দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর|322533|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
বিশেষ প্রতিনিধি

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পূজামণ্ডপে হামলা এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন ১৪-দলীয় জোটকে সঙ্গে নিয়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মোকাবিলা করার নির্দেশ দেন।

গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এবং এর আগে কুমিল্লার ঘটনা ও এর জের ধরে দেশের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, ঘরবাড়ি, দোকানপাটে ভাঙচুর, আগুন দেওয়া ও লুটপাটের ঘটনা ক্রমাগত ঘটতে থাকায় উষ্মা প্রকাশ করেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খানকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।

গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য বলেন সরকারপ্রধান। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রীদের এ ব্যাপারে কাজ করার জন্য বলেন বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য এ তথ্য জানান।

সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্রুত তদন্ত শেষ করে এ ঘটনার পেছনে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী যত শিগগির সম্ভব এ ঘটনার তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো তুচ্ছ ঘটনায় কেউ যাতে তাৎক্ষণিক বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া না দেখায়, এ জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় খুব শিগগির কিছু খুঁজে পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ধর্ম অবমাননার বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করতে ইসলাম কোনো মুসলমানকে ক্ষমতা দেয়নি। ইসলামের কাছে এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, বিক্ষুব্ধরা প্রতিবাদ জানাতে পারে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানাতে পারে। তিনি বলেন, কোরআনের যদি অবমাননা হয়েও থাকে, তথাপি কোরআন অন্য ধর্মের লোকদের ওপর হামলা চালানোর কর্র্তৃত্ব কাউকে দেয়নি।

দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা খুবই অস্বস্তিকর : ১৪ দল

এদিকে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবি জানান জোটের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর ১৪ দলের পক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন বজায় থাকে এবং এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয়, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেসব পূজামণ্ডপ বা বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে, সেসব পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।’

মেনন আরও বলেন, ‘সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন, পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরগুলো নতুনভাবে গড়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা বলেছি, সারা দেশে যে ভাঙচুর হয়েছে, সেখানেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তাতে আমাদের অবজারভেশনগুলো জানিয়েছি। এ ঘটনায় ১৪ দলের মতামত হচ্ছে এ ঘটনাগুলো একদমই পূর্বপরিকল্পিত। ৫০ বছরের বাংলাদেশে মন্দির ভাঙার ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন সময়ে। কিন্তু দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা আমাদের জন্য খুব অস্বস্তিকর ছিল।’

১৪ দলের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ^স্ত করে বলেন, জড়িতদের শিগগিরই খুঁজে বের করে জনসমক্ষে হাজির করা হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের নেতৃত্বে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে যায় ১৪ দলের একটি প্রতিনিধিদল। এই দলে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতারসহ অনেকে ছিলেন। কুমিল্লায় ধর্মীয় অবমাননার জেরে রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজামণ্ডপ ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনার দায় প্রশাসনের বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সাম্প্রদায়িক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়তা আছে কি না, সরকারকে তা তদন্ত করে দেখতে হবে। হামলা ঠেকানোর দায়িত্বে থাকা প্রশাসন ব্যর্থ হলো কেন? প্রশাসন কি অদক্ষ নাকি গাফিলতি আছে? তা না হলে এই হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। ৩২ হাজার পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা দেওয়া হলো, অথচ ৫০টিতে হামলা হলো। এর দায়দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে।

কেউ যেন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। সব ধর্মের মানুষ তার ধর্ম পালন করবে স্বাধীনভাবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘এত রক্ত ক্ষয়, এত কিছু বাংলাদেশে ঘটে গেছে, আর যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। আমাদের ইসলাম ধর্মও সেই কথাই বলে। নবী করিমও (সা.) বলেছেন, “ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কোরো না।” আমরাও চাই, কেউ যেন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে। সব মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় যুক্ত হন। 

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুনিদের প্রতি খালেদা জিয়ার এই যে পক্ষপাতিত্ব এটার কারণটা কী? কারণটা খুব স্পষ্ট। কারণ খুনি মোশতাকের সঙ্গে জিয়াউর রহমান সম্পূর্ণভাবে এই খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এই রাসেলকে সর্বশেষে হত্যা করা হয়। বলা হয়েছিল, ওই ছোট্ট শিশুটি যেন না বাঁচে। এই নির্দেশটা কে দিয়েছিল? কারা দিয়েছিল? সব শেষে, সবচেয়ে এটাই কষ্টের।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখনো চেষ্টা করেছি, এখনো চেষ্টা করি এই দেশের শিশুরা তাদের লেখাপড়া, তাদের চিকিৎসাব্যবস্থা, তারা যেন নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে। আজকে যেমন আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশ, সেটা তৈরি করার জন্য তাদের প্রস্তুত করা, তাদের ট্রেনিং দেওয়া, সব রকম ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। শিশু অধিকার আইন তো জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে করে দিয়ে গেছেন। প্রাথমিক শিক্ষাটাকে অবৈতনিক করে দিয়ে গেছেন, বাধ্যতামূলক করে দিয়ে গেছেন। কাজেই আমার বাবার আদর্শ নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এই দেশের শিশুরা যেন আর এই নির্মমতার শিকার না হয়।’