ফ্লাইওভারের পিলারে ফাটল, যান চলাচল বন্ধ|323643|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ অক্টোবর, ২০২১ ১৬:১৪
ফ্লাইওভারের পিলারে ফাটল, যান চলাচল বন্ধ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

ফ্লাইওভারের পিলারে ফাটল, যান চলাচল বন্ধ

চট্টগ্রাম নগরীর এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের (বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার) দুইটি র‌্যাম্পের পিলারে ফাটল দেখা দেয়ায় আরাকানের দিকে যাওয়া অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের আরাকানের দিকের র‌্যাম্পের দুটি পিলারে ফাটল দেখে, যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অন্য পাশ দিয়ে যান চলাচল করা যাচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি সিডিএ ও সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার সকালে নগরীর বহদ্দার মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের আরাকানের দিকে যাওয়া র‌্যাম্পের দুইটি পিলারের ওপরের অংশে ফাটল দেখা যায়। এই ফাটল দেখতে শত শত উৎসুক জনতা বহদ্দারহাট মোড়ে জড়ো হয়। এতে বহদ্দারহাট মোড় ও আশপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। তবে বেলা একটা পর্যন্ত এই বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ’র কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি।

পরিদর্শন শেষে চসিক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ফ্লাইওভারে হঠাৎ ফাটল দেখে হতবাক হয়েছি। কেননা, এ ফ্লাইওভারে আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। গার্ডার ধসে পড়ে অনেক লোক মারা গিয়েছিল। তবে ফাটলের কারণ আমি বলতে পারব না। আমিতো প্রকৌশলী না। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে-নিশ্চয় নির্মাণে ত্রুটি আছে। যার ফলে এ ফাটল দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নির্মাণে ত্রুটি থাকার কারণে এ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এখানে প্রকৌশলীদের দৃষ্টিকোণ থেকে কি হয়েছে, না হয়েছে এটা আমার থেকে আমাদের প্রকৌশলীরা ভালো বলতে পারবেন। তারা কারিগরি বিষয় ভালো বলতে পারবেন।

মেয়র বলেন, এই ফ্লাইওভার সিটি করপোরেশন নির্মাণ করেনি। এটা সিডিএ নির্মাণ করেছে। তবে কি কারণে ফাটল হয়েছে, তা তদন্তপূর্বক বের করা যাবে। যে সমস্ত ঠিকাদার ফ্লাইওভার নির্মাণে করেছে তাদের কোনো নির্মাণ ত্রুটি আছে কিনা তা তদন্ত করে সিডিএ ব্যবস্থা নেবে। সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা চাইলে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করব। দুর্ঘটনা এড়াতে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি। যেকোনো সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে আজকে আমরা সিডিএকে চিঠি দেব।

এ সময় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে দুটি কারণে ফাটল দেখা দিতে পারে। একটি নকশাগত ত্রুটি, অন্যটি নির্মাণ ত্রুটি। কি কারণে হয়েছে সেটা দেখে এ মুহূর্তে বলা যাবে না। ওভারলোড গাড়ি চলাচলের কারণে এটা হয়েছে মনে হচ্ছে। এই র‌্যাম্প নির্মাণে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি ফ্লাইওভারের আরাকান দিকে যাওয়া এই র‌্যাম্পটা মূল নকশায় ছিল না। পরবর্তীতে এটা বর্ধিত করা হয়েছে। এ জন্যই ডিজাইন ত্রুটির কারণে এই ফাটল হতে পারে। গাড়ি চলাচল না থাকায় ফাটল বড় হওয়ার আশঙ্কা নেই। নিচে চলাচল করা গাড়ির কম্পনের কারণে ফাটল বড় হওয়ারও সম্ভাবনা নেই বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে নগরীর শুলকবহর থেকে বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এম এ মান্নান ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ফ্লাইওভার নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর নির্মাণকাজ চলাকালীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে পড়ে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়। প্রাণহানির পর নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর। পরে নির্মাণকাজ শেষে ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর ফ্লাইওভারটি  ‘অকার্যকর’ হওয়ায় ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে  আরাকান সড়কমুখী ৩২৬ মিটার দীর্ঘ এবং ৬ দশমিক ৭ মিটার চওড়ার র‌্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। পরবর্তীতে নির্মাণকাজ শেষে ২০১৭ ডিসেম্বরে এই র‌্যাম্পটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়