চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু, আটক ১ |323809|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০২১ ১৩:০৭
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু, আটক ১
চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু, আটক ১

পরীক্ষা শুরুর পর পরই হল পরিদর্শনে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টা থেকে ‘বি’ ইউনিটের প্রথম শিফটের মধ্য দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তিন শিফটের অনুষ্ঠিত বি ইউনিটের পরীক্ষায় প্রথম দিন দুই শিফটে মোট ১৪ হাজার ২২৩ জন করে ভর্তিচ্ছু অংশ নেবেন।

এদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হলেও শাটল ট্রেনে আসার সময় গাদাগাদি করে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আসতে দেখা গেছে। পরীক্ষার শুরুর আগে সন্দেহজনক আচরণের জন্য এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীকে আটক করে চবি প্রশাসন। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পরীক্ষা শুরুর পর পরই হল পরিদর্শনে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন,  গতকাল রাতে আমরা সবগুলো হল পরিদর্শন করেছি। আমরা ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে চবি উপাচার্য বলেন, গত ৫০ বছরেও চবিতে প্রশ্ন ফাঁসে কোন ঘটনা ঘটেনি। প্রশ্ন ফাঁসের কোন সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সুবিধার্থে পর্যাপ্ত পরিমাণ শাটল ট্রেন ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য কয়েক শিফটে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষা ফলাফল দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

জানা যায়, প্রথম শিফটের ভর্তিচ্ছুরা পৌনে ১০টায় কেন্দ্রে প্রবেশ করে। ওএমআর ফরম বিতরণ করা হয় সোয়া ১০টায়। প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয় বেলা ১১টায়। পরীক্ষা শেষ হয় দুপুর ১২টায়। এ ছাড়া আজকের দ্বিতীয় শিফটের ভর্তিচ্ছুরা সোয়া ২টায় কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন। ওএমআর ফরম বিতরণ করা হবে পৌনে ৩টায়। প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়। পরীক্ষা শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়।

অন্যদিকে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও জালিয়াতি রোধে ক্যাম্পাসজুড়ে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন  করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও অবস্থান করছে কয়েকটি সংস্থার সদস্যরা।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার। এ বছর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে খুব সুন্দরভাবেই ভর্তিচ্ছু ও তাদের অভিভাবকেরা সহজেই ক্যাম্পাসে আসতে পেরেছে।

প্রসঙ্গত, এ বছর চার ইউনিট ও দুই উপ-ইউনিটে চার হাজার ৯২৬ আসনের জন্য আবেদন করেছে এক লাখ ৮৩ হাজার ৮৬৩ শিক্ষার্থী। সে হিসেবে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বে ৩৭ জন। ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ নিরাপত্তাবাহিনীর প্রায় পাঁচ শতাধিক সদস্য। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

আগামীকালও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ অক্টোবর ‘সি’ ইউনিট, ৩০ ও ৩১ অক্টোবর ‘ডি’ ইউনিট এবং ১ ও ২ নভেম্বর ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ৫ নভেম্বর উপ-ইউনিট ‘বি-১’ ও ‘ডি-১’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।