এবার পারব না, আগামীতে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন আইন করে দেব|322021|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০২১ ১২:১২
এবার পারব না, আগামীতে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন আইন করে দেব
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

এবার পারব না, আগামীতে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন আইন করে দেব

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আনিসুল হক, এমপি। নির্বাচন কমিশন আইন, সার্চ কমিটি গঠন, খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবিধানসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়াবলি নিয়ে তিনি দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের এহ্সান মাহমুদ

দেশ রূপান্তর: সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী নির্বাচন কমিশন সার্চ কমিটির (অনুসন্ধান কমিটি) মাধ্যমেই হবে। অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি উপেক্ষা করে সার্চ কমিটির মাধ্যমে কমিশন গঠিত হলে সেই কমিশন এবং সেই কমিশনের অধীনে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে করেন কি?

আনিসুল হক: নির্বাচন কমিশন গঠন করার জন্য দেশে যে সার্চ কমিটি হয়ে আসছে তা বিগত দুটি কমিশন গঠনে কাজ করেছে। এটি মহামান্য রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গঠন করেছিলেন। আমরা বলেছি আগামী নির্বাচন কমিশনও এইভাবে গঠন করা হবে। এর বাইরে নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের সংবিধানের দিকে যদি তাকাই, ১১৮ নং অনুচ্ছেদের (১)-এ বলা হয়েছে “(প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া) বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন”।

আমরা যদি লক্ষ করি, দেখব যে, সংবিধানে কিন্তু আইন করার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে, যদি কোনো আইন থেকে থাকে তবে সেটি প্রতিপালন করে মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটি কমিশন গঠন করবেন। সেজন্য আমরা মনে করছি, এখানে একটি আইনের প্রয়োজন। সেটি আমরা অস্বীকার করছি না। কিন্তু আইন না করেও যে করা যায় সেটিও এই বিধানের মধ্যে রয়েছে। সেটি হবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবেন, সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তিনি একটি সার্চ কমিটি গঠন করবেন। সেটির একটি গেজেট হবে। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলতে চাই এটি আইন নয়, কিন্তু আইনের খুবই নিকটবর্তী। এটি আইন নয় এটা বলছি এই জন্য যে, যেভাবে সংসদে পাস হয়ে একটি আইন করা হয় এটি সেরকম নয়। এটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির একটি পদক্ষেপ। এটি এর আগেও দুইবার কাজ করেছে। ঠিক আইন না হলেও আইনের মতোই কাজ করেছে। এখন ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে আইন করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। কারণ, সবার সঙ্গে একটি আলাপ-আলোচনার বিষয় আছে, সেটি সময় সাপেক্ষ। তাই রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে যে নিয়ম অনুসরণ করবেন, সেখানে একজন আপিল বিভাগের বিচারপতি থাকবেন, আর সাংবিধানিক পদে আছেন এমন তিনজন এই কমিটিতে থাকবেন। সেইভাবে সার্চ কমিটি গঠন করা হবে।

সংবিধানেই যেহেতু আছে যদি এমন আইন থেকে থাকে, তবে আইন মেনে ইসি গঠন করা হবে। যদি না থাকে তবে প্রণয়ন করার কোনো বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ নেই। তবুও আমরা বলেছি, যেহেতু এমন একটি বিষয়ের উল্লেখ সংবিধানে আছে, তাই আমরা এবার করতে পারব না, আগামীতে অবশ্যই একটি নির্বাচন কমিশন আইন করে দেব।

দেশ রূপান্তর: নতুন করে আইন করা সময় সাপেক্ষ বলছেন। তাহলে এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন যে খসড়া নির্বাচন কমিশন আইন করেছিল তার কী অবস্থা?

আনিসুল হক: খসড়া আইনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এই বিষয়ে আমি খোঁজ নেব। তাই এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।

দেশ রূপান্তর: স্বাধীনতার ৫০ বছরেও সংবিধান মেনে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আইন তৈরি করতে না পারার ব্যর্থতা বিষয়ে কী বলবেন?

আনিসুল হক: পঞ্চাশ বছরের দায়ভার আমি নেব না। প্রথম কথা হচ্ছে এর মধ্যে ২১ বছর দেশটি কীভাবে চলেছিল? প্রায় ষোলো বছর এমন সরকার দ্বারা দেশটি পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে সংবিধানের কোনো মর্যাদা ছিল না। অসাংবিধানিকভাবে তারা দেশটি পরিচালনা করেছিল। তারা কেন তখন আইন করেননি? আজ তাদেরই উত্তরসূরিরা আইন করার দাবি তুলছেন। তারা দেখছেন আমরা আইনের শাসন কায়েম করছি, তাই তারা হয়তো দাবি তুলছেন। এটা ভালো কথা। তবে আমরা কিন্তু বলছি না, আইন করব না। তবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির আগেই আইন করা সম্ভব নয়।

দেশ রূপান্তর: সম্প্রতি কুমিল্লার একটি পূজা মণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আমরা মনে করতে পারি, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ একটি রাষ্ট্রধর্ম পেল। বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে গেলে ধর্মীয় আগ্রাসন নিরসন করাটা সহজ হবে বলে মনে করেন?

আনিসুল হক: আমার মনে হয়, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের বিষয়টির সঙ্গে কুমিল্লার ঘটনাকে মিলিয়ে দেখাটা ঠিক হবে না। কুমিল্লার ঘটনার দিকে তাকালে যে কোনো বিবেকবান সাধারণ মানুষও বুঝতে পারবে দেশে একটি অস্থিতিশীল, অরাজক পরিবেশ তৈরির ব্যর্থ চেষ্টা সেখানে চালানো হয়েছিল।

দেশ রূপান্তর: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করা হবে না বলে আপনি বরাবরই বলে আসছেন। কিন্তু এই আইনটি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কেউ যে ভোগান্তির শিকার হবেন না, তা নির্ধারিত হবে কী করে?

আনিসুল হক: প্রথম কথা হচ্ছে এই আইনটি বাকস্বাধীনতাকে হরণ করা বা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা শেষ করার জন্য করা হয়নি। মনে রাখতে হবে এই দেশ ও সংবিধান বঙ্গবন্ধু দিয়ে গেছেন। সেই সংবিধানে পরিষ্কারভাবে দুটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। এগুলো কোনোক্রমেই বিনষ্ট হতে দেওয়া হবে না। ডিজিটাল মাধ্যমে যে অপকর্ম হবে, যেমন এই যে ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা করছে। আবার ধরেন, এই কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটল, এর পরেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অপপ্রচার, গুজব ও সহিংসতা ঘটানোর জন্য আহ্বান জানানো হলো। এখন এদের বিচার কোন আইনে করা যাবে? এদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় আনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মধ্যে যে আইনগুলো রয়েছে, সেগুলোর প্রায় সবই আমাদের দণ্ডবিধিতে (পেনাল কোডে) রয়েছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিতে পারে, নতুন করে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করার দরকার হলো কেন? দরকার এই জন্য যে, ওই কাজগুলো আগে করা হতো শারীরিকভাবে উপস্থিতির মাধ্যমে। এখন করা হচ্ছে ডিজিটাল মাধ্যমে। তাই তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করতে হয়েছে।

এই আইনের যেন কোনো অপব্যবহার বা হয়রানি না ঘটে সে জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছি। এই বিষয়ে অ্যাডহক ভিত্তিতে কাজ চলছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে সংবাদকর্মীরা পড়তে পারেন বলে সাংবাদিকরা বলে আসছেন। আমি বলেছি, মামলা হলেই যাতে কাউকে গ্রেপ্তার করা না হয়। সে জন্য একটি সেল রয়েছে, সেই সেল প্রথমে অভিযোগটি খতিয়ে দেখবে, তারপরে মামলার যোগ্য মনে করলে মামলা হবে। না হলে খারিজ করে দেবে। এই বিষয়ে আরও ভালো কী হতে পারে, বিশ্বের সুশাসনের জন্য খ্যাত দেশগুলো কীভাবে এই বিষয়টি পরিচালনা করে, সেই বিষয়ে জানার জন্য ঢাকায় অবস্থানরত হিউম্যান রাইটস কমিশনের সঙ্গে আমরা কাজ করছি। বিশ্বের এই মুহূর্তে এই বিষয়ে বেস্ট প্র্যাকটিস যেটা আছে, আমরা সেটা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জানার ও প্রয়োগ করার চেষ্টা করছি। এই আইনের যাতে কোনো অপব্যাখ্যা, অপপ্রয়োগ না হয় সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

দেশ রূপান্তর: বর্তমান সরকার নিজেদের যতগুলো সাফল্য প্রচার করে আসছে, তার একটি বড় জায়গা জুড়ে আছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। সম্প্রতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান লাখো গ্রাহকের সঙ্গে আর্থিকভাবে প্রতারণা করেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, গ্রাহকের দায় সরকার বহন করবে না। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুনাম যেহেতু আপনারা নিচ্ছেন, তাহলে দায় এড়াতে চাইবে কেন সরকার?

আনিসুল হক: এখন কথা হচ্ছে গ্রাহকরা যদি এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য বা মালামাল কেনার আগে সরকারের কাছ থেকে জেনে নিত যে, কিনবে কি না, তাহলে সরকারকে দায়ী করা যেত। কিন্তু সেটা তো হয়নি। তাই সরকার দায় নেবে না এটা সত্য। তবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে তোলা যায় তা নির্ধারণে সরকার নিশ্চয়ই সচেষ্ট আছে। অভিযুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক বা প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়-সম্পত্তি আদায় করে নিয়ে সরকার গ্রাহকের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে কাজ করবে।

দেশ রূপান্তর: শর্তসাপেক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তিতে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি নির্বাহী আদেশে হতে পারে কি না?

আনিসুল হক: প্রথমেই বলতে চাই এটা স্থায়ী মুক্তি বা অস্থায়ী মুক্তির বিষয় না। আইনে যেভাবে রয়েছে বিষয়টি সেভাবেই করা হয়েছে। দেখতেও হবে সেইভাবে। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক বারণে সাজা স্থগিত রেখে মুক্তি দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী এটিকে অস্থায়ী মুক্তি বলা যায় না, শর্তযুক্ত মুক্তি বলতে হবে। আইনে বলা আছে, শর্ত ভাঙলে বা না মানলে এই মুক্তি আইন অনুযায়ী বাতিল হয়ে যাবে।

দেশ রূপান্তর: দেশে প্রায় ৩৭ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মামলার জট নিরসনে আপনাদের পদক্ষেপ কী?

আনিসুল হক: আমরা এটাকে প্রায়োরিটি-১ এ রেখেছিলাম। এই জট নিরসনে সচেষ্ট থেকে কাজ শুরু করেছিলাম। মনে করেছিলাম ২০২০ এর মধ্যে অন্তত ছয় লাখ মামলা নিষ্পত্তি করা যাবে। কিন্তু দেখা গেল তার আগেই করোনা মহামারীতে সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল। এখন ২০২১-এ এসেও তা শেষ করা গেল না। এখন আবার নতুন করে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি মামলা আপসযোগ্য। এখন আমরা খুঁজে বের করব এরকম আপসযোগ্য মামলার সংখ্যা ঠিক কত রয়েছে। তখন এটি নিষ্পত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা উপজেলা পর্যন্ত লিগ্যাল আইনি যে সহায়তা ও পরামর্শ ব্যবস্থা রয়েছে তা কার্যকর করার চেষ্টা করছি। মানুষ যাতে সহজেই আদালতের দ্বারস্থ না হয়, নিজেরা নিজেরা নিজেদের সংঘাত মিটিয়ে ফেলতে পারে সেই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিচারকদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার চেষ্টাও করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে প্রায় ১,১৫২ জনের মতো বিচারক আমাদের সময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আরও বিচারক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে আমরা ই-জুডিশিয়ারি কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে সচেষ্ট আছি।

দেশ রূপান্তর: প্রতি বছর আগস্ট মাস এলেই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে তোড়জোড়ের কথা শোনা যায়। কিন্তু ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি দৃশ্যমান হচ্ছে না।

আনিসুল হক: আমরা আগস্ট মাসের জন্য বসে থাকি না। আমাদের চেষ্টা চলছে, সারা বছরই চলে। যে দুইজনের খোঁজ পাওয়া গেছে তারা বিদেশে পালিয়ে আছেন। তাদের একজন এমন একটি দেশে (কানাডা) আছেন, যেখানে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী অবস্থান রয়েছে দেশটির। তবুও আমরা আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে। আরেকজন, যিনি (রাশেদ চৌধুরী) যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তিনি আমাদের অতীতের সরকারগুলোর অবহেলা ও চেষ্টার অভাবে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। আগের সরকারগুলো আন্তরিক হলে ফিরিয়ে আনা সহজ হতো।

দেশ রূপান্তর: ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রে জড়িত নেপথ্য মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠনের কথা শোনা গেছে সরকারের ভেতর থেকে। কমিশন গঠনে অগ্রগতি কতটুকু?

আনিসুল হক: একটা কথা বলা দরকার, কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই প্রতিহিংসামূলক নয়। কমিশন গঠন করা হচ্ছে এই জন্য যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ১৭ সদস্য যাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তার ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করা। যারা মদদ দিয়েছে, খুনিদের আশ্রয় দিয়েছে তাদের পরিচয় জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। তাদের বিচার করা না গেলেও তারা যে ঘৃণ্য কাজ করেছে সেটি আগামীর বাংলাদেশের কাছে পরিষ্কার করতেই কমিশন করা হবে। এই কমিশন গঠন করার যে প্রক্রিয়া তা আমি শুরু করে দিয়েছি।

দেশ রূপান্তর: বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে বলে মনে করেন?

আনিসুল হক: আমার মনে হয়, কোনো দেশেই বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন নয়। তবে আমি এ কথা বলতে পারি বাংলাদেশের বিচারবিভাগ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি স্বাধীন।