বিচারপতি শামসুদ্দিন ও মাহবুব মিলনের নেতৃত্বে বোর্ড|322325|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০
বিচারপতি শামসুদ্দিন ও মাহবুব মিলনের নেতৃত্বে বোর্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচারপতি শামসুদ্দিন ও মাহবুব মিলনের নেতৃত্বে বোর্ড

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর আলোচনায় আসা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনায় চারজনের একটি অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে ফখরুদ্দিন আহম্মেদ এবং আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজকে রাখা হয়েছে বোর্ডে। একই সঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) মাহবুব কবীর মিলন  ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে থাকবেন বলে হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক অবকাশকালীন বেঞ্চ এ পর্ষদ গঠন করে আদেশ দেয়।

ইভ্যালি থেকে প্রতারিত এক গ্রাহকের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় নথি তলব করে উচ্চ আদালত। ১২ অক্টোবরের মধ্যে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের (জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস) পরিদপ্তরের নিবন্ধককে এ সংক্রান্ত নথি দাখিল করতে বলে হাইকোর্ট। এর ধারাবাহিকতায় নথি দাখিল করা হয়। গত ১২ অক্টোবর নথি পর্যালোচনার পর ইভ্যালির দায়দেনা নিরূপণ এবং প্রতিষ্ঠানটি তদারকি করতে চার সদস্যের একটি বোর্ড গঠনে অভিমত দিয়েছিল হাইকোর্টের এই কোম্পানি বেঞ্চ।

আদালতের বরাতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তখন জানান, ইভ্যালির কর্মকর্তারা কারাগারে। এখন কোনো মিটিং হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির দায়দেনা নিরূপণ করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে হাইকোর্টের এই অভিমত এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড গঠনের এ আদেশ এলো।  

আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবী এ এম মাছুম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইভ্যালির  ঊর্ধ্বতনদের দুজনেই কারাগারে। এখন কোম্পানি চলমান থাকা কিংবা যেকোনো সভা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তো একটা বোর্ড লাগবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এই অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করেছে হাইকোর্ট যেখানে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, একজন সাবেক সচিব, একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট এবং একজন আইনজীবীসহ সরকারি বেতনভুক্ত একজন অতিরিক্ত সচিবকে এমডি করেছে আদালত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন ইভ্যালিকে পুনরুদ্ধার করা যায় কি না কিংবা অবসায়ন করতে হবে কি না সেটি বোর্ড দেখবে। কোম্পানির সম্পদের হিসাব, দায়দেনা নিরূপণ এসব বিষয় নিয়ে বোর্ড একটি অডিট রিপোর্ট করবে। আগামী ২৩ নভেম্বর হাইকোর্টে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। প্রতিবেদন দেখে হাইকোর্ট ইভ্যালির বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেবে।’

এর আগে ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের এই কোম্পানি বেঞ্চ ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তর করা যাবে না বলে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়। একই সঙ্গে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না সেটি জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় হাইকোর্ট।

পেশায় চিকিৎসক ফরহাদ হোসেন ইভ্যালির মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে অনলাইনে গত মে মাসের শেষ দিকে একটি ওয়াশিং মেশিন কিনতে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করেন। কিন্তু ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য বুঝে পাওয়ার কথা থাকলেও প্রায় ৫ মাসেও গ্রাহক সেটি বুঝে পাননি। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের দারস্থ হন তিনি। আবেদনে ইভ্যালির অবসায়ন করে একজন অবসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুডেটর) নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা বোর্ড গঠনসহ ইভ্যালির সম্পদ বিক্রি ও হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।