দাতা সংস্থাগুলোর ঔপনিবেশিক মানসিকতার সমালোচনা বিডিসিএসওর সম্মেলনে|323484|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ অক্টোবর, ২০২১ ১৮:৫৩
দাতা সংস্থাগুলোর ঔপনিবেশিক মানসিকতার সমালোচনা বিডিসিএসওর সম্মেলনে
অনলাইন ডেস্ক

দাতা সংস্থাগুলোর ঔপনিবেশিক মানসিকতার সমালোচনা বিডিসিএসওর সম্মেলনে

বাংলাদেশি স্থানীয় এনজিওগুলো এখন যথেষ্ট পরিপক্ব হয়েছে দাবি করে বিডিসিএসও প্রসেসের বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বক্তারা দাতা সংস্থাগুলোর ঔপনিবেশিক মানসিকতার সমালোচনা করেছেন।

বাংলাদেশ এনজিও-সিএসও কো-অর্ডিনেশন প্রসেসের (বিডিসিএসও প্রসেস) বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সোমবার এক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা এসব বলেন। ‘একটি কার্যকর নাগরিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নীতিমালাভিত্তিক অংশীদার নির্বাচনের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া’ শীর্ষক সেমিনারে স্থানীয় এনজিও ও সিএসওর জন্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য দাবি জানানো হয়। 

স্থানীয় ও জাতীয় প্রায় ৬০০ এনজিও-সিএসওর নেটওয়ার্ক, বিডিসিএসও আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নারী পক্ষের শিরিন হক, এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেনেভাভিত্তিক গ্লোবাল মেনটরশিপ ইনিশিয়েটিভ এর প্রতিষ্ঠাতা স্ম্রুতি প্যাটেল। কোস্ট ফাউন্ডেশনের মো. মজিবুল হক মনির এবং ফেরদৌস আরা রুমীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন এডাবের একেএম জসিম উদ্দিন, ইপসার আরিফুর রহমান, সিসিএনএফ ও পালসের আবু মুর্শেদ চৌধুরী, আইসিডিএর আনোয়র জাহিদ, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার খোন্দকার ফারুক আহমেদ, জিবিএসএসর মাসুদা ফারুখ, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার রফিকুল ইসলাম এবং বিএনএনআরসির এএইচএম বজলুর রহমান।

শিরীন হক বলেন, নেপাল কখনই কোনো বিদেশি শক্তির উপনিবেশ ছিল না, মূলত সেই চেতনা দ্বারা শক্তিশালী হয়ে তারা নিয়ম তৈরি করেছে যে, কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা, তা জাতিসংঘ বা আইএনজিও যাই হোক না কেন, স্থানীয় সরকার বা স্থানীয় এনজিওর অংশীদারিত্ব ছাড়া সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কোনও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি স্থানীয় এনজিওগুলো এখন যথেষ্ট পরিপক্ব হয়েছে, আর এ কারণেই সরকারসহ সকল পক্ষের উচিত বিদেশি সহায়তা নির্ভর মানবিক ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি অংশীদারিত্ব নীতিমালা প্রণয়ন করা।

স্ম্রুতি প্যাটেল বলেন, আন্তর্জাতিক অংশীজনদের স্থানীয় এবং জাতীয় সংস্থাগুলোর সাথে সম্পৃক্ততা এবং সংহতিপূর্ণ অংশীদারিত্ব থাকা উচিত। অংশীদারিত্বকে হতে হবে একে অপরের ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়ার উপর ভিত্তি করেও। দশকের দশকের ধরে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনেক কিছুই করা হয়েছে, এখন তাই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আর সক্ষমতা ঘাটতির দিকে মনযোগ দেওয়া উচিত নয় নয়।

একেএম জসিম উদ্দিন দুটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তার সংস্থাকে সাব-কন্ট্রাক্টর বা বিক্রেতা হিসাবে বিবেচনা করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশি সাহায্যের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য আমাদের সরকারের একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকা উচিত, এই বিষয়গুলোতে তাদের অবশ্যই হস্তক্ষেপ করতে হবে।

এএইচএম বজলুর রহমান বলেন, দাতারা স্থানীয় পর্যায়ে সাহায্য ব্যবহারে একটি বাণিজ্যিকীকরণ এবং একচেটিয়াত্বের সংস্কৃতি তৈরি করছে, যা আমাদের মধ্যে মানবিক, উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র বিকাশে বিকেন্দ্রীকৃত নাগরিক সমাজ সংগঠন  তৈরির জন্য খুব উপযুক্ত নয় এবং প্রতিযোগিতামূলক ও নয়।