পুলিশের মামলায় ৮০% অগ্রগতির দাবি সিআইডির|323972|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০
কুমিল্লায় সহিংসতা
পুলিশের মামলায় ৮০% অগ্রগতির দাবি সিআইডির
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

পুলিশের মামলায় ৮০% অগ্রগতির দাবি সিআইডির

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় হওয়া মামলার ৮০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বুধবার সিআইডি কুমিল্লার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে এ মামলার সব ডকুমেন্ট আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলায় ৮০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে ইকবালের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের তথ্য আমাদের হাতে রয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, গত ২৪ অক্টোবর রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের স্বার্থে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। খান মোহাম্মদ রেজওয়ানের নেতৃত্বে রিমান্ডে থাকা ইকবাল ও অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাকে সহযোগিতা করছে সিআইডির একটি স্পেশাল টিম। জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন।

সূত্র জানায়, ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ ও সব বিষয়ে খুবই সতর্কতার সঙ্গে এগুচ্ছে তদন্ত দল। কুমিল্লার ঘটনায় কারা মূল পরিকল্পনাকারী, ইকবালকে পেছন থেকে কারা ইন্ধন জুগিয়েছেন, কক্সবাজার যেতে কারা পরামর্শ দিয়েছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরালে কাদের হাত রয়েছে এসব বিষয় ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় ইকবালসহ বর্তমানে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড চলছে। ইকবাল হোসেন ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা রেজাউল ইসলাম ইকরাম, দারোগা বাড়ি মাজার মসজিদের সহকারী খাদেম ফয়সাল ও হুমায়ুন কবির সানাউল্লাহ।

পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান বলেন, রিমান্ডে প্রতিদিনই আমরা নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছি। সব তথ্য সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য বলা যাচ্ছে না। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হচ্ছে মণ্ডপ থেকে পুলিশের উদ্ধার করা পবিত্র কোরআন। ওই কোরআন শরিফে অনেকেরই ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকায় আমরা (সিআইডি) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এতে সুনির্দিষ্ট কারও ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাইনি। তবে হনুমানের গদায় ইকবালের ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেছে। রিমান্ড শেষে লিখিতভাবে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান সিআইডির এ কর্মকর্তা।

গত শনিবার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিথিলা জাহান নিপার আদালতে ইকবালসহ চারজনকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। তার আগে গত ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকার সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ইকবালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগরের নানুয়ার দীঘিরপাড় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই হারুন অর রশীদ বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও কোরআন অবমাননার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

এছাড়া পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনায় কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় এ পর্যন্ত ১১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাতটি, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দুটি এবং দাউদকান্দি ও দেবীদ্বার থানায় একটি করে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।