ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে যবিপ্রবি কর্মকর্তা বহিষ্কার |324001|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২১ ১৩:৩৮
ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে যবিপ্রবি কর্মকর্তা বহিষ্কার
যবিপ্রবি প্রতিনিধি

ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে যবিপ্রবি কর্মকর্তা বহিষ্কার

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) রেজিস্ট্রার ভবনে কর্মরত সেকশন অফিসার বিপ্লব হোসেনকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাধারণ আচরণ, শৃঙ্খলা ও আপিল সংক্রান্ত বিধি মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্ত্রী সুমাইয়া ইয়াসমিনের দেওয়া অভিযোগ ও কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বুধবার বিপ্লবকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন মো. মেহেদী হাসান, সদস্যসচিব উপ-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ এমদাদুল হক ও সদস্য হিসেবে সহকারী প্রক্টর ড. হাসান মো. আল-ইমরান।

গত ১৭ অক্টোবর যৌতুকের দাবিতে মারপিট করে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে সুমাইয়া বাদী হয়ে স্বামীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এ মামলার অন্যতম আসামি যবিপ্রবির অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান।

মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, আসামি বিপ্লব হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ও তার সরলতার সুযোগে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন করতে থাকেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করতে বললে নানা বাহানা শুরু করেন। এরপর বাদী আদালতে মামলা করে।

ওই মামলার সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ হলে বিপ্লব চাকরি রক্ষার জন্য ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বরে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীর পরিবার মালামাল ক্রয় ও বাড়ি করার জন্য দেড় লাখ টাকা দেয় বিপ্লবকে। তারপরও নানা অজুহাতে বিপ্লব শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। এর মধ্যে বাদী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি বিপ্লব মেনে নিতে না পেরে কৌশলে ওষুধ খাইয়ে গর্ভের দুই মাস তিন দিনের সন্তান নষ্ট করে ফেলে।

পরবর্তীতে আসামি বাদীর কাছে বাড়ির কাজের জন্য দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা না পেয়ে বিপ্লবসহ তার পরিবার নির্যাতন শুরু করে। সুমাইয়া আবার অন্তঃসত্ত্বা হলে আসামিরা সন্তান নষ্টের জন্য ফের ষড়যন্ত্র শুরু করে। গত ৯ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপ্লব বাদীর তলপেটে লাথি, কিলঘুষি মেরে, গলা টিপে ধরে ওষুধ খাইয়ে দেয়। পরে যবিপ্রবির অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান পুলিশ সেজে বিপ্লবের বাড়িতে যায়। সব আসামি মিলে বাদীকে বেধড়ক মারপিট করে।

একপর্যায়ে সুমাইয়া বিষয়টি তার পরিবারকে জানান। পরিবারের পক্ষ থেকে ৯৯৯ কল করলে বিপ্লবের বাড়িতে পুলিশ যায়। পরে বাদীর মা ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সুমাইয়াকে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে রবিবার তিনি মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন বিপ্লবের বাবা আবু মুছা, মা নুর নাহার বেগম, বোন নওশিন শারমিলি বিভা ও শহরের পুলিশলাইন পাওয়ার হাউসপাড়ার ফারুক হাসান হাওলাদার।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।