দৌলতদিয়া ঘাট থেকেই ফেরিটিতে পানি ঢুকছিল, পাত্তা দেননি চালক ( ভিডিও )|323820|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০২১ ১৬:০০
দৌলতদিয়া ঘাট থেকেই ফেরিটিতে পানি ঢুকছিল, পাত্তা দেননি চালক ( ভিডিও )
হাসান ফয়জী, পাটুরিয়া থেকে

দৌলতদিয়া ঘাট থেকেই ফেরিটিতে পানি ঢুকছিল, পাত্তা দেননি চালক ( ভিডিও )

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া ফেরিতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছাড়ার পরই তলা ফেটে পানি ঢুকছিল। বিষয়টি নজরে আনলেও ফেরির চালক পাত্তা দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি। পাঁচটি ডুবুরি দল উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকার ৫নং পন্টুন এলাকায় বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ১৪টি যানবাহন ও কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে কাত ডুবে যায়।

বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ফেরি থেকে কোনো আহত বা নিহত ব্যক্তি উদ্ধার হয়নি। তবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে মানিকগঞ্জের ৩টি ও ঢাকার ২টি ইউনিটের ডুবুরি দল।

দুর্ঘটনাস্থলে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত রয়েছেন।

উল্টে যাওয়া ফেরির যাত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ফেরিঘাটের ৫নং পন্টুনে এসে যাত্রী ও যানবাহন নামানো শুরু হয়। এরই মধ্যে হুট করে পানি উঠতে শুরু করে ফেরিতে। দেড় থেকে দুই মিনিটের মধ্যে ডান দিকে কাত হয়ে ডুবে যায় ফেরিটি। তখন আমিও পানিতে পড়ে যাই। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হই।

তিনি আরও বলেন, ফেরিতে কোনো বাস বা প্রাইভেটকার না থাকলেও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল এবং ১৫/১৬টি পণ্যবাহী ট্রাক ছিল।

ফেরির ভারপ্রাপ্ত সারেং মুখলেছুর রহমান বলেন, ঘাটে এসে যানবাহন নামানোর একপর্যায়ে কাত হয়ে ফেরিটি ডুবে যায়।

ট্রাক চালক ও মালিক ইয়াকুব বলেন, দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে ছেড়ে আসার সময় তলা ফেটে পানি উঠতে থাকে। বিষয়টি ফেরির চালককে বললেও তিনি কথা না শুনে পাটুরিয়ায় চলে আসেন। পরে ৫নং ঘাটে এটি উল্টে ডুবে যায়।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ট্রাক চালক বলেন, ১৭টি পণ্যবোঝাই ট্রাক ছিল। লোড বেশি ছিল। আর তলা ফেটে পানি ওঠায় তীরে এসে উল্টে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক হীন মনি শর্মা বলেন, ঢাকা ও মানিকগঞ্জের ৫টি ইউনিট উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্ধার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাজ করে যাবো।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে দুর্ঘটনাস্থলে কয়েকশ’ পুলিশ নিরাপত্তার কাজে দায়িত্বরত রয়েছেন। ডুবে যাওয়া ফেরি থেকে উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে গেছে। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত একটি ট্রাক উদ্ধার করেছে। উদ্ধার কাজ চলমান আছে।

তিনি আরও বলেন, উল্টে যাওয়া ফেরিটিতে ১৭টি ট্রাক ছিল। এর মধ্যে তিনটি ট্রাক পাড়ে নামতে পেরেছে। বাকিগুলো ফেরির মধ্যে আছে এখনো। সবশেষ বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো স্বজন কাউকে খোঁজ করতে আসেনি কিংবা কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি। এ বিষয়ে চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।