হাজীগঞ্জে গুলিবিদ্ধ সাগরের মৃত্যু|322532|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০
হাজীগঞ্জে গুলিবিদ্ধ সাগরের মৃত্যু
ঢামেক ও চাঁদপুর প্রতিনিধি

হাজীগঞ্জে গুলিবিদ্ধ সাগরের মৃত্যু

কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধ সাগর হোসেন (২৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সাগরের বাবা মো. মোবারক হোসেন দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এ নিয়ে হাজীগঞ্জের ওই সংঘর্ষের ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলো।

সাগর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর খন্দকার বাড়ির মোবারক হোসেনের ছেলে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি হাজীগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। পেশায় পিক-আপ ভ্যানচালক ছিলেন সাগর।

বাবা মো. মোবারক হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাজীগঞ্জ বাজারে পিক-আপ ভ্যান রেখে হেঁটে বাসায় ফিরছিল সাগর। তখন ওই বাজারে মিছিল হচ্ছিল কুমিল্লায় পূজাম-পে পবিত্র কোরআন রাখার খবরকে কেন্দ্র করে। সেই মিছিলের মধ্যে পড়ে যায় সাগর। সেখান থেকে বের হতে দৌড় দিলে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে সাগর।

ঢামেক হাসপাতালে বড় ভাই মো. মতিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আহত অবস্থায় পুলিশ সাগরকে উদ্ধার করে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। পরিবারের সদস্যরা এ খবর জানার পর ভোরে সেখানে গিয়ে সাগরকে দেখতে পান। ওই হাসপাতালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিয়ে আসা হয় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তিন দিন সেখানকার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ইসিইউ) রাখার পর অর্থ সংকটের কারণে গত ১৬ অক্টোবর দুপুরে নিয়ে আসা হয় ঢামেক হাসপাতালে।

স্বজনরা জানান, নিহত সাগরের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে হাজীগঞ্জ বাজারের ডিগ্রি কলেজ রোডসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে আসছে।

মা আমেনা বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, পাঁচ সন্তানের মধ্যে সাগর সবার ছোট। তিনি হাজীগঞ্জের বড়কুল ইউনিয়নের নোয়াদ্দা সুমন মাঝির মেয়েকে বিয়ে করেন। চার মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে তার।

হাজীগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাগরের মৃত্যুর খবর আমি শুনেছি। খবর পেয়েছি তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।’

ওসি জানান, হাজীগঞ্জের সংঘর্ষের ঘটনায় ৪টি মামলায় ২ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য সাগরের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার একটি পূজাম-পে পবিত্র কোরআন পাওয়া গেছে এমন খবরে ওইদিন রাতেই হাজীগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কে স্থানীয় একদল মানুষ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। শহরের শ্রী শ্রী রাজা লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া পূজামণ্ডপ অতিক্রমকালে মিছিলটি থেকে কে বা কারা ইট-পাটকেল ছোড়ে। পুলিশ তা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পূজামণ্ডপের ফটকে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এতে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় গুলিতে এক কিশোরসহ চারজন নিহত ও চারজন আহত  হন। সংঘর্ষে পুলিশের ১৭ সদস্যও আহত হয়।

কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেদিনই কুমিল্লার বেশ কয়েকটি পূজাম-পে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে একদল মানুষ। এছাড়া ওই ঘটনার জেরে গত কয়েক দিনে নোয়াখালীর চৌমুহনী ও রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। চৌমুহনীতে হামলার সময় একজন এবং পরদিন মন্দিরের পুকুর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের আরেকজনের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লার ঘটনার দিনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশের ২২টি জেলায় বর্ডার গার্ড সদস্যদের (বিজিবি) মোতায়েন করে সরকার। পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন। সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় আসামি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। যাদের মধ্যে অনেককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।