বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর হামলার প্রতিবাদে ক্যালগেরিতে সমাবেশ|323230|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ অক্টোবর, ২০২১ ১০:২৯
বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর হামলার প্রতিবাদে ক্যালগেরিতে সমাবেশ
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর হামলার প্রতিবাদে ক্যালগেরিতে সমাবেশ

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সংঘবদ্ধ বর্বরোচিত অত্যাচার, হত্যা, নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, পূজা মণ্ডপ ও প্রতিমা ভাঙচুর এবং স্বাধীনতার পর থেকে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কানাডার ক্যালগেরিতে বিশাল সমাবেশ এবং শহরজুড়ে একযোগে গাড়ি সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে।

গত সপ্তাহের প্রতিবাদ মানববন্ধনের পর এবার এই কার র‍্যালি ও প্রতিবাদ সমাবেশে ভয়াবহ ঠান্ডা, প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের মানুষও অংশ নেয়।

আলবার্টার কোভিড রেস্ট্রিকশনের মধ্যেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আচরণবিধি মেনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ প্রতিবাদ এবং সারা বিশ্বকে সঙ্গে নিয়ে এই নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য অঙ্গীকার করা করে।

এই সভার দাবির প্রতি কতিপয় প্রাদেশিক এম,এল,এ, কানাডার সংসদ সদস্য এবং রাজনীতিবিদরা সমর্থন জানিয়েছেন। 

বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিষ্টান এবং বৌদ্ধসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং আদিবাসীরা কয়েক দশক ধরে লক্ষ্যবস্তু সহিংসতা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের শিকার হয়ে আসছে।

বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য সমস্ত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সমস্ত বর্বর ও নৃশংস হামলার নিন্দা জানানো হয়।

নিয়মিত জাতিগত নিধন, ভাঙচুর, মন্দির ধ্বংস এবং সংখ্যালঘুদের উপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ জন্য কানাডার প্রভিন্সিয়াল ও ফেডারেল সরকারসহ বিশ্বের সকল মানুষের কাছে এই জাতিগত নিধন ও সাম্প্রদায়িক অত্যাচার প্রতিরোধে যথাসাধ্য করার অনুরোধ করা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের কাছে তারা সবার যথাযথ নিরাপত্তা ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য দেশের ও বিভিন্ন সংগঠনের মানুষ সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ক্যালগেরির কাউন্সিলর রাজ ঢালিওয়াল, বিশ্ব হিন্দু ফাউন্ডেশনের পরিচালক গোপাল সাইনি, হিন্দু সোসাইটির প্রেসিডেন্ট নবদীপ মাহেন্দ্রু, ইসকন ক্যালগেরির প্রেসিডেন্ট আত্মারাম দাস। সবাই হিন্দুদের উপর এবং সংখ্যালঘুদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক কর্মী, প্রগতিশীল বিশিষ্ট ব্যক্তি, যাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশে কানাডা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রশিদ রিপন, মোহাম্মদ কাদের, মাহমুদ হাসান দীপু, জুবায়ের সিদ্দিকী, বায়েজিদ গালিব, জেবুন্নেসা চপলা।

প্রচণ্ড প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সবাই স্লোগান ও গানে সকল সংখ্যালঘু নির্যাতনের অবসান চান, বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক এবং সবার জন্য সমান একটি দেশে রূপান্তরের জন্য বিশ্ববাসীর সহায়তা কামনা করেন।

আয়োজকেরা এই স্বাধীনতার পর থেকে আস্তে আস্তে জাতিগত নিধন এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়দের বিলুপ্তি আর চলতে না দেয়ার জন্য প্রতিরোধের শপথ নিতে বাংলাদেশিদের আহ্বান করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশের পর গাড়িতে কালো কাপড় বেঁধে এবং প্রতিবাদী ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করা হয় এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি হলে গিয়ে শেষ হয়। এই অনুষ্ঠানে সত্তরোর্ধ্ব গাড়ি অংশ নেয়।