শাহবাগে বিপুল জমায়েত অবরোধ|322328|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০
সাম্প্রদায়িক হামলা
শাহবাগে বিপুল জমায়েত অবরোধ
রূপান্তর ডেস্ক

শাহবাগে বিপুল জমায়েত অবরোধ

শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, বাড়িঘরে হামলায় জড়িদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে। এসব দাবি পূরণের জন্য সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। গতকাল সোমবার দিনভর আন্দোলনে উত্তাল ছিল শাহবাগ। এছাড়া রাজধানীর আরও কয়েকটি জায়গায় একই ইস্যুতে হয়েছে প্রতিবাদ সমাবেশ।

এদিকে ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদের নামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনা ও তাদের বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে লুটপাটের প্রতিবাদে গতকাল বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে কুমিল্লা, বরিশাল, নীলফামারী, বাগেরহাট, দিনাজপুর, নোয়াখালী, মাগুরা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এসব কর্মসূচি থেকেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বিস্তারিত দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) স্বামীবাগ আশ্রমের ভক্তরা রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। বিকেল ৪টায় শাহবাগে মানববন্ধন করে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে শাহবাগ’। সন্ধ্যায় একই জায়গায় মশাল মিছিল করে আটটি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন। এছাড়া দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখে দাঁড়াও’ শিরোনামে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির-মণ্ডপসহ হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা মুক্তিযুদ্ধ তথা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনার ওপর আঘাত।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সভাপতিত্ব করেন ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান। বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, দীপ আজাদ, জিহাদুর রহমান, জান্নাতুল ফেরদৌস, শামসুল আলম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন আবুল কালাম আজাদ, খায়রুজ্জামান কামাল, শাহেদ চৌধুরী প্রমুখ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘সবার মিলেমিশে থাকার জন্য এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু একটি চক্র নানান অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক হতে হবে।’

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘একটি চক্র দেশকে ধর্মান্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। তাদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

বক্তারা বলেন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার রক্তে, সবার লড়াইয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে সাংবাদিকরা আছেন।’

গুলিস্তানে গতকাল দুপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ)। এ সময় দলটির সভাপতি সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষা ও অসাম্প্রদায়িকতা বজায় রাখার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বা দর কষাকষি চলবে না।’

ঢাকা মহানগর জাসদের সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, শফি উদ্দিন মোল্লা, মো. মোহসীন, রোকনুজ্জামান রোকন, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, সাইফুজ্জামান বাদশা প্রমুখ। মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে জাসদের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন।

গতকাল টানা তিন ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ইসকন স্বামীবাগ আশ্রমের ভক্তরা। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে সাত দফা দাবি ঘোষণা করে শাহবাগ ত্যাগ করেন তারা। তাদের অবরোধে শাহবাগ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পল্টন, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, বাংলামোটর ও টিএসসিমুখী সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ মোড় ত্যাগ করলে ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে থাকে।

কর্মসূচিতে সাত দফা দাবি ঘোষণা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক ও আন্দোলনের সমন্বয়ক জয়দীপ দত্ত। দাবিগুলো হলো সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার মন্দিরগুলোর সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত, জাতীয় সংসদে আইন করে মন্দির ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও কমিশন গঠন এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আধুনিকায়ন করে ফাউন্ডেশনে উন্নীত করা।

নোয়াখালী পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি : কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কয়েকটি মন্ডপ ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, দোকানপাট ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮টি মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারে ২৮৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯০ জন।

এদিকে চৌমুহনীর ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও পূজাম-পগুলো গতকাল পরিদর্শন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। প্রতিনিধিদলটিতে ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. রহমত উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া, টেলিভিশন, প্রিন্ট ও ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া, প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী প্রমুখ।

পূজামন্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে নোয়াখালীর মাইজদী টাউন হল মোড়ে গতকাল মানববন্ধন করেছে শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা মন্ডপ সমন্বয় পরিষদের নেতারা।

কুমিল্লায় সম্প্রীতির গণজমায়েত : কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রীতির গণজমায়েত হয়েছে। গতকাল বিকেলে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নগরীর টাউন হলের মুক্তমঞ্চে এ গণজমায়েতের আয়োজন করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে গণজমায়েতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। তিনি বলেন, যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদে চবি শিক্ষকের : দেশজুড়ে হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের ঘরবাড়ি ও উপাসনালয়ে হামলার প্রতিবাদে একাই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। চোখে কালো কাপড় বেঁধে গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা চত্বরে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তিনি।

শাবিপ্রবি শিক্ষক-কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মানববন্ধন : দেশের কয়েকটি জেলায় মন্দির-ম-পসহ হিন্দুদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে আলাদাভাবে মানববন্ধন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ ও শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি অংশ।

বিচার দাবিতে রাবিতে মানবন্ধন : সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘সনাতনী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী’র ব্যানারে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান।

দিনাজপুরে বিক্ষোভ-সমাবেশ : দিনাজপুরে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে এ মানববন্ধন হয়। এর আগে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) দিনাজপুর জেলা শাখা একই ইস্যুতে মানববন্ধন করে। এছাড়া পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লীতে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগ। দিনাজপুরের পার্বতীপুরেও মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে।

বাগেরহাটে মানববন্ধন-স্মারকলিপি প্রদান : বাগেরহাটে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল বেলা ১১টায় বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সামনে ইসকন ও জাতীয় হিন্দু মহাজোট যৌথভাবে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকশ নারী-পুরুষ যোগ দেয়। পরে তারা বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়।

গাজীপুরে বিক্ষোভ : ইসকন গাজীপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে। তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসকন গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি গৌর কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।

নীলফামারীতে মানববন্ধন : বিভিন্ন মন্দির ও পূজামন্ডপে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসকন প্রচার কেন্দ্র। বক্তারা সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য স্বাধীনতাবিরোধী এবং বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে বক্তব্য দেন।

মাগুরায় জাসদ ও ইসকনের মানববন্ধন : মাগুরায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল সকালে মাগুরা প্রেস ক্লাবের সামনে জেলা জাসদ ও ইসকন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

বরিশালে বিক্ষোভ : বরিশালে বিক্ষোভ করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় নগরের শ্রী শ্রী শংকর মঠে ইসকন পরিচালিত রাধা শ্যাম সুন্দর মন্দির থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে শেষ করে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়।

এছাড়া সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশ ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে এ দাবি জানানো হয়। সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে গতকাল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন করেছেন।

‘হিন্দুদের কারা দেশছাড়া করতে চায়, সরকার বের করুক’ : শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজামণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা এবং হতাহতের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত পথে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) নেতারা। হামলার ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ইসকন আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের নেতারা।

গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতবাদের অনুসারী হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইসকনের সভাপতি সত্য রঞ্জন বাড়ৈ বলেন, ‘এ দেশ হিন্দু সম্প্রদায়েরও। কারা নানা অজুহাতে হামলা চালিয়ে হিন্দুদের দেশছাড়া করতে চায়, তা সরকারকেই খুঁজে বের করতে হবে। ১৩ অক্টোবর দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীর দিন কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে হামলা চালানো হয়। এরপর নোয়াখালীর চৌমুহনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ, মন্দির এবং হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। কিন্তু হিন্দুরা এ দেশ ছেড়ে যেতে চায় না। সরকারকে এ দেশে হিন্দুদের শান্তিতে বসবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে সহিংসতা সৃষ্টি করছে, তা শনাক্ত করা প্রয়োজন।

ইসকনের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী বলেন, ‘পূজামণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ও সহিংসতার ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের হামলা কখনো বন্ধ হবে না। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসকনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জগদ্গুরু দাস ব্রহ্মচারী, বিমলা প্রসাদ দাস, শুভ নিতাই দাস ব্রহ্মচারী ও সুমুখ গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী, ইসকন ফুড ফর লাইফের পরিচালক রূপানুগ গৌর দাস ব্রহ্মচারী প্রমুখ।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছে দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিরা