পুঁজিবাজারে গুজব আতঙ্ক বড় দরপতন|322295|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০
পুঁজিবাজারে গুজব আতঙ্ক বড় দরপতন
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে গুজব আতঙ্ক বড় দরপতন

টানা ষষ্ঠ দিনের দরপতনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপে গতকাল সূচকের বড় পতন হয়েছে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হওয়া প্রায় ৮৭ শতাংশ শেয়ারের দরপতনে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ৮৯ পয়েন্ট বা সোয়া ১ শতাংশ। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রায় ৮৪ শতাংশ শেয়ারের দর কমায় স্টক এক্সচেঞ্জটির প্রধান মূল্যসূচকের প্রায় দেড় শতাংশ পতন হয়েছে। এ দরপতন গত ২৭ জুনের পর বা গত প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত কয়েকদিন টানা দরপতন হলেও গতকালের বড় পতন ত্বরান্বিত হয়েছে বিভিন্ন গুজবে।

এরমধ্যে জোরালো গুজব ছিল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংকের জোরালো হস্তক্ষেপ। রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি কয়েকটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মার্জিন ঋণ দেওয়ায় ব্যবহার করেছে। এখন সেসব ব্যাংককে ওই ঋণ তাদের পুঁজিবাজারের এক্সপোজারে নিয়ে সমন্বয় করতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর এক্সপোজার লিমিট অতিক্রম করায় তারা শেয়ার বিক্রি করছে, এমন গুজব রয়েছে। এছাড়া নয় কোম্পানির শেয়ার কারসাজি ইস্যুতে অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে- এমন একটি খবরও বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এসইসির তদন্ত কমিটি নয় কোম্পানির শেয়ার কারসাজির দায়ে কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজের অনুমোদিত প্রতিনিধিকেও ডেকে পাঠিয়েছে বলেও গুজব রটেছে।

এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কে বা কারা গুজব ছড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে হস্তক্ষেপ করছে। আদতে এমন কিছুই হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারাই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নয় কোম্পানির তদন্তের বিষয়টি পুরনো এবং এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমাও পড়েনি। তারপরও স্বার্থন্বেষী মহল এসব গুজব ছড়িয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজ ও কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে এসইসিতে বৈঠক রয়েছে। এ বৈঠকে মূলত পুঁজিবাজারে কীভাবে তারল্য বাড়ানো যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ বন্ড ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে কি-না, পুঁজিবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন করা যায় কি-না, এসব বিষয়ে আলোচনা হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের স্বাভাবিক নজরদারি কার্যক্রম চলছে। আইসিবিকে দেওয়া ঋণ ব্যাংকগুলো তাদের এক্সপোজারে নেয়নি। আর এ বিষয়টি কয়েক সপ্তাহ আগের। এ ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো চাপ তৈরি করেনি।

সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই বিভিন্ন গুজবে গতকালের দরপতনে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ৮৯ পয়েন্ট কমে ৭০৯৭ পয়েন্টে নেমেছে। অবশ্য বিক্রিচাপ বেড়ে যাওয়ায় গতকাল ১টা ৫৪ মিনিটে সূচকটি আগের দিনের চেয়ে ১২৭ পয়েন্ট কমে ৭০৫৯ পয়েন্টে নেমেছিল। এরপর ক্রয়াদেশ বাড়ায় সূচকের কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। গতকালসহ টানা ছয় দিনের দরপতনে সূচকটি ২৭০ পয়েন্ট কমেছে। গতকাল কাগজ ও ট্যানারি ছাড়া অন্যসব খাতের বাজার মূলধন কমেছে। একদিনে ডিএসইর বাজার মূলধন ছয় হাজার কোটি টাকারও বেশি কমেছে। 

গুজব ছাড়া বড় পতনের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ কিংবা বাজার মধ্যস্থতাকারীরাও জানাতে পারেননি। ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারসাজির কিছু শেয়ার ছাড়া গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বেশিরভাগ শেয়ার দর হারাচ্ছে। অনেক সময় দেখা গেছে, স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ার দর হারানোর পরও বড় মূলধনী কিছু কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির ওপর ভর করে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী এ সময়ে লোকসান করছেন। কিন্তু কেন এভাবে শেয়ারদর কমছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না।

অবশ্য চলতি দরপতন অনেকটাই দর সংশোধন বলে মনে করেন ডিএসইর ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, অল্প সময়ে কিছু শেয়ারের দর অনেকটাই বৃদ্ধি পাওয়ায় সেগুলো এখন বাজার মূল্যসূচকের উত্থান-পতনে বড় ভূমিকা রাখছে। এসব শেয়ারের দর কমায় সূচক নিম্নমুখী হওয়ায় অনেকে না বুঝে নিজে আতঙ্কিত হচ্ছেন। সূচকের দিকে না তাকিয়ে শেয়ারের মূল্য ও মৌলভিত্তি বিবেচনা করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিলে এ সমস্যা থাকবে না বলে মনে করেন তিনি।