মেডিকেল ছাত্রীদের ‘ইভটিজিং’: বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ|328944|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ নভেম্বর, ২০২১ ১৯:০২
মেডিকেল ছাত্রীদের ‘ইভটিজিং’: বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ
বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি

মেডিকেল ছাত্রীদের ‘ইভটিজিং’: বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ও শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চলা কয়েক দফা সংঘর্ষে শিক্ষার্থী, পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন।

মেডিকেল প্রশাসন বলছে, ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজের মাঠে রাত ৮টার দিকে ক্রিকেট খেলছিল। এ সময় মেডিকেলের কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে তাদের খেলতে নিষেধ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কথা না শুনলে ব্যাট কেড়ে নেন মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে ইটপাটকেল ছুড়ে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়ায়।

আরও জানা গেছে, এ সময় মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন ভবনের কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ এসে কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষক মো. নেসারুল হক আহত হন। এ ছাড়া পুলিশ এবং বেশ কয়েকজন জেলা ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক আহত হন।

পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের মধ্যে দুজন শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাকির হোসেন বলেন, মেডিকেল কলেজের ছাত্রীদের ইভটিজিং করাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূচনা হয়। মেডিকেল কলেজের মাঠে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্রিকেট খেলে। এ সময়ে মাঠের পাশ দিয়ে মেডিকেল ছাত্রীরা গেলে তাদের উদ্দেশ্য করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নানান ধরনের মন্তব্য করে। এ কারণে ওই মাঠে ক্রিকেট খেলতে নিষেধ করে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। এই নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল প্রশাসন আলোচনা করেছে বলে জানান বশেমুরবিপ্রবি প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান।