ্যোগ নিলেই খেলাটি পুনরুজ্জীবিত হবে। 

আয়োজক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, আমরা ছোট বেলা থেকেই এই খেলাটির নাম শুনে এসেছিলাম কিন্তু কখনো দেখা হয়নি। আগে গ্রাম-গঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় খেলাটি হতো কিন্তু এখন আর খেলাটি হয় না। চর্চা না থাকায় ঐতিহ্যবাহী খেলাটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া পুরোনো ঐতিহ্যবাহী খেলাটিকে ধরে রাখতে ও পুনরুদ্ধার করতে আমাদের এমন আয়োজন।

আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে মানুষকে আনন্দ দিতে প্রতিবছর এমন আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছি আমরা।