পরীমণির লুঙ্গি ড্রেস নিয়ে ফেসবুকে তুমুল আলোচনা|323685|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ অক্টোবর, ২০২১ ২২:২৯
পরীমণির লুঙ্গি ড্রেস নিয়ে ফেসবুকে তুমুল আলোচনা
অনলাইন ডেস্ক

পরীমণির লুঙ্গি ড্রেস নিয়ে ফেসবুকে তুমুল আলোচনা

পরীমণি মানেই যেন আলোচনা। মাদক কাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার, রিমান্ডের পর নিজের জন্মদিনের অনুষ্ঠান নিয়েও পরীমণি ফের ‘টক অব দ্য’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

এবার তাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে ‘লুঙ্গি ড্রেস’ নিয়ে। জন্মদিনে তার এ অভূতপূর্ব পোশাক বিভক্ত করে ফেলেছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের।

সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া নানা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হয়ে পরীমণি সোমবার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে হাজির হন একেবারে ফুরফুরে মেজাজে। পরীর মতোই উড়লেন, ওড়ালেন আগত অতিথিদেরও।

সোমবার রাতে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলের মিলনায়তন সাজিয়ে নিয়েছিলেন বিমানের ককপিটের আদলে। গত বছরের জন্মদিনের সামান্য একটা ভুলের কারণে যে সমালোচনা হয়েছিল পরীমণি হয়তো তার দাঁত ভাঙা জবাব দিতেই ককপিটের আদলে সাজালেন জন্মদিন অনুষ্ঠানের মিলনায়তন।

রাত ১০টার দিকে বিমানের ককপিটের আদলে সাজানো মঞ্চ থেকে গানের তালে নাচতে নাচতে পরী নেমে আসেন নিচে। নাচতেই নাচতেই আগত অতিথিদের স্বাগতও জানালেন। কাউকে জড়িয়ে ধরলেন ভালোবেসে, কারও সঙ্গে বা নাচলেন। গানের তালে তালে পরীর এমন ওড়াওড়িতে মুগ্ধ হয়ে তার সঙ্গে উড়লেন অতিথিরাও। অবশ্য পরীমণির এবারের জন্মদিনের স্লোগানই ছিল, ‘ফ্লাই উইথ পরীমণি’- পরীর সঙ্গে ওড়ো।

আর মানুষের উড়তে গেলে বিমান ছাড়া বিকল্প নেই। তাই এই অনুষ্ঠানে ছিল- বোর্ডিং পাস, আসন, আপ্যায়নসহ সবকিছু। পরী নিজেও সেজেছিলেন বিমানবালার সাজে। কোরিওগ্রাফার অ্যাডল্ফ খানের ডিজাইনে লাল-সাদার মিশ্রণে তৈরি কস্টিউমকে বিশেষ কায়দায় লুঙ্গি বানিয়ে নিজের ফ্যাশনে আরও ভিন্নতা আনেন পরী। আর পুরোটা সময় ধরে লুঙ্গি ড্যান্সে মেতেছিলেন এই নায়িকা।

এরপর মঙ্গলবার দিনভর ফেসবুকে আলোচনায় ছিল পরীমণির ‘লুঙ্গি ড্রেস’।

তার জন্মদিনের অনুষ্ঠান নিয়ে তৈরি করা ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন সাংবাদিক মঞ্জু আহমেদ। সেখানে দুই হাজারের বেশি মন্তব্য জমা পড়ে। যার প্রায় সবই ছিল পরীমণির পোশাক নিয়ে।

ওই ভিডিওতে নোভা জামান নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘যে যে পোশাকই বেছে নেন না কেন, সবার আগে উচিত ভালো মানুষ হওয়া। এতগুলো লোকের মধ্যে এ ধরনের বেহায়াপনা পোশাক পরে আর অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে কী বোঝাতে চান আপনি (পরীমণি) অনেক সাহসী? মোটেই না!’

তিনি আরো লেখেন, ‘আপনাদের মতো মেয়েদের জন্য সমাজ তথা দেশ নষ্ট হয়। এখন মনে হচ্ছে কেয়ামত খুব একটা দূরে নয়’।

এ বিষয়ে কবি ও বুদ্ধিজীবী সাদ রহমান লেখেন, ‘নায়িকা পরীমণির আউটফিট বা সজ্জা কারওর যদি ভালো না লাগে, সেই কথা বলা যাবে না ক্যানো?

ভারী অদ্ভুত!

এনিওয়ে, যখন নায়িকা তার আউটফিট পাবলিকলি শো অফ করতেছেন, এবং পসিবলি সেইটা দিয়া হাইপ তুলতেছেন— তখন নায়িকার সেই আউটফিটের ব্যাপারে আমাদের কী মন্তব্য, তা আমরা লিখতে পারব। অফিশিয়াল ভাষায় এইটাকে ফিডব্যাক বলে, এতে কোন সমস্যা নাই।

আর নায়ক-নায়িকাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক মূলত এইরকমই, দ্বিপক্ষীয়, ফিডব্যাক দেওয়া ও চাওয়ামূলক, ঝামেলাহীন।

কিন্তু আপনারা যারা সবখানে শুধু নীতিকথা নিয়া হাজির হইতে থাকেন, তারা কিঞ্চিৎ হাস্যকর আছেন। ব্যক্তিগতভাবে, আমারও পরীমণির এই সজ্জা খুব একটা ভালো লাগে নাই। একটু 'ক্ষ্যাত' লাগছে’।

ফারজানা প্রিয়দর্শিনী আফরিন লিখেছেন, ‘যাদের ভালো লাগেনি তারা ঠিক আছেন, যাদের ভালো লেগেছে তারাও ঠিক আছেন, যাদের কিছুই লাগেনি তারা সবচেয়ে বেশি ঠিক আছেন।

আমি যা বুঝেছি পরীমণির এবারের জন্মদিনের পার্টির থিম ছিল এয়ারক্রাফট বা এয়ারপ্লেন।

এটা আমাদের জন্য নতুন হলেও উন্নত দেশগুলোতে কমন। আরো নানান অদ্ভুত থিমে বার্থ ডে সেলিব্রেশন হয়।

পরিমণির জন্মদিনের নিমন্ত্রণ পত্র ছিল প্লেনের বোর্ডিং পাসের আদলে। স্টেজ ছিল ককপিটের আদলে আর ভেন্যু ছিল প্লেনের প্যাসেঞ্জার প্যাসেজের আদলে।

এবার আসি বহুল আলোচিত পোশাকে। অনেকের রুচি অনুযায়ী  'অরুচিকর কিম্ভূত' যে ড্রেস পরীমণি পরেছিলেন সেটি ছিল এমিরেটস এয়ারলাইনস এর বিমানবালার পোশাকের একটি ফিউশন। এভিয়েশন দুনিয়ায় 'Most elegant cabin crew uniform' হিসেবে পরিচিত এমিরেটস এর বিমানবালাদের এই ড্রেস।

বলতে পারেন, পরতো যখন হুবহু তাদের সেই ড্রেসটাই পরতো! ডায়াপার স্টাইলে কাছা মারা সাদা লুঙ্গি পরার মতো অরুচিকর ড্রেসই কেন তাকে পরতে হবে।

আমার মনে হয় কি তারকা, সেলিব্রেটিদের পোশাক-আশাক আমজনতা থেকে আলাদাই হয়। আমাদের অভ্যস্ত রুচির বাইরেও তা হতে পারে।

হলিউড-বলিউডে অহরহই হয়’।

প্রজ্ঞা লাবণী লিখেছেন, ‘পরীমণির জন্মদিনের ড্রেসটা দেখে প্রথমে ভাবছি এই বড় সাইজের ডায়াপার কই পাওয়া যায়’?

তায়ইবা প্রপা লেখেন, ‘পরীমণির বার্থডে ড্রেসটা দেখে মনে হলো আমাদের ডাব পাড়ার জন্য যে লোকটাকে আনা হয় উনি গাছে ওঠার আগে ঠিক এভাবেই লুঙ্গি পরে’।

কবি ও বুদ্ধিজীবী শেখ সাদ্দাম হোসেন লেখেন, ‘পরিমণীর রুচি নিয়া প্রশ্ন উঠছে তো, এইগুলি মোস্টলি মিক্লাদের (মধ্যবিত্ত) ক্যাম্পেইন।

অগো ফাক মি মোর ভাল্লাগে, মাগার কাছার দেয়ারে মনে হয় ব্যক্তিত্বহীনতা।

এখানকার মিক্লারা শান্তিনিকেতন আর ওয়েস্টের বাইরে গেলেই রুচি, ব্যক্তিত্ব লইয়া টান দেয়।

ফলে পরিমণীর কাছার দেওয়ার পক্ষে খাড়াইলাম’।

ঢাকা মহানগর উত্তরের ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা এ বিষয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। যেখানে লেখা, ‘#পরীমণি তার জন্মদিন কী থিমে করছে, কী করছে আমার তাতে কিছুই না। তার সিনেমা, নাটক কোনোটাই আমার দেখা হয়নি। কিন্তু তার নাম তো Talk of the country. তো অবধারিতভাবে অসংখ্য ভিডিওতে তার আপডেট আসতেই থাকে।

তার জন্মদিন এর ভিডিও ফিড এতই আসছে যে চোখে পড়তে বাধ্য।

পরীমণির মধ্যে একটা প্রচণ্ড #ড্যাম কেয়ার ব্যাপার আছে। আমি হতভম্ব হয়ে ভাবি, এই #শক্তিটা ওর কোথা থেকে আসছে? সে এই পোশাক, নাচ, আয়োজন দিয়ে অদৃশ্য একটা চড় মারছে সবাইকে...এই বলে যে ‘দ্যাখ, আমি পারি। কী করবি তোরা কর গা!’ এক আঙুল উঁচিয়ে সে পোজ ও দিয়েছে সে, যেটার আক্ষরিক মানে হলো ‘***ক ইউ’।

মেয়েটা কে নিয়ে যা যা কিছু হলো...জেলে যাওয়া, বের হওয়া, এরপর ওর মেহেদী দিয়ে হাতে লেখা... সব... তারপর ও একটা এম্প্যাথি ছিল। আমি ভেবেছি, ও আর এমন কী করেছে... আরো অনেক অসংখ্য বদমাইশ আছে দেশে। ওদের কথা মিডিয়ায় আসে না কেন!

এখন আমি যথেষ্ট বিরক্ত। এত অভদ্র বেয়াদব একটা মেয়ে! আর মিডিয়ার কথা কিছু আর বলার নেই!

তিনি লেখেন, ‘এই পোস্টটা দেবার আগে আমি অনেকবার ভেবেছি। শুধু ভাইরাল টপিক নিয়ে কনটেন্ট না বানানোর সচেতন সিদ্ধান্ত আমার। সেলিব্রিটিদের কিছু একটা হলেই সেটা নিয়ে ভিডিও বানানোর একটা হিড়িক পড়ে যায়। আমার কাছে সেটা খুব সুবিধাবাদী আচরণ লাগে। তাই যেকোনো হট টপিক নিয়ে, সেলিব্রিটি নিয়ে টুপ করে ভিডিও/ ব্লগ করার পক্ষে আমি নই। এ পোস্টটা আমি করছি, কারণ আমি খুব প্রকাশ্যেই বলতে চাই, পরীমণির ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের আমি নিন্দা জানাই’।