যুবদলের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ|323849|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৭ অক্টোবর, ২০২১ ১৯:৪৮
যুবদলের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

যুবদলের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষ

সিরাজগঞ্জ শহরের ইবি রোডের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনাসভা চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হন বলে জানা গেছে।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ হয়।

পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা, এসআই সাইফুল ইসলাম ও কন্সটেবল বদরুদ্দোজা আহত হন। তাদের সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপরদিকে যুবদল জানায়, সংঘর্ষে তাদের পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ মতিকে উন্নত চিকিৎসর জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও ৩০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে।

এলাকাবাসী জানায়,পুলিশ ও যুবদলের কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে পাশ্ববর্তী এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মীরা যুবদল কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সিরাজগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি মির্জা আব্দুল জব্বার বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রাজেশ বলেন, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য জেলা বিএনপি অফিসের সামনে কর্মীরা সমবেত হন। এ সময় পুলিশ এসে অফিসের সামনে নির্মিত গেট খুলে দিতে বলে। এ সময় বাগবিতণ্ডার একপর্যায় পুলিশ আমাদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। ফলে আমরাও বাধ্য হয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করি। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে পুলিশ শর্টগান দিয়ে আমাদের দিকে গুলি করে। আমরা বাধ্য হয়ে পালিয়ে যাই। এ সময় আমাদের টিটু, সুমনা, রুবেল, স্বপনসহ প্রায় ১৫ কর্মী আহত হন। এর মধ্যে পাঁচজন  গুলিবিদ্ধ হন। গুলিতে গুরুতর আহত মতিকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। গুলিতে আহত অপরজনের মধ্যে সহদপ্তর সম্পাদক মুসা, পিয়াসসহ চারজনকে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, সভা চলাকালে আমরা নিরাপদ দূরে অবস্থান করি। তবে শহরের প্রধান সড়ক বন্ধ করে রাখায় তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে বলি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যুবদল কর্মীরা আমাদের ওপর হমলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলামসহ তিনজন আহত হন। একপর্যায়ে আমরা লাঠিচার্জ ও শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় ইটের আঘাতে গুরুতর আহত এসআই সাইফুল ইসলাম ও কনসটেবল বদরুদ্দোজাসহ তিনজনকে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।