তিনশো বছরের ঐতিহ্য কান্তজীউ মন্দিরে রাস উৎসব শুরু|328191|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০২১ ২০:০৫
তিনশো বছরের ঐতিহ্য কান্তজীউ মন্দিরে রাস উৎসব শুরু
দিনাজপুর প্রতিনিধি

তিনশো বছরের ঐতিহ্য কান্তজীউ মন্দিরে রাস উৎসব শুরু

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ঐতিহাসিক শ্রীশ্রী কান্তজীউ মন্দিরে রাস উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাস উৎসবের উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র সহসভাপতি মনোরঞ্জন শীল গোপাল। এ সময় ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ডি সি রায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক রাস উৎসবকে ঘিরে দিনাজপুর কান্তজীউ মন্দির এলাকা সকল ধর্মের মানুষের ভিড় জমে উঠেছে। এদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে দেশসহ পৃথিবী থেকে করোনা মহামারি দুর, দেশের মানুষের সুখ-শান্তি এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য প্রার্থনা করবেন। রাত ১২টা ১মিনিটে রাস তিথিতে ঘোরানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভগবান শ্রী কৃষ্ণের যতগুলো লীলা আছে তার মধ্যে সর্বোত্তম রাসলীলা। এই লীলা অনুসারে রাসমেলা হয়ে থাকে। ১৭৫২ সালে মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে এই রাস উৎসব ও রাস মেলা হয়ে আসছে। উপমহাদেশের বিরল স্থাপত্যের মন্দিরকে ঘিরে ঐতিহাসিকতার পাশাপাশি এই মেলার পরিচিতি রয়েছে অসাম্প্রদায়িকতার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দিনাজপুর রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল থেকে প্রায় সাড়ে ৫শ বছর আগে। সেই বংশের রাজা প্রাণনাথ ১৭২২ সালে দিনাজপুর শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার উত্তরে কাহারোল উপজেলার কান্তনগর এলাকায় কান্তজিউ মন্দির নির্মাণকাজ শুরু করেন। ১৭৫২ সালে এই মন্দিরের কাজ শেষ করেন তার পোষ্যপুত্র রামনাথ। সেই সময় থেকেই কান্তজীউ বিগ্রহ ৯ মাস কান্তনগর মন্দিরে এবং ৩ মাস দিনাজপুরের শহরের রাজবাড়ীতে অবস্থান করেন। জন্মাষ্টমীর দুদিন আগে কান্তজীউ বিগ্রহ ধর্মীয় উৎসব-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে নিয়ে আসা হয়। এই তিন মাসে রাজবাড়ীতে প্রতিদিন প্রভাতি নামকীর্ত্তণ ও প্রতি বাংলা মাসের প্রথম শনিবার ভোগের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ভক্ত প্রতিদিন ভোগের ব্যবস্থা করে থাকেন। রাজ পরিবারের রীতি অনুযায়ী কান্তজীউ বিগ্রহ রাজবাড়ীতে ৩ মাস অবস্থানের পর রাস পূর্ণিমার দুই দিন আগে বিগ্রহ পায়ে হেঁটে কান্তনগর মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই প্রথা অনুযায়ী যুগ যুগ ধরে এই নিয়ম চলে আসছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি গোপাল বলেন, যারা ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় বিশ্বাস করে না তারা বাংলাদেশের চেতনাকে বিশ্বাস করতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষ নিশ্চিন্তে ধর্ম পালন করছে। রাস শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে যারা আঘাত করতে চায়, তাদের সকল ধর্মের ধর্মপ্রাণ মানুষ সম্মিলিত ভাবে সমুচিত জবাব দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিনষ্টকারীরা যত বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের ছাড় দেয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, শ্রীশ্রী কান্তজীউ রাসকে কেন্দ্র করে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর যাবৎ এই এলাকায় যে মহামিলন তীর্থ ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়। সেই মিলনে প্রত্যেকটি সম্প্রদায়ের মানুষ মিলিত হন। মানবসেবাই প্রতিটি ধর্মের মূল বাণী। যারা এ শিক্ষাকে উপেক্ষা করে তারা ধর্ম মানেন না। সৃষ্টি স্রষ্টার মহামিলনের তাৎপর্য রাসলীলা। সৃষ্টিকে ভালোবাসলেই স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করা যায় এই শিক্ষাই রাসলীলা মানুষকে পৌঁছে দিতে চেয়েছে। আমাদের এই ঐতিহ্য যারা বিনষ্ট করতে চায় তাদের সম্মিলিতভাবে সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।