‘শরিয়তের হুকুম হিজাব খুলবে না, ঝর্ণা’|329330|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০২১ ১৭:৪৫
‘শরিয়তের হুকুম হিজাব খুলবে না, ঝর্ণা’
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

‘শরিয়তের হুকুম হিজাব খুলবে না, ঝর্ণা’

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ধর্ষণ মামলায় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকে বিরুদ্ধে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তার রিসোর্ট সঙ্গিনী ও মামলার বাদী জান্নাত আরা ঝর্ণা।

বুধবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হাসানের আদালতে ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনাসহ সাক্ষ্য দেন তিনি। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মামুনুল হক।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রাকিবুজ্জামান রকিব জানান, কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা সোনারগাঁও থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। সেই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। বাদীকে উভয় পক্ষ জেরা করেছেন। আদালতের কাঠগড়ায় প্রথমে মামুনুল হক বারবার বাদীকে উদ্দেশ্য করে দিক নির্দেশনা মূলক কথা বলার চেষ্টা করেছেন। পরে অনুরোধ করার পর সে চুপ থাকেন। সাক্ষ্য গ্রহণের শুরুতে ঝর্ণার হিজাব খুলতে বলে আদালত। ওই সময়ে মামুনুল হক কিছুটা উচ্চ স্বরে বলেন, ‘শরিয়তের হুকুম হিজাব খুলবে না, ঝর্ণা।’ ওই সময়ে ঝর্ণা একবার হিজাব খুলে বিচারককে মুখ দেখিয়ে ফের হিজাব দিয়ে মুখ ডেকে রাখেন।

এ সময় বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষে পিপি রকিবুজ্জামান রাকিবকে সহযোগিতা করেন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহসীন মিয়া, সাবেক সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েলসহ কয়েকজন। অপর দিকে আসামি পক্ষে ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেসবাহ্ সহ কয়েকজন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রকিবুদ্দিন জানান, ঝর্ণার স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সুবাদে মামুনুলের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল তার। পরবর্তীতে তার স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে মামুনুল তাকে ঢাকার বাসায় রেখে নানা জায়গায় নিয়ে যেতেন। তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতেন। মামুনুল হক তাকে কোথায় ও কখন ধর্ষণ করেছেন তা বলেছেন মামলার বাদী। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রয়েল রিসোর্ট ছাড়াও আরও বিভিন্ন স্থানে নিয়ে মামুনুল তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে জানিয়েছেন ঝর্ণা। জবানবন্দি শেষে ঝর্ণাকে আসামি পক্ষের আইনজীবী জেরা করেছেন। এ সময় মামুনুল হকের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তিনি।

এর আগে ধর্ষণ মামলায় কাশিমপুর কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তায় সকাল ৯টার দিকে মামুনুলকে আদালতে আনা হয়। এ সময় মামুনুল হকের অনুসারীরা আদালত চত্বরে অবস্থান নেন। তাকে আদালত তোলার সময় অনুসারীরা পিছু পিছু ছুটতে থাকেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এদিকে মামুনুল হকের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেসবাহ জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে আগমন নিয়ে কথা বলায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মামুনুল হক গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা গিয়ে তাকে ঘেরাও করেন। পরে ওই রিসোর্টে স্থানীয় হেফাজতের নেতা কর্মী ও সমর্থকেরা ব্যাপক ভাঙচুর করে মামুনুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। তবে ঘেরাও থাকাবস্থায় এই হেফাজত নেতা জানান, সঙ্গে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। দুই বছর আগে তাকে শরিয়া মোতাবেক বিয়ে করেছেন। বিষয়টি তার প্রথম স্ত্রী জানতেন না।